২৩ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

রেলকে লাভজনক করতে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার প্রস্তাবটি পরীক্ষা করা যেতে পারে ॥ ড. আবদুর রাজ্জাক

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:২৩ পি. এম.
রেলকে লাভজনক করতে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার প্রস্তাবটি পরীক্ষা করা যেতে পারে ॥ ড. আবদুর রাজ্জাক

সংসদ রিপোর্টার ॥ লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে পাবলিক সেক্টরে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, অতীতে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান পাবলিক সেক্টর থেকে প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়া হয়েছে। এখানে আমদের অভিজ্ঞতায় তিক্ততাও রয়েছে, আবার সফলতাও রয়েছে। তবে রেলকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার প্রস্তাবটা খারাপ না। এটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পুরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ড. আবদুর রাজ্জাক আরও জানান, প্রাইভেট সেক্টরে রেলকে কখনো দেওয়া হয়নি। এটি একটি সার্ভিস সেক্টর হিসেবে বিবেচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বেশির ভাগ দেশেই এটি পাবলিক সেক্টরেই রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে অনেক শিল্প-কারখানা দিয়েছিলাম। এটা অস্বীকার করবো না, পাবলিক সেক্টরে অনেক শিল্প কারখানাই লাভ করছে না। ফলশ্রুতিতে আস্তে আস্তে এগুলো প্রাইভেট সেক্টরে দিতে হয়েছে। কিন্তু প্রাইভেট সেক্টরে সেগুলো নিয়েও খুব ভাল চালাতে পারেনি। তারা বিক্রি করে দিয়েছে, নানান রকম অনিয়ম করেছে, অপব্যবহার করেছে।

ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ট্রেনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখানে যে অনিয়ম দুর্নীতি তা দীর্ঘকালের। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এই রেলখাতকে বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করেছিল। তবে প্রাইভেটে যদি দিতেও চাই, সেটি দু’একটা লাইনকে দিয়ে স্টাডি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেওয়ার প্রশ্ন আসে। এটি পরীক্ষা করে যেতে হবে। তবে আইডিয়াটা খারাপ না। তবে মনে রাখতে হবে মানুষকে সার্ভিস দেওয়া, সেটা মনে রেখেই এগোতে হবে। কোন কিছুতেই জাম্প করা ঠিক হবে না।

রেলের ৩ হাজার একর জমি বেহাত ॥ সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলের বর্তমানে ভূমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮২০ একর। এসব ভূমির মধ্যে রেলের দখলে রয়েছে ৫৮ হাজার ৬০৬ একর অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৬১৪ একর জমি বেদখলে রয়েছে।

তিনি জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে রেলের জমি লীজ দেওয়া হলেও সেগুলো বেদখল হয়নি। তবে, কিছু কিছু জমির শ্রেণী পরিবর্তন হয়নি। ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ খাত থেকে রেলের আয় হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯০ টাকা। আদায় করা টাকার বাইরে লীজ গ্রহিতাদের কাছে এখনো সংস্থাটির পাওয়া রয়েছে ১২৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৬ টাকা। যথাসময়ে লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করায় বকেয়া রয়েছে। খেলাপী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি পাওনা আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের সাপেক্ষে আদায়ের পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:২৩ পি. এম.

১৪/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: