৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ইদলিব যুদ্ধের পরিণতি কি দাঁড়াবে

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২০

বিদ্রোহী বাহিনীর দখলে থাকা সর্বশেষ ভূখ- ইদলিব প্রদেশটি পুনরুদ্ধারের জন্য সিরীয় বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণ চলছে। গত ৫ মার্চ মস্কোয় ইদলিবে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে যদিও একটি চুক্তি হয়েছে তবে সেই চুক্তি যে লঙ্ঘিত হবে তা বলাই বাহুল্য এবং হয়েছেও তাই। সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশটি বিদ্রোহীদের শেষ ঘাঁটি। সম্প্রতি সেখানে লড়াইয়ের বিস্তার ঘটায় প্রায় ১০ লাখ লোক ভিটেমাটি ছাড়া হয়। জাতিসংঘের ভাষায় এর ফলে এক ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস জেফরি বলেন, শুধু মানবিক সঙ্কট নয়, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটা হচ্ছে জিওস্ট্র্যাটেজিক পরিস্থিতির বিপজ্জনক বিস্তার।

সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর বিজয় বাহ্যত অনিবার্য। তারা এখন আক্রমণ শাণিয়ে চলেছে। তারা বিমান ও আর্টিলারি হামলার মধ্য দিয়ে প্রদেশটিকে নিষ্পেষিত করছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট বাশার রুশদের সহায়তায় বিদ্রোহী অধিকৃত ছিটমহলগুলোর বেশ কিছু পুনর্দখল করে নেয়। তবে জেফরি বলেন, ইদলিবের পরিণতি হবে অন্যরকম। তিনি মনে করেন না রাশিয়া ও বাশার ইদলিবে জয়লাভ করতে পারবে। আর তার কারণ হচ্ছে তুরস্কের পক্ষে পিছু হটা সম্ভব নয়। এমনিতেই প্রায় ৪০ লাখ সিরীয় উদ্বাস্তু তাদের ঘাড়ের ওপর চেপে আছে। সংঘর্ষ চলতে থাকলে এর ওপর আরও নতুন ৩০ লাখ উদ্বাস্তুর আগমন ঘটবে। এই বিশাল উদ্বাস্তু বাহিনীকে সামাল দেয়া তুরস্কের পক্ষে বাস্তবে সম্ভব নয়। সুতরাং নতুন উদ্বাস্তু আগমন রোধে তারা রুশ-সিরীয় যৌথ আক্রমণ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট মাত্রায় সামরিক শক্তির ব্যবহার করবেÑ এমনটাই স্বাভাবিক।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সদস্য তুরস্ক কিছুদিন আগে ইদলিবে বিমান হামলায় তার কমপক্ষে ৩৪ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর অপারেশন স্প্রিং শিল্ড শুরু করে। তুর্কী সামরিক বাহিনী সিরিয়ার সরকারী অবস্থানগুলোর ওপর গোলাবর্ষণ করে শত শত সামরিক যান ধ্বংস এবং শত শত সিরীয় সৈন্যকে হত্যা করে বলে দাবি করে। সিরিয়াকে রাশিয়া যত গুরুত্ব দেয় তার চেয়ে তুরস্কের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে সম্ভবত অধিকতর গুরুত্ব দেয়। কিন্তু তার পরও রাশিয়া প্রেসিডেন্ট বাশারের পতন ঘটুক এমনটা চায় না।

ইদলিবে সর্বশেষ সংঘর্ষের আগে সিরীয় বাহিনী রাশিয়ার সহায়তায় ইদলিব প্রদেশের পুরোটাই দখল করতে উদ্যত হয়েছিল। তারপর ঘটল তুরস্কের পাল্টা আক্রমণ এই অবস্থায় হিজবুল্লাহ ও ইরানকে সিরীয় বাহিনীর সাহায্যার্থে বাড়তি সৈন্য পাঠানোর দরকার হয়ে পড়ে। তুরস্ক সিরীয় বাহিনীকে কচুকাটা করতে গেলে ক্রেমলিন অধিক সংখ্যক সৈন্য বাশারকে রক্ষার জন্য পাঠাতে বাধ্য হবে।

সাম্প্রতিক লড়াইয়ের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে পূর্ব ইদলিবের সারাকিব শহর। এই শহরের ওপর দিয়ে গেছে এম৫ হাইওয়ে। বিদ্রোহীরা ওই শহর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাজধানী দামেস্ক ও এক সময়ের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র আলেক্সোর মধ্যে পরিবহন বন্ধ করে দিতে পারে। সারাকিব এখন সিরীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এ পর্যন্ত শহরটির তিনবার হাতবদল হয়েছে।

গত ২ মার্চ রাশিয়া জানায় যে তারা সেখানে সামরিক পুলিশ মোতায়েন করবে। পুলিশী কাজের অবশ্য তেমন কিছু নেই। কারণ সারাকিবে লোকজন রয়েছে যৎসামান্য। তবে রাশিয়ার উপস্থিতিই তুরস্কের ইচ্ছামতো কিছু করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তুরস্ক সরাসরি সেখানে রুশ বাহিনীর মোকাবেলা করবে তেমন সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে তুরস্কের ন্যাটো মিত্ররা যদি তা না চায় আর মধ্যপ্রাচ্যে আরেক দফা হস্তক্ষেপ করতে কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সর্বাত্মক সংঘর্ষে লিপ্ত হতে আমেরিকা বা ইউরোপীয় মিত্ররা কেউই এ মুহূর্তে চাইবে না।

সর্বশেষ আক্রমণে তুরস্ক সিরীয় বাহিনীর প্রচুর ক্ষতিসাধন করেছে ঠিকই তার নিজস্ব ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। এ জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগান স্বদেশে চাপের মুখে আছেন।

ইতোমধ্যে তার সিরীয় নীতি নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। এমনকি বন্ধু মহলও সমালোচনা করছে। এমনিতে যে ৩৬ লাখ সিরীয় উদ্বাস্তু তুরস্কে আছে তার ভারে তুর্কীরা ক্লান্ত। আরও উদ্বাস্তুর আগমন তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নয় যেটা ঘটবে ইদলিবের পতন ঘটলে। তাই ইদলিবের পতন ঘটতে দেয়া তুরস্কের পক্ষে সম্ভব নয়। সেটা এরদোগানের ইমেজেরও দারুণ ক্ষতি করবে। সুতরাং ইদলিব নিয়ে এরদোগান ও পুতিন দু’জনেই উভয় সঙ্কটে। তারা সংঘর্ষের রাশ টেনে ধরতে চান। ইদলিবকে তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বাফার অঞ্চল হিসেবে রেখে দিতে চান।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২০

২৫/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: