ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

শরীয়তপুর জেলা

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটিতে অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি

আবুল বাশার, শরীয়তপুর

প্রকাশিত: ০০:১৫, ২১ নভেম্বর ২০২৩

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটিতে অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি

তিনটি সংসদীয় নির্বাচনী আসনই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি

তিনটি সংসদীয় নির্বাচনী আসনই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো দলের তেমন তৎপরতা নেই এখানে। নেতৃত্বের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বিএনপি। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চলতি বছরের শুরু থেকেই মাঠ গরম করতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নৌকার মনোনয়ন পেতে হাই কমান্ডে দৌড়-ঝাঁপ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ছয়টি উপজেলা, ছয়টি পৌরসভা, সাতটি থানা নিয়ে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকার শরীয়তপুরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের বসবাস।
শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) ॥ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আসনটিতে পাঁচবার আওয়ামী লীগ, একবার বিএনপি, দুইবার জাতীয় পার্টি ও একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের (৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ) নির্বাচন এ আসনে স্থগিত ছিল। এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকের নাম শোনা গেলেও জোরালোভাবে নির্বাচনী গণসংযোগ চালাচ্ছেন অন্তত চারজন। তারা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির টানা দুইবারের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, সাবেক সংসদ সদস্য টানা পাঁচ মেয়াদে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, জাজিরা উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মোবারক আলী সিকদার ও শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল।

তবে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, মনোনয়ন লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান এমপি ইকবাল হোসেন অপু ও সাবেক সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হকের মধ্যে। এ আসনে ব্যক্তি ইমেজ কোনো ব্যাপার নয়। এখানে মূল ব্যাপার হলো মার্কা। যিনি নৌকা মার্কা পাবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন বলে ধারণা সাধারণ ভোটারদের। এ আসনে আওয়ামী লীগে দুটি গ্রুপ হলেও বিএনপিতে বহু গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কোন্দল চরমে।
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) ॥ প্রমত্ত পদ্মা নদী ঘেঁষা জেলার উত্তরে অবস্থিত নড়িয়া উপজেলা ও উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সখিপুর থানা নিয়ে শরীয়তপুর-২ আসন। নির্বাচনী এলাকায় চলছে আগামী নির্বাচনের হাওয়া। স্বাধীনতার পরে ১১টি নির্বাচনে আটবারই আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। বৃহত্তর ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটির মধ্যে অন্যতম এ আসনটি। আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, জাকসুর সাবেক ভিপি বর্তমান সংসদ সদস্য ও  পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের নাম শোনা যাচ্ছে।

নড়িয়া পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান খোকন, সখিপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, এ আসনে নৌকার একক প্রার্থী একেএম এনামুল হক শামীম। তার কোনো বিকল্প প্রার্থী নেই। জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মীরা এনামুল হক শামীমের পক্ষে একাট্টা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বর্তমান এমপি এনামুল হক শামীমের উদ্যোগে এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নড়িয়া-জাজিরার পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প নামে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। নড়িয়ায় প্রমত্ত পদ্মার ভাঙন রোধ করে নির্মাণ করা হয়েছে ‘জয়বাংলা এভিনিউ’। অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরণ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জামাল শরীফ হিরু।
শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ) ॥ জেলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত শরীয়তপুর-৩ আসনটি ভেদরগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। এ আসনটিও আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন বর্তমান এমপি নাহিম রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার। বিএনপি থেকে দুজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম জানা গেছে। তারা হলেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী তারেক জিয়ার একান্ত সচিব খ্যাত মিয়া নুর উদ্দিন অপু এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম।

×