ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

সাগরে সব হারানো জেলের আকুতি

স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ০০:৩৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

সাগরে সব হারানো জেলের আকুতি

মোশারেফ বিশ্বাস

ঝড়ের কবলে পড়ে সাগরের গহীনে হারিয়ে গিয়েছিল মোশারেফ বিশ্বাসের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ‘খানকায়ে জৈনপুরী’ নামের মাছধরার ট্রলার ও জাল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে জালসহ সেই ট্রলার একদল জলদস্যু দখল করে। মালামালসহ সেই ট্রলার ফিরে পেতে বৃদ্ধ মোশারেফ বিশ্বাস গত প্রায় চার বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু আজও তিনি তার ট্রলার ফিরে পাননি। উপরন্তু প্রশাসনের দ্বারে ছুটতে গিয়ে হচ্ছেন হয়রানির শিকার। হচ্ছে অর্থ ও সময়ের অপচয়। অন্যদিকে, বাড়ছে দেনার পরিমাণ। পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাতে হচ্ছে মানবেতর জীবন।
মামলা ও অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের জেলে মোশারেফ বিশ্বাস (৬২) ব্যাংক ও কয়েকটি এনজিও থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জালসহ ট্রলারটি তৈরি করেন। কয়েক জেলেকে সঙ্গী করে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সাগর পাড়ি জমান। কিন্তু গভীর সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে জাল ও ট্রলার হারিয়ে জেলেদেরসহ কোনমতে জীবন নিয়ে তীরে ফেরেন।

কিন্তু কয়েকদিন পর সেই ট্রলারের সন্ধান মেলে পার্শ্ববর্তী ভোলা জেলার বকশীঘাট এলাকার আকবর পাহলান, খায়ের মাঝি, আলাউদ্দিন মাঝি, জাহাঙ্গীর মাঝি ও মন্নানের কাছে। মোশারেফ বিশ্বাস সেখানে ছুটে গেলেও জাল-ট্রলার ফেরত পাননি। বাধ্য হয়ে ওই বছরের ১৩ আগস্ট মোশারেফ বিশ্বাস রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ৪ সেপ্টেম্বর গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।

মাঝখানে অনেক ঘাট ঘুরে এ ঘটনায় সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর মোশারেফ বিশ্বাস জাল-ট্রলার ফিরে পেতে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপার শশীভূষণ থানার ওসিকে তদন্ত সাপেক্ষে সাতদিনের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। কিন্তু জলদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় অদ্যাবধি সুরাহা হয়নি।