২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বিশ্বমানের সিটি গড়তে ১৫৭ প্রতিশ্রুতির ইশতেহার ঘোষণা

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০২০
  • এক শ’ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচী দিলেন ইশরাক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আধুনিক, বাসযোগ্য ও বিশ্বমানের সিটি গড়তে ১৬ দফায় ১৫৭ প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করে তিনি দুর্নীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, জলাবদ্ধতামুক্ত, মাদকমুক্ত, যানজটমুক্ত এবং দূষণ ও মশামুক্ত ভারসাম্যমূলক ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। মেয়র নির্বাচিত হলে প্রতিটি সড়ক ও অলিগলির রাস্তা সংস্কার, অধিক সংখ্যক আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইশরাক হোসেনের প্রতিশ্রুতির মধ্যে আরও রয়েছে ঢাকা মহানগরীতে ওয়ানস্টপ বাস সার্ভিস চাল, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, অন্ধ, প্রতিবন্ধী, নারী, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা। মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্বলিত স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সুবিধাসহ অত্যাধুনিক ও পরিচ্ছন্ন যাত্রী বিশ্রামাগার ও টাউটমুক্ত যাত্রীবান্ধব পরিচ্ছন্ন বাস টার্মিনাল উপহার দেয়া। যেসব এলাকার রাস্তায় ফুটপাথ নেই সেখানে ফুটপাথ নির্মাণ করা। রাজধানীর বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ করে রাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ও বেসরকারী পর্যায়ের সমন্বিত ও নিরাপদ সিটি পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা।

ইশরাক হোসেন আরও যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রশিক্ষিত কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ, হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসন, বিদ্যমান পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক এলাকায় বহুতল পার্কিং ভবন, পার্কিং লট ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা। ইশতেহারের পর নাগরিক সেবার ওপর ইশরাকের ভাবনার ভিডিও চিত্র দেখানো হয়।

ইশরাকের দেয়া ১৬ দফার মধ্যে রয়েছে- নাগরিক সেবা ও নাগরিক বিনোদন, যানজট নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন, নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবেশ উন্নয়ন, বনায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সমাজসেবা কার্যক্রম, জননিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধার, গ্রন্থাগার, জাদুঘর, নগর পরিকল্পনা ও প্রশাসন।

ইশরাক বলেন, আমি মনে করি আদর্শ শহর হচ্ছে সেই শহর যেখানে চাইবার আগে নাগরিক সেবা নাগরিকদের দ্বারগোড়ায় হাজির হবে। সামাজিক, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধের চর্চা হবে সুদৃঢ়। দুঃসময়ে ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলে স্বপ্ন সাজাবার জন্য পরিবর্তনের ডাক নিয়ে আমি ঢাকাবাসীর খেদমতে হাজির হয়েছি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি ঢাকার সন্তান, আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের আপনজন। এই ঐহিত্যবাহী নগরীর সন্তান হিসেবে আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে বিশ্বমানের বাসযোগ্য আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে আমার নিজস্ব চিন্তা চেতনা, স্বপ্নভাবনা ও প্রত্যাশার কাঠামো আপনাদের কাছে তুলে ধরেছি। আপনাদের সহযোগিতা পেলে তা আরও বাস্তব, প্রায়োগিক ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম একশ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচী হাতে নিয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নেব। দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে। যাবতীয় সেবা প্রাপ্তির জন্য এবং সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে সরাসরি অবহিত করার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে মহানগরী ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে হটলাইন চালু করা হবে। সেবাপ্রাপ্তি ও অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কোন নাগরিকের জন্য আমার দুয়ার এবং ব্যক্তিগত ফোন সর্বক্ষণিক খোলা থাকবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপন, ডোর টু ডোর ওয়েস্ট কালেকশন কম্প্যাক্টিং সুবিধাসম্বলিত যানবাহনে বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কম্পোজিট সার তৈরি, বিদ্যুত উৎপাদন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘থ্রিআর কনসেপ্ট’ চালু করা হবে। সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বয়স্কদের জন্য সিনিয়র সিটিজেন সার্ভিস, প্রবীণ হিতৈষী কেন্দ্র স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাবলিক প্লেসগুলোতে ফ্রি এ্যান্ড সেফ ওয়াইফাই সুবিধার আওতায় আনা, জনসচেতনতামূলক কমিউনিটি রেডিও স্টেশন চালু, শিক্ষিত বেকার যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আয়ের পথ তৈরি করা, হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে অনলাইনে ট্যাক্স আদায় এবং স্মার্ট স্কুল স্থাপনের মতো কর্মসূচী নেয়া হবে। ইশরাক হোসেন বলেন, অসহায় পথশিশু ও নারীদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন, নগর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য পুরান ঢাকা পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মতো ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক কমিটি গঠন, নি¤œবিত্ত মানুষের জন্য স্বল্পভাড়ায় আবাসন ব্যবস্থা, কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম জোরদার, প্রতিটি সড়ক, অলিগলি, লেন-বাইলেনে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টার স্থাপন, নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রাজউকের সমন্বয়ের চিহ্নিত করে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার, নির্যাতনের শিকার অসহায় নাগরিকদের নৈতিক ও আইনগত সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শহর ঢাকা মহানগরীকে কোনভাবেই বিনষ্ট হতে দেয়া হবে না।

