ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

চুনারুঘাটে পাহাড় টিলা কেটে বালু লুট, হুমকিতে পরিবেশ

​​​​​​​নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

চুনারুঘাটে পাহাড় টিলা কেটে বালু লুট, হুমকিতে পরিবেশ

এভাবে ড্রেজারে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে

চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত দুর্গম পানছড়ি। পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলন অব্যাহত। এসব দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান হয়। এতে ভালো ফল আসছে না। হবিগঞ্জ জেলা শহরে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস থাকলেও তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বালু উত্তোলনকারীরা ভয়ানক। শুধু তাই নয়, হলুদ সাংবাদিকরাও মাসোহারা পেয়ে থাকেন। এখানে সরেজমিন গিয়ে সংবাদ সংগ্রহে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। দিনের পর দিন অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার ফলে বেহাল হয়েছে ওই এলাকার রাস্তাঘাট। টিলা কেটে বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে পানছড়ি এলাকাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ।

জানা গেছে, বিভিন্ন টিলার পাশে টিলার নিচে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে বালুদস্যুরা। এই মেশিনের পাইপ টিলার নিচে প্রবেশ করিয়ে রাখা হয়। আর এর মাধ্যমে তোলা হচ্ছে বালু। পরে একের পর এক ট্রাক্টর বোঝাই করে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ গাড়ি বালু বিক্রি করে প্রায় থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বালু বিক্রেতারা। অবাধে বালু উত্তোলন করায় পানছড়ি পাহাড়ে কাঁপছে টিলা। একইভাবে লালচান্দ বাগান এলাকার ছড়া টিলা থেকে ড্রেজারে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। আর এতে করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বালুখেকো ওই চক্রটি। বালুদস্যুরা খুবই প্রভাবশালী। তাদের প্রভাবের কাছে এখানকার সবাই দুর্বল।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বালুখেকো চক্রের সদস্যরা এখানকার পাহাড়ি এলাকায় ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে রেখেছে। এগুলো দিয়ে প্রতিদিন টিলা টিলার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু তোলায় অনেক স্থানে টিলা এখন পুকুর হয়ে গেছে। আরও বহু টিলা রয়েছে হুমকিতে।

জেলার চুনারুঘাট বাহুবলে বালু তোলা নিয়ে পরিবেশ প্রেমিক সুজন মিয়া বানরের কলা খাওয়ার গল্প শোনালেন। তিনি বলেন, বানর একসঙ্গে পুরো কলার ছড়ি খেতে পারে না। তাই সে কৌশল নেয়। ধীরে ধীরে ছড়ি থেকে একটি করে কলা ভক্ষণ করে। এক সময় পুরো ছড়ির কলা শেষ হয়। গল্পটি ভালোভাবে জানেন বালু চোররা। নিয়ে তারা প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন। তারপরই বালু চুরিতে নামেন। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা বানরের ন্যায় ধীরে ধীরে পাহাড়ি টিলা, ছড়া নদী থেকে নানা কৌশলে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করছেন। জেলা প্রশাসক মোছা. জিলুফা সুলতানা জানান, অবৈধ বালু তোলা বন্ধে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করছে। ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। হবেও না।

×