ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কুড়িগ্রামে চালু হলো এক টাকার রেস্টুরেন্ট

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ০১:১১, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩

কুড়িগ্রামে চালু হলো এক টাকার রেস্টুরেন্ট

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক টাকায় খাবার

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবার চালু হলো এক টাকার রেস্টুরেন্ট। এক টাকায় শহরের রেস্টুরেন্টের খাবার পেয়ে খুশি হতদরিদ্র মানুষেরা। এক টাকায় রেস্টুরেন্টের খাবার অবিশ্বাস্য। সত্যি এমন ব্যতিক্রম আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চরসুভারকুঠি গ্রামে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্থায়ীভাবে বিশেষ একটি রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। এক টাকার এই রেস্টুরেন্টে পাওয়া যাচ্ছে বিরিয়ানি, পোলাও, ভাত, মাছ, মাংস, ডিমসহ বার পদের খাবার।

যা ক্ষুধার্ত মানুষেরা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ইচ্ছামতো তাদের পছন্দের খাবার খেতে পারবে। মনোরম ও স্ব^াস্থ্যকর পরিবেশে বসে তৃপ্তি সহকারে পছন্দের খাবার খাবে তারা। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের আধুনিক রেস্টুরেন্টটি নিশ্চিত করেছে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। যেখানে রয়েছে পেশাদার বাবুর্চি, রেস্টুরেন্ট স্টাফ, মেন্যু কার্ড এবং বাহারি সব পুষ্টিকর খাবার। রেস্টুরেন্টটিতে ৫০ জন মানুষ বসে খেতে পারবে। আর একদিনে ৫ শতাধিক মানুষের খাবার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। কুড়িগ্রামের এই রেস্টুরেন্টটির কার্যক্রম চালু থাকবে সপ্তাহে দুইদিন। তবে এই কাজে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে প্রতিদিন এই রেস্টুরেন্ট চালানো সম্ভব। ঢাকা, কক্সবাজারের পর কুড়িগ্রামে চালু হলো এক টাকার এই রেস্টুরেন্ট। 
ছকিনা বেগম বলেন, এক টাকার রেস্টুরেন্টে নাতি-নাতনি, বিয়াইন, বোনসহ আসছি। আমরা গ্রামের মানুষ কোনদিন চিন্তা করতে পারি নাই যে রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাব। আজকে এক টাকায় পেটভরে খেতে পেরে সবাই খুশি হয়েছি। সত্তর ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ কাশেমআলী বলেন, বাবা আমার বয়স অনেক হয়েছে। টাকার কারণে বড় কোনো হোটেলে খেতে পারিনি। চা-বিস্কুট ৫ টাকা দিয়ে খাইছি।

এখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সেটাও হয় না। কিন্তু বউসহ এসে এক টাকায় এমন দামী খাবার খেতে পারব ভাবতেই পারিনি। এক টাকায় মন মতো খেতে পেরে খুব খুশি হয়েছি বাবা। সুবিধাভোগী বুলবুলি আক্তার বলেন, বাচ্চা নিয়ে এসেছি এক টাকার হোটেলে। ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, সালাদ, ফল, মিষ্টি খেলাম। কামলা দেওয়া সংসারে শহরের হোটেলে গেলে কম করে হলেও ৪-৫শত টাকা খরচ হতো। কিন্তু এখানে এক টাকায় খেতে পেরে স্বপ্নই মনে হচ্ছে। 
ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য জামাল উদ্দিন জানান আমরা হতদরিদ্র মানুষের শ্রেণি বৈষম্য দূর করার জন্য ১ টাকার হোটেলের ব্যবস্থা করেছি। এখানে গরিব মানুষ আসলে ১ টাকার বিনিময়ে যোগ্য গ্রাহকের সম্মান পাবে।  ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ প্রধান সালমান খান ইয়াছিন জানান, বর্তমানে সপ্তাহে দুইদিন এই রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম চলবে। তবে এই কাজে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে প্রতিদিন করার পরিকল্পনা আছে।

×