৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

কৃষিকে আধুনিক রূপ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে পণ্য রফতানি করতে হবে

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
  • তবেই মাথাপিছু আয় বাড়বে ॥ কৃষিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কৃষিতে সাফল্য আসলেও জলবায়ুর পরিবর্তনের লাগাম টেনে না ধরলে কৃষির উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সমগ্র বিশ্বে খাদ্য সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বিগত দশকে পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। দুধ, মাছ, মাংস ও ডিমের উৎপাদনও বেড়েছে। জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তনের লাগামকে টেনে ধরতে হবে। আমাদের মাথাপিছু যে আয় তা দিয়ে সবার পক্ষে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা সম্ভব না। মাথাপিছু আয় বাড়াতে হলে কৃষিকে আধুনিক কৃষিতে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের কনভেনশন হলে আয়োজিত লচিং সিরিমনি অব ক্লাইমেট এগ্রিকালচার ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (সিএসএআইপি) এ্যান্ড লাইভস্টক এ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি) অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিশ^ব্যাংক যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন।

বিশ^ব্যাংক জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কৃষি ক্ষেত্রে জলবায়ুু পরিবর্তনের প্রভাব ও কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা ও প্রশমন উন্নয়নে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংক আজ জলবায়ু স্মার্ট কৃষি বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিএসএআইপি) চালু করেছে।

জলবায়ু পরির্বতন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ঘূর্ণিঝড়সহ অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে, কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবার আগে পড়ে শস্য জাতীয় ফসল, মাছ ও প্রাণিজ সম্পদ খাতে। এসব খাতে ব্যাপক সাফল্য আসলেও যে কোন সময় তা মøান হতে পারে। এমডিজির অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন করেছি ঠিক একইভাবে এসডিজিও অর্জন করব। বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ গ্রহণ করেছে যার ফলে জলবায়ুজনিত সমস্যা মোকাবেলায় সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস হলো মাছ, মাংস, দুধ, ডিম। আমাদের মাথাপিছু যে আয় তা দিয়ে সবার পক্ষে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা সম্ভব না। মাথাপিছু আয় বাড়াতে হলে কৃষিকে আধুনিক কৃষিতে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে, এর পাশাপাশি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। কৃষিই এ দেশের কৃষ্টি। কৃষিই এ দেশের অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে জীববৈচিত্র্যে। নষ্ট হয় কৃষি ও শস্য ক্ষেত। নানা ধরনের অসুবিধায় পড়ে পশু-পাখি, হাঁস-মুরগি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশের বাজেটের ১৫-২০ শতাংশ বিদেশী সাহায্য নির্ভর ছিল, বর্তমানে তা ২ শতাংশ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে পুষ্টিমানের বিষয়টি আগে আসে। আমাদের প্রতিনিয়ত আমিষের চাহিদা মেটাতে দুধ, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে সফলতা এসেছে। মাঠের কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করব। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করব। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে রোল মডেল। দুধ উৎপাদন ৯ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদনেও এসেছে সফলতা। আশার কথা হচ্ছে দেশের দক্ষ কৃষি বিজ্ঞানীদের অদম্য চেষ্টার ফলে লবণাক্ততা সহিষ্ণু, খরা-বন্যা সহিষ্ণু, সময় নিরপেক্ষ ও স্বল্পকালীন উন্নতজাতের কিছু ফসলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে নতুন মাত্রা দিতে কোন অঞ্চলের জন্য কোন ধরনের ফসল প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে আবাদ করতে হবে। পানির সুষ্ঠু ব্যবহার করে সেচ পানির অপচয় কমাতে হবে। প্রতিটি জেলায় উপযোগী সুনির্দিষ্ট ফসলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের শুধু বর্তমান নিয়ে থাকলে হবে না, ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে। বিশ্বব্যাংক ৫শ’ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় সহায়ক হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ রইছউল আলম ম-লের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য করেন মোঃ তৌফিক আরিফ যুগ্ম সচিব (ব্লুু ইকোনমি)। সাউথ এশিয়া সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ডব্লিউবিজি রিজিওনাল ডিরেক্টর এম জন রোমি প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

১২/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: