ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

রেলওয়ে জমির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে শহরজুড়ে মাইকিং

প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ১৮ আগস্ট ২০২২

রেলওয়ে জমির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে শহরজুড়ে মাইকিং

অবৈধ বহুতল ভবন

রেলের শহর হিসাবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুর। এখানে রেলের জমি অবৈধ ভাবে দখল করে বহুতল ভবন তৈরী হয়েছে। সকল অবৈধ দখলদারদের এবার উচ্ছেদের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করেছে রেলের ভু- সম্পদ বিভাগ। আর জন্য শহর জুড়ে চলছে সৈয়দপুরে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রচারণা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ দখলদাররা নিজ ইচ্ছায় সরে না গেলে তাদের উচ্ছেদের পাশাপাশি রেলের আইনে মামলাও করা হবে বলে প্রচারণায় জানানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) জানা যায় গতকাল বুধবার (১৭আগষ্ট) থেকে রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাকশি বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামানের নির্দেশে অবৈধ দখলদার স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে মাইকিং করা হচ্ছে অনেকে ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন অবৈধ দখলদাররা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। তারা রয়েছে বিষয়টি ম্যানেজ করতে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সারাদেশেই রেলওয়ের সম্পত্তি বেদখল হওয়ার খবর রয়েছে। কিন্তু নিজ দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিদের অপকৌশলে বেহাত হওয়ার ঘটনা খুব বেশি চোখে পড়ে না। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে শুধু বেহাত বললে কম বলা হয়। সেখানে সরকারি জমি দখল করে রীতিমতো সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের শতাধিক একর জমি দখল করে নির্মাণ হয়েছে দুই হাজারের বেশি টিনশেড, সেমিপাকা, দ্বিতীয় তলা থেকে চার তলা পাকা বাড়ি পর্যন্ত। তারা আরও বলেন, ১৯৬৯ সালে সৈয়দপুর রেল স্টেশনের ২৬ একর জমিতে ছিল রেলওয়ে শপিং সেন্টার। বাকি জমিতে ছিল না কোনো স্থাপনা। শপিং সেন্টারটি দেখাশোনা করত রেলওয়ে স্টেশনের একটি কমিটি। দখলকারীরা এক সময় ওই শপিং সেন্টারও ভেঙে ফেলে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করে।

সূত্র মতে, সৈয়দপুর পৌরসভার সাথে রেলওয়ের বিবাদমান ২৫ দশমিক ৭৫ একর জায়গা বাদ রেখে সৈয়দপুর রেলস্টেশন এলাকা এবং নিয়ামতপুর বাঙ্গালীপুর মৌজায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অবৈধ ভাবে বহু স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। ওই সব স্থানে দখলদাররা রেলওয়ে জমিতে বসবাসসহ

অসংখ্য  অবকাঠামো বহুতলভবন গড়ে তোলা হয়েছে। এমন কি  কৃষি জমি হিসাবে বরাদ্দ নিয়ে অনেকে নির্মাণ করেছেন পাকা অবকাঠামোর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ঘোষণায় ওই সব দখলদারদের আগামী ৭দিনের মধ্যে স্ব স্ব স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সড়িয়ে নিতে বলা হচ্ছে। জানা গেছে দুই মৌজায় ধরণের দখলদারের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তারা নিজ ইচ্ছায় সরে না গেলে রেলওয়ে ভু সম্পত্তি নীতিমালা-২০২০ এর পরিপন্থি কাজ বলে গন্য হবে এবং রেলের বিদ্যমান নীতিমালায় কৃষি জমি নিলামের মাধ্যমে লীজ দেওয়া হবে।

বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে  পশ্চিমাঞ্চল রেওয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাকশি বিভাগীয় ভু- সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান বলেন, রেলওয়ে ভুমি অবৈধ দখলদারদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। ওই দুই মৌজায় যারা কৃষি জমির বরাদ্দ নিয়ে সেখানে বহুতল ভবন গড়েছেন তারাও আইনের আওতায় আসবেন। যারা কোন লাইসেন্স না নিয়ে অবৈধ দখলে রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।