ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আড়িয়ল বিলের ধান কাটা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১৯, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

আড়িয়ল বিলের ধান কাটা শুরু

শ্রীনগরে আড়িয়ল বিলের বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা

বিস্তীর্ণ আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন জমিতে শুরু হয়েছে আগাম ধান কাটা। পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন বিলপাড়ের অসংখ্য কৃষক-কিষানি। এবার ইউরিয়া সারের কারণে জমিতে ধানের আশানুরূপ ফলন না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চাষীরা। 
অপরদিকে এবারও ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত জমিতে ফসলের ফলন কম হয়েছে। প্রতি কানি জমিতে (১৪০ শতাংশ) গড়ে ৮০ মণ করে ধান পাওয়ার কথা বলছেন। এই অঞ্চলে সিংহভাগ জমিতে ২৮ ও ২৯ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান করা হয়। এর মধ্যে বিখ্যাত আড়িয়ল বিলের শ্রীনগর অংশেই ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম ধান চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার শ্যামসিদ্ধি, গাদিঘাট, আরধীপাড়া, ষোলঘর, আলমপুর, লস্করপুর, বাড়ৈখালী, শ্রীধরপুর, মদনখালীসহ আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে পাকা ধান কাটা হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ ও তাপদাহ উপেক্ষা করে হাজার হাজার শ্রমিক মাঠে ধান কাটার কাজ করছেন।

হবিগঞ্জে বোরের ভালো ফলন
নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ থেকে জানান, জেলার হাওড়ে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে পুরোদমে চলছে ধান কাটা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, ধানের ভা-ার খ্যাত হবিগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলায় সোমবার পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৩৩ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী জেলায় এবার ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।

এখানে চাষ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৭ হেক্টর। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৬৫ টন। এ বছর ধানের দাম প্রতি কেজি ৩০ টাকার বেশি হতে পারে। সে হিসাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ধান গোলায় ওঠার সম্ভাবনা আছে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হিলালপুর গ্রামের কৃষক ওয়ারিশ মিয়া জানান, জমিতে ধান কাটা শুরু করেছেন। মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে। সামনের দিনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরোতে লোকসান গুনতে হবে না। তবে ধান বিক্রির সময় যেন ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয় সেদিকে নজর রাখার জন্য ওয়ারিশ মিয়া প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়ন ও লাখাই ইউনিয়নের হাওড়ে দল বেঁধে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। এ ছাড়া কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারসহ বিভিন্ন ধান কাটার যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ বনি আমিন খান বলেন, এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। ধারণা করা হচ্ছে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে। কৃষি বিভাগ সবসময় জেলার কৃষকদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

মীরসরাইয়ে বিনা-২৫ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে কৃষক
নিজস্ব সংবাদদাতা, মীরসরাই, চট্টগ্রাম থেকে জানান, মীরসরাইয়ে বিনা ধান-২৫ এর পরীক্ষামূলক চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। স্বল্প সময়ে ধানের বাম্পার ফলনে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা জুগিয়েছে। নতুন উদ্ভাবিত প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বোরো জাতের বিনা ধান-২৫। বাসমতি চালের বিকল্প হিসেবে এ ধান চাষাবাদে চিকন চাল আমদানি কমাতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি অফিস।

মীরসরাইয়ের হিঙ্গুলী ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে বিনা-২৫ জাতের প্রদর্শনীতে সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের শীষে সোনালি আভা। সব ধানগাছ সোজা সারি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ধান গাছের প্রতি শীষে ধরে আছে চিকন ধান। এক সপ্তাহ পরে ধান কাটার উপযোগী হবে। দুই একর জমিতে জামালপুর গ্রামের বাবুল কান্তি মজুমদার, পলাশ দত্ত, রাজু মজুমদার, সুমন চন্দ্র দে ও কমল কান্তি দে পার্টনারশিপ প্রকল্পের আওতায় এই পাঁচ কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে বিনা ধান ২৫ চাষ করেছেন। ধানের ফলন  দেখে কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি দেখা গেছে।
স্থানীয় হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এমরানুল হক বলেন, জামালপুর গ্রামের পাঁচজন কৃষক পরীক্ষামূলক বিনা ধান ২৫ প্রদর্শনী দেখে এখানকার অনেক কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। প্রথমবারে বাম্পার ফলন এবং বাসমতি চালের বিকল্প এই ধানের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় অনেক চাষি এই ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, বিনা ধান ২৫ জাতটি মীরসরাইয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ধান কাটা হবে। উচ্চ ফলনশীল এই ধান প্রিমিয়াম কোয়ালিটির এবং সুগন্ধি। এই ধানটি আমাদের দেশে বাসমতি চালের বিকল্প পণ্য হতে পারে। রোগব্যাধি কম হওয়ায় বীজ সংরক্ষণ করার সুবিধা রয়েছে।

×