৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বড় ধাক্কা খেলো ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলো

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০২০, ১২:১৬ পি. এম.
বড় ধাক্কা খেলো ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলো

অনলাইন ডেস্ক ॥ আরও একটি বড় ধাক্কা খেলো ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলো। লাইসেন্স ফি, জরিমানা ও রাজস্ব হিসেবে তাদের মোট ৯২ হাজার কোটি রুপি পরিশোধের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সম্প্রতি বিচারপতি অরুণ মিশ্র, এস আব্দুল নাজির ও এম আর শাহের যৌথ বেঞ্চ ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন আইডিয়া, টাটা টেলিসার্ভিসেসসহ অন্য টেলিকম কোম্পানিগুলোর করা এই রিভিউ আবেদন বাতিল করেন দেন।

বিচারকরা তাদের আদেশে বলেন, ‘আবেদন পর্যালোচনা এবং এ সম্পর্কিত কাগজপত্রগুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে দেখে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের সমর্থনযোগ্য কোনো কারণ খুঁজে পাইনি আমরা। তাই এই রিভিউ পিটিশন বাতিল করা হলো।’

এর আগে টেলিকম কোম্পানিগুলো তাদের রিভিউ পিটিশন উন্মুক্ত আদালতে শুনানি এবং বেঞ্চকে রায় পুনর্বিবেচনা করাতে রাজি করানোর সুযোগ দিতে আবেদন করেছিল। তবে বিচারকরা তাদের এসব আবেদনও বাতিল করে দিয়েছেন।

শেষ সুযোগ হিসেবে যারা অর্থ পরিশোধে অক্ষম কোম্পানিকে মওকুফ আবেদন করতে বলা হয়েছে। এয়ারটেল, ভোডাফোন আইডিয়া, আরকম, এয়ারসেল, বিএসএনএল, এমটিএনএল ভারতের প্রায় সব টেলিকম কোম্পানিই সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশের আওতায় পড়বে।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে টেলিকম কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ৯২ হাজার কোটি রুপি আদায়ের নির্দেশ দেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। টেলিকম অপারেটরগুলো ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল।

কোম্পানিগুলোর দাবি, শুধুমাত্র মূল টেলিকমিউনিকেশন সেবা থেকে পাওয়া আয়ের ভিত্তিতে এজিআর (অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিন্যিউ) পরিশোধ করা হোক। তবে আদালত তাদের এই আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন।

বরং কেন্দ্র সরকারের দাবি অনুযায়ী, এজিআর-এ লভ্যাংশ, হ্যান্ডসেট বিক্রি, ভাড়া, খুচরা যন্ত্রাংশ থেকে আয়ও অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রেভিনিউ শেয়ারিং অনুসারে, লাইসেন্স ফি হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১৫ শতাংশ এজিআর নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে ১৩ শতাংশ, সবশেষ ২০১৩ সালে সেটি ৮ শতাংশ করা হয়।

২০০৩ সাল থেকে ভারত সরকার ও টেলিকম কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেন, চুক্তিতে গ্রস রেভিনিউয়ের সংজ্ঞা একেবারে পরিষ্কার। কীভাবে এজিআর আসবে তাও স্পষ্ট। এটা বলা যাবে না যে, চুক্তিতে রাজস্বের সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। একবার গ্রস রেভিনিউয়ের সংজ্ঞা দেয়া হয়ে গেলে কেউ এ থেকে বের হতে পারবে না অর্থাৎ চুক্তির জন্য রাজস্ব দিতে হবে।

আদালত বলেন, কোম্পানিগুলোকে শুধু লাইসেন্স ফি-ই নয়, বরং পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার সুদ ও জরিমানাও দিতে হবে। রাজস্বের প্রতিটি উৎসই এজিআর-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তাদের নির্দেশ মতে, ইন্টারন্যাশনাল রোমিংয়ে ভোক্তাদের দেয়া ছাড়, প্রিপেইড ভাউচার বিক্রিতে ডিস্ট্রিবিউটরদের দেয়া কমিশনও গ্রস রেভিনিউয়ের অংশ হবে।

আদালত আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মান ওঠানামা থেকে লাভ, শেয়ার বিক্রি, মূলধন সম্পদের ক্ষেত্রে বিমা দাবি, প্রিপেইড গ্রাহকদের নেগেটিভ ব্যালেন্স, অবকাঠামো পরিচালন ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ, দেরিতে ফি মওকুফ এবং সাবস্ক্রাইবারদের পরিশোধিত অফেরতযোগ্য ডিপোজিট- সবই গ্রস রেভিন্যিউয়ের অংশ এবং এসব বিবেচনায় লাইসেন্স ফি অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

কোম্পানিগুলোর জরিমানা ও সুদ মওকুফ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালত বলেন, মামলা চলার সুযোগে এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অসমর্থনযোগ্য পরিস্থিতিতে কাউকে সুবিধা নিতে দেয়া হবে না।’

দীর্ঘদিন ধরেই টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের এই সংকট চলছে। কাল সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রয়টার্সের আশঙ্কা, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ঋণভারে ধুঁকতে থাকা ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলো এই রায়ের ফলে আরও বড় সমস্যায় পড়লো।

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০২০, ১২:১৬ পি. এম.

১৭/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: