ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

আত্মহত্যা নাকি হত্যা? প্রেমিকের বোনের বাড়িতে প্রেমিকার মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:১২, ৪ মার্চ ২০২৪

আত্মহত্যা নাকি হত্যা? প্রেমিকের বোনের বাড়িতে প্রেমিকার মৃত্যু

প্রেমিকের বোনের বাড়িতে প্রেমিকার মৃত্যু

ফাতেমা আক্তার আঁখি (১৮) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফেনী শহরের সালাহউদ্দিন মোড় এলাকা থেকে এ মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মেডিল্যাব হাসপাতাল সংলগ্ন অ্যাডভোকেট অলি উল্ল্যাহ ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আঁখি শহরের নাজির রোড এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও জুলেখা দম্পতির মেয়ে।

 পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, পোল্যান্ড প্রবাসী সালাউদ্দিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই তরুণীর। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর সালাউদ্দিন পোল্যান্ডে চলে যান। সম্প্রতি সালাউদ্দিনকে বিয়ের জন্য জোর করলে তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। 

সালাউদ্দিনের বোনের শ্বশুর আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১২টার পর হঠাৎ বাসা থেকে কল আসে অপরিচিত এক মেয়ে ঘরের ভেতর একটি রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। দরজা ধাক্কাধাক্কি করার পরও দরজা খুলছে না। পরে বাসায় গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি মেয়েটি ফ্যানের সাথে ঝুলছে। 

আবুল কাশেমের স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ঘরে আমি ও আমার দুই পুত্রবধূ ছিলাম। আমাদের রান্নাঘরে রংয়ের কাজ চলছিল। এমন সময় হঠাৎ এই মেয়ে দৌড়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার বড় বউয়ের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে। 

সালাউদ্দিনের বোন সাফিয়া আক্তার নাদিয়া বলেন, আমার ভাইয়ের সাথে এই মেয়ের সম্পর্ক ছিল সেটা আজকেই জেনেছি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করার পর তার পরিবারের লোকজন এখানে এলে তাদের কাছ থেকেই এমন কথা শুনেছি। এর আগে কখনও তার সাথে আমার দেখা বা কথা হয়নি। দেশে এলে আমরা ভাইকে বিয়ে করাবো এমন তথ্য জেনেই সম্ভবত মেয়েটি এমন কাজ করেছে।  

এদিকে আঁখির পরিবারের সদস্যরা জানান, সালাউদ্দিনের সাথে ২০১৮ সালে আঁখির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সালাউদ্দিনের মায়ের মৃত্যুর পর তার কথা মতো আঁখি তাদের বাড়িতে গিয়েছিল। তবে সালাউদ্দিনের ভাই বাপ্পি ও বোন নাদিয়া সবসময় আঁখির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতো। তারা এ সম্পর্ক কখনও মেনে নিতে পারেনি। আজ কৌশলে ডেকে নিয়ে আঁখিকে তারা হত্যা করেছে। 

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াই অংপ্রু মারমা গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার আগে ওই তরুণীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসেছিল। তখন এ ঘটনা শুনে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ মামলা বা অভিযোগ করেনি৷ 

বারাত

×