ইশরাক বলেন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য অঞ্চলভিত্তিক এ্যাকশন এরিয়া প্লান গ্রহণ করে রাজউকের মাস্টারপ্লানের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে বছরজুড়ে মশার অভয়াশ্রম ঢাকার জলাশয়গুলো পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেয়া হবে। মশক নিধনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং ইন্টিগ্রেটেড ভিক্টর ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মশক নিধন করা হবে। পথচারীদের নিরাপদ রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে জেব্রা ক্রসিংগুলোতে ডিজিটাল পুশ বাটন সিগন্যালিং সিস্টেম চালু, স্কাইওয়াক প্রবর্তন, ফুটওভার ও ওভারব্রিজের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। যানজট নিরসনে আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যানেল নির্মাণ, দ্রুতগামী ইলেক্ট্রিক্যাল বাস সার্ভিস, স্মার্ট বাস স্টেশন নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, রাজধানীর ভবিষ্যত জনঘনত্বের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে যথাসময়ে পাতাল রেল নির্মাণের কর্মসূচী নেয়া হবে। প্রথম পর্বে পিলখানা থেকে শুরু হয়ে লালবাগ কেল্লা, চকবাজার, সদরঘাট, গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে গিয়ে শেষ হবে। আরেকটি হবে শ্যামপুর থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে মতিঝিলে। এর ফলে ঢাকা দক্ষিণের যাত্রীরা মতিঝিল হয়ে উত্তর ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রাইমারি হেলথ চেকআপ সেন্টার, প্রাতঃ ও সান্ধ্যকালীন ওয়াকারদের জন্য আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে প্রতিটি বাজারে ভেজাল/বিষ পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, জনসমাগম স্থলে ফুড কোর্ট ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। কর্মজীবী নারী ও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য অধিক সংখ্যক হোস্টেল নির্মাণ করা হবে।

ইশরাক বলেন, ধুলাবালি ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর আধুনিক ব্যবস্থা, ডিসিসির নিজস্ব জায়গায় বৃক্ষ ক্লিনিক, পোষ্যপ্রাণী ক্লিনিক, বাসার ছাদে ছাদ-বাগান ও আরবার এগ্রিকালচার ব্যবস্থা চালু করা হবে। পার্কগুলোতে নিমগাছসহ সবুজায়ন করা হবে।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবে সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সর্বোপরি আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার স্বার্থে আপনারা ধানের শীষ তথা খালেদা জিয়ার পক্ষে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।

তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচার ॥ উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে দিনভর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। প্রথমেই শেরশাহ সুরী ঈদগা মাঠের সামনে পথসভা করার পর তিনি টাউন হল, জাকির হোসেন রোড, জেনেভা ক্যাম্প, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, নূরজাহান রোডের মোড়ে পথসভা করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা যেসব অভিযোগ করছি তা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

তাবিথ বলেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে ভোটের দিন বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া সম্ভব হবে না।

বিগত নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছিল বলেও এখন আমরা সেই আশঙ্কা করছি। তাই নির্বাচন কমিশনকে বলছি, আপনারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন, যাতে ভোটাররা ভয়ভীতি মুক্ত হয়ে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০২০

২৯/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: