৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

নাগালের মধ্যে দাম ॥ রমজানে ভোক্তাস্বার্থ নিশ্চিতের প্রস্তুতি

প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
নাগালের মধ্যে দাম ॥ রমজানে ভোক্তাস্বার্থ নিশ্চিতের প্রস্তুতি
  • প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জরুরী বৈঠক ৪ মার্চ
  • নিত্যপণ্যসহ জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে ১৪ মন্ত্রণালয়কে

এম শাহজাহান ॥ আসন্ন রমজানে নাগরিকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজারে ভোগ্য ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এছাড়া ভোক্তা স্বার্থ নিশ্চিত, ঈদে নাড়ির টানে নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা, মৌসুমী রোগ ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ, কর্মচারীদের যথাসময়ে মজুরি ও ছুটি প্রদান সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভালে ১৪ মন্ত্রণালয়কে বিশেষ দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ লক্ষ্যে আগামী ৪ মার্চ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কার্যপত্র উপস্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, আসন্ন রমজানে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে জনপ্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টির উপর। এ লক্ষ্যে নিত্যপণ্যের মজুদ ও সরবরাহ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। নিত্যপণ্যের মজুদ, সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টির দায়িত্বে থাকবে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখবে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন জনকণ্ঠকে বলেন, রমজান ও ঈদ সামনে রেখে সরকারের বেশকিছু প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ করে ভোগ্য ও নিত্যপণ্যের দাম যাতে ওই সময় না বাড়ে সেদিকে সবচেয়ে বেশি নজরদারি রাখা হবে। তিনি বলেন, রমজানের সময় ইফতারিতে ব্যবহার হয় এমন সবপণ্য বিশেষ করে পেঁয়াজ, চিনি, ডাল, ছোলা, ভোজ্যতেল এবং খেজুরের আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। বেসরকারী খাতের ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তারা যেন এসব পণ্যের আমদানি ও মজুদ বাড়ান। যাতে ওই সময় দেশের মানুষ এসব পণ্য ন্যায্য দামে কিনতে পারেন। এর পাশাপাশি সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, ডাল ও ছোলার মতো পণ্য বিক্রি করা হবে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে এখন ৩৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। এই কার্যক্রম রমজানে আরও বেগবান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠকের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ওই বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। তিনি বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। দেশী নতুন পেঁয়াজ উঠা শুরু হয়েছে। এছাড়া সরকারী নির্দেশে বেসরকারী খাতের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আরও ২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করবে। এসব উদ্যোগের ফলে রমজানে বাজারে স্বস্তি থাকবে। তিনি বলেন, এবারের রমজানে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না। চাহিদার তুলনায় আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি ভাল অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপনিবিতান, স্টেশনসহ জনপরিসরের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ দেখবে জননিরাপত্তা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গণ উপদ্রব বিশেষ করে প্রতারণা, ছিনতাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসন প্রভৃতি প্রতিরোধে নিয়োজিত থাকবে জননিরাপত্তা বিভাগ ও বাংলাদেশ পুলিশ। রমজান সামনে রেখে গ্রীষ্মকালীন ও বর্ষা মৌসুমের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত রাস্তাঘাট সংস্কার করা হবে। প্রতি বছর ঈদ সামনে রেখে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এবার যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি নাগরিকরা না হউন সে বিষয়ে সতর্কদৃষ্টি রাখা হচ্ছে। মেট্রোরেলের খোঁড়াখুঁড়িতে ঢাকাবাসীর নিত্যদিনের যাতায়াত বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া গাজীপুর সাভার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উন্নয়নমূলক কর্মকা- হচ্ছে। এসব কর্মকা-ের ফলে রাস্তাঘাটে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঈদের সময় এ ধরনের দুর্ভোগ যতটা এড়ানো যায় সে বিষয়ে সরকারীভাবে এবার কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ইতোপূর্বে তিনি বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ দেখে এসেছেন। রমজানের আগে যাতে রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার হয় এবং খোঁড়াখুঁড়ি যতটা কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নাড়ির টানে সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরে যেতে পারেন- সে লক্ষ্যে ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে ভারি যানবাহন বিশেষ করে মহাসড়কে ট্রাক ও লরি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে। এছাড়া মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতার, তারাবি নামাজ ও সেহরির সময় নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুত ও সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহের বিষয়টি বিদ্যুত বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নজরদারিতে থাকবে। বিদ্যুত বিভাগ ওই সময় বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেবে। ইতোমধ্যে বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু রমজান ও ঈদ সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখন চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুত উৎপাদন করা সম্ভব। এ কারণে ওই সময় বিদ্যুত সঙ্কটের আশঙ্কা নেই।

জানা গেছে, এবারের রমজান ও ঈদ গ্রীষ্মকাল ও বর্ষা মৌসুমে শুরু হচ্ছে। এ সময়টাতে মৌসুমী রোগবালাই বিশেষ করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। এবারও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। আর এ কারণে এবার রোজা শুরুর আগে যাতে এ বিষয়ে করুনীয় নির্ধারণ করা যায় সে বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মৌসুমী রোগ প্রতিরোধে এ বিভাগ কি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি মশা নির্মূলের প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী সংগ্রহ, বিতরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও জনসচেতনতা মূলক প্রচারের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হবে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে ৪ মার্চের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

এছাড়া রেলের টিকেট প্রাপ্তি সহজলভ্য করার পদক্ষেপ, টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও সিডিউল বিপর্যয় নিরসনে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে বিশেষ তদারকির মধ্যে নিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বাস টার্মিনাল সমূহের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও জননিরাপত্তা বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিভিন্ন রুটে বিটিআরটিসির বাস সংখ্যা বৃদ্ধি ও টিকেট প্রাপ্তির সহজলভ্যতা ও রাস্তা ও সেতু সংস্কার বিষয়টি দেখভাল করবে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ও সেতু বিভাগ। এছাড়া নৌ যাত্রা বিশেষ করে ফেরি চলাচল, ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি, নৌঘাট, ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা, নৌযানের মান নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ, ঝুঁকিমুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা ও টিকেট প্রাপ্তির সহজলভ্যতা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন দেখভাল করবে। অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি ও টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এছাড়া গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ, তাদের ছুটি পর্যায়ক্রমিক ভাবে প্রদান, পাটকল শ্রমিকদের যথাসময়ে মজুরি প্রদানের বিষয়টি দেখবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়।

প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৯/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: