ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

​​​​​​​বরাদ্দ ৪০ কেজি, জেলেরা পায় ৩০ কেজি

ইউপি সদস্যদের পেটে গরিবের চাল

​​​​​​​নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ২১:২৭, ২৬ মার্চ ২০২৩

ইউপি সদস্যদের পেটে গরিবের চাল

.

মানবিক কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধনকৃত দরিদ্র জেলেদের জন্য ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও জেলেদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দের বাকি চাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সদস্যদের বিরুদ্ধে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিরত থাকা দরিদ্র জেলেদের জন্য মানবিক কর্মসূচির আওতায় নাজিরপুর ইউনিয়নের ৬৮৩ নিবন্ধন জেলেকে ৪০ কেজি হারে ২৭.৩২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই চাল বিতরণকালে দেখা যায়, নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ধানদী কামিল মাদ্রাসা মাঠে চাল বিতরণ করছেন ইউপি সদস্যরা। জেলেদের নামপ্রতি ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও বিতরণ করা হচ্ছে ৩০ কেজি করে বা আরও কম চাল। পাশেই বসে আছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ইউপি সচিব।

চাল নিয়ে ফেরার পথে নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রেজাউল করিম (৪৩) বলেন, ‘আগে ৪০ কেজি করে চাল পেতাম। এবার দিছে ৩০ কেজি। তবে বস্তা দেখে মনে হয় ৩০ কেজিরও কম। পরিষদের পাশে এক দোকানে মাপ দিয়ে দেখা যায় চাল আছে ২৩ কেজি নয়শ গ্রাম।

৬নং ওয়ার্ডের জেলে আবদুর রহমান, মো. শাজাহান সরদার ফারুক মৃধা চাল নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আগে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো, এবার ৩০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নিবন্ধনকৃত জেলে মো. জাকির হোসে ২নং ওয়ার্ডের জেলে মো. ফিরোজ জানান, তাদেরও ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ব্যবসার কাজে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মহসিন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে চাল বিরতণ নিয়ে চেয়ারম্যানের ভাই ইউপি সদস্য আহসান হাবিব মিন্টু সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জেলের ৪০ কেজির চালের পরিবর্তে ৩০ কেজি করে চাল বিরতণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৬৮৩ নিবন্ধনকৃত জেলেকে ১০ কেজি করে চাল কম দিলে তাতে প্রায় টন চাল অবশিষ্ট থাকে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ওই টাকা ইউপি সদস্যরা খরচ হিসেবে ভাগ করে নেবেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই বৈঠকে।

জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের ভাই ইউপি সদস্য আহসান হাবিব মিন্টু সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, ‘এবারের জন্য মাফ করেন। সংবাদ প্রকাশ করার দরকার নেই।

বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য মো. আলম হোসেন বলেন, ‘৬৮৩ জনের নামে বরাদ্দ পাইছি। জেলে সংখ্য ৭৫৩ জন। তাই সকল জেলেকে চাল দিতে ৩০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। ৭৫৩ জন জেলেদের ৩০ কেজি করে চাল দিলেও মেট্রিক টন চল বাকি থাকে। সেই চাল কোথায় জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি প্যানেল চেয়ারম্যান আলম হোসেন।

বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিরপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বরাদ্দ কম, তাই বাকি জেলেদের সঙ্গে সমন্বয় করতে চালও কম দেওয়া হচ্ছে। একই কথা বলেন ইউপি সচিব মো. আবু বকর।

বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র সহকারী মৎস্য অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমিন বলেন, ‘জেলে পরিবারপ্রতি যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাই বিরতণ করতে হবে। কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

×