ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক ॥ ভালো ফলনের আশা

রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী

প্রকাশিত: ২২:৫৮, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

রাজশাহীর আমবাগানগুলোর গাছে গাছে এখন শোভা পাচ্ছে মুকুল

প্রকৃতিতে ফাল্গুন আসতে আরও কিছুদিন বাকি। তবে এরই মধ্যে আমের জন্য খ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গাছে গাছে উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। সারি সারি আমের গাছে এখন সৌরভ ছড়াচ্ছে মুকুল। আম চাষিরাও পরিচর্যায় নেমেছেন বাগানে বাগানে। এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
তীব্র শীত পেরিয়ে আম গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্তত মাস খানেক আগেই মুকুলের দেখা মিলেছে এবার। আম চাষিরা গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন। তবে পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা উপজেলার বাগানঘুরে আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেলো বছরে প্রলম্বিত শীতের কারণে ছোট গাছের তুলনায় পুরাতন আম বাগানের বড়-বড় গাছগুলোতে মুকুল কম এসেছিল। এই বছরে সব ধরনের আম গাছে মুকুল আসছে। তবে কীটনাশক, সেচের খরচ আর শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কৃষকদের।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর শীতের প্রভাব আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন মুকুলের ম-ম গন্ধ। যে কারও প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। কোনো গাছ থেকে ক্ষুদ্র আকারে মুকুল বের হচ্ছে, আবার কোনো গাছে পরিপূর্ণ মুকুল এসে গেছে। ফলে বাগান পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। 
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই ধারে সারি সারি আম বাগানের গাছে গাছে সোনা রং ধারণ করতে শুরু করেছে পুরিস্ফুটিত মুকুল। জেলার বাঘা-চারঘাট ও পুঠিয়া  উপজেলার কৃষকরা জানান, গত বছর অধিকাংশ বাগানে আমের ভালো ফলন হয়নি। তবে এ বছর বাগানে পরিপূর্ণ মুকুল এসেছে। স্থানীয় আমচাষিদের মতে, এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে বিগত বছরের তুলনায় এবার আমের মুকুল ভালো হবে, এতে ভালো ফলন হবে। 
কৃষি বিভাগ জানায়, রাজশাহী জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টিতে যে পরিমাণ আম বাগান রয়েছে। তার সমপরিমাণ বাগান রয়েছে শুধু বাঘা উপজেলায়। এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। 
বাগান মালিকরা জানান, প্রতি বছর মাঘের শুরুতে আম গাছের ডালে ডালে মুকুল ফুটতে শুরু করে। এবার একটু আগাম মুকুল এসেছে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যা শুরু করেছেন। 
বাঘার আমোদপুর গ্রামের আম চাষি শামসুল হক জানান, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৫-৬ বার কীটনাশক  প্রয়োগ করতে হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮-৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক লাগে। সে হিসাবে বাঘায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির আমগাছে বছরে প্রায় ৭ লাখ টাকার কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার হয়ে থাকে। যার কমতি হবে না এবারও। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা লাভবান হবেন। 
এদিকে চাঁপাইনবাগঞ্জ সদর উপজেলার সেরাজুল ইসলাম নামের আমচাষি বলেন, বাগানের গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। যেসব গাছে এখনো আমের মুকুল আসা শুরু হয়নি, অল্প কয়েকদিনের মধ্যে তাতে মুকুল আসা শুরু হবে। গত বছর আমের মুকুল কম হওয়ায় এই বছরে আমের মুকুল বেড়ে পর্যাপ্ত আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখানকার আমচাষিরা জানান, এ বছর সার, কীটনাশকের দাম বেড়েছে। বাগানের পরিচর্যার জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ করার একটি মেশিনের ভাড়া আগে ছিল ১৫০০-১৭০০ টাকা। কিন্তু এখন ২৩০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচের মূল্য ছিল ১০০-১২০ টাকা। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় প্রতি ঘণ্টায় ১২০-১৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
চাষিরা বলেন, বাগান থাকলেই গাছের পরিচর্যা করতে হবে। গাছের যতœ না নিলে ভালো ফলনও আশা করা যায় না। এদিকে এবার সার, কীটনাশকের দাম বাড়ছে। পরিচর্যা খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চিন্তা হচ্ছে। খরচ করে যদি আমের ন্যায্য দাম না পাই তাহলে খরচ করায় বৃথা হয়ে যাবে।

×