ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

ক্ষতিকর জেনেও লাভের আশায় তামাক চাষ করেন চাষিরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর

প্রকাশিত: ১৬:২২, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ক্ষতিকর জেনেও লাভের আশায় তামাক চাষ করেন চাষিরা

তামাকের জমি

জামালপুরের মেলান্দহের কৃষকেরা আজও ছাড়তে পারেনি বিষাক্ত তামাক চাষের মায়া। তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তামাক চাষ করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, উপজেলার শেখ সাদী ও রৌমারী বিলে তামাক চাষ হয়।  অনেকটাই কমে এসেছে তামাক চাষ। কৃষকদের তামাক চাষের কুফল ও স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর সম্পর্কে বোঝানো হচ্ছে। এবং তামাকের বদলে ধান ও ভুট্টা চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। আগের তুলনায় তামাক চাষ কিছুটা কমেছে। 

তবে ওই কৃষকেরা বলছেন, ধান, সরিষা ভুট্টা থেকে তামাক চাষে লাভবান হচ্ছে বেশি কৃষকরা। তাই এখনও তামাক চাষের মায়া ছাড়তে পারেনি কেউ। ধান চাষ করলে তেমন লাভ হয় না তাই তামাক চাষ করা হয়।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের শেখ সাদী ও রৌমারী এলাকায় সবচেয়ে বেশি তামাক চাষ হয়। উপজেলা এ বছরের ২০ হেক্টর তামাক চাষ হয়েছে। তামাক চাষীদের সঙ্গে তামাক কোম্পানিদের ভালো একটি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাই তামাক চাষ সহজে কেউ ছাড়তে পারছে না। 

সরেজমিনে উপজেলার শেখ সাদী, রৌমারী বিল এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তামাক খেত। কেউ তামাক গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউ তামাক গাছের ছোট পাতা কাটছেন, আবার সার দিচ্ছেন জমিতে। 

শেখ সাদী এলাকার তামাক চাষিরা জানান, তামাক ছাড়া অন্য সকল চাষে যে পরিমাণ খরচ লাগে তার তুলনায় তামাক চাষে খরচ অনেক কম। তামাক চাষের লাভ বেশি থাকে। তামাক চাষের সার তেমন লাগে না একবার সার দিলেই হয়। শেখ সাদী,  রৌমারী, ভাগবাড়ী, টুপকার চর এলাকায় আগে প্রচুর পরিমাপ তামাক চাষ করা হতো। এখন তামাক চাষ কিছুটা কমেছে। 

তামাক চাষি গোলাপ নবী বলেন,৮-৯ বছর ধরে ধরে তামাক চাষ করি। এবার ৩৫ শতাংশ জমিতে করেছেন। তামাক চাষ খরচ কম হয় লাভ বেশি হয়। সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। আর বিক্রি করতে পারবো ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি করার জন্য বাজারে যেতে হবে না। বাড়ি থেকেই তামাক পাতা বিক্রি হয়। 

শেখ সাদী এলাকার চাষী মুজিবর বলেন, তামাক চাষে একটু কষ্ট ও রয়েছে। গাছ থেকে পাতা তুলে রোদে শুকাতে হয়। এই এলাকার অনেক আগে থেকেই তামাক চাষ হয়। আমার বাপ দাদারাও এই তামাক চাষ করত। আমরাও তামাক চাষ করি। জানি তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবুও লাভের আশায় আমরা তামাক চাষ করি। এ বছরের যদি শিলা বৃষ্টি না হয় তাহলে বেশ লাভবান হবো আমরা। 

ঝাউগড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম ফকির বলেন, তামাক কোম্পানির লোকেরা বাড়ি থেকে এসে তামাক কিনে নিয়ে যায়। তামাক বন্ধ করতে হলে আগে তামাক কোম্পানিগুলো বন্ধ করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, তামাক বিক্রির নিশ্চয়তা এবং ভালো দাম পাওয়ার কারণে তামাক চাষ কমানো যাচ্ছে না। তামাকের প্রতি পাতা ১২ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করে কৃষকেরা তাই তারা ছাড়তে চায় না অধিক লাভজনক হওয়ায়। তামাকের ক্ষতিকর বিষয় নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা হচ্ছে। তবুও কৃষকেরা ছাড়ছে না। তামাক চাষ কমিয়ে আনতে আমরা সব সময় কাজ করছি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, তামাক স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তামাক ভাঙার সময় তামাকের গুঁড়া বাতাসের সঙ্গে মানুষের শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। তামাক ফুসফুসে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। এবং ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
 

 এসআর

×