২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আশ্রয় শিবির নয়, যেন মানুষ পয়দার উন্মুক্ত কারখানা

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৫ লাখে পৌঁছেছে, গর্ভে আরও ৩০ হাজার

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থলগুলো আশ্রয় শিবির নয়, যেন মানুষ পয়দার উন্মুক্ত কারখানা। বছর না ঘুরতেই বিবাহিত প্রতিটি নারীর কোলজুড়ে আসছে সন্তান। অবিরাম চলছে সন্তান পয়দা করার এ তৎপরতা। রোহিঙ্গাদের বদ্ধমূল ধারণা, যত বেশি সন্তান জন্ম দেয়া যায় ততই তাদের লাভ। ক্ষুদ্র এ নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা বাড়বে। জাতিসত্তা টিকিয়ে রাখতে স্বজাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তাই এদের কাছে পরিবার পরিকল্পনা অর্থহীন। রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে দেশী বিদেশী এনজিওসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখলেও পরিবার পরিকল্পনার প্রচার ব্যর্থই হয়ে আছে। এ তৎপরতায় ধর্মীয় মতের বিশ^াসও কাজ করছে।

বহু আগে থেকে যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এদেশে বিভিন্ন ভাবে থেকে গেছে এদের পরিবারগুলোতে বছর ঘুরতে না ঘুরতে এসেছে নবজাতক। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মধ্যরাতে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে যারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে গত প্রায় আড়াই বছর সময়ে রোহিঙ্গা নারীরা জন্ম দিয়েছে ১ লাখেরও বেশি শিশু সন্তান।

আশ্রয় শিবিরগুলোতে প্রতিনিয়ত বিয়ের বিষয়টি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। রোহিঙ্গা পুরুষরা যেমন একাধিক বিয়ে করে থাকে, তেমনি রোহিঙ্গা নারীরাও একাধিক স্বামী বদল করে থাকে। ফলে আশ্রয় শিবিরগুলোতে বিয়ে প্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়টি একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়ে আছে। আশ্রয় ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠীর সদস্যরা রেশন ওষুধসহ সবকিছুই পাচ্ছে ফ্রি। সন্তানদের ভরণপোষণ, বস্ত্র, শিক্ষা সবই ফ্রি। ফলে বিয়েও চলছে ফ্রি স্টাইলে। বিয়ে করতে পুরুষদের লাগে শুধু একজোড়া ছোট আকৃতির কানফুল বা নাকের দুল। ১২ বছরে পা দিলেই রোহিঙ্গা মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয়ে থাকে। ফলে বয়সের পূর্ণতা আসার আগেই রোহিঙ্গা কিশোরী ও যুবতীরা সন্তান জন্ম দিয়ে চলেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চালু করতে মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা ব্যাপক প্রচার চালালেও কিছু গ-মূর্খ রোহিঙ্গা মৌলভীর ফতোয়ার কারণে শিবিরগুলোতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মোটেও মানা হয় না। উল্টো এ পদ্ধতিকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ধর্মবিরোধী একটি কাজ হিসেবে বিবেচনা বা বিশ^াস করে থাকে।

উখিয়া-টেকনাফের কর্মরত চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বয়সের রোহিঙ্গা শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আশ্রয় শিবিরে সর্দি, জ¦র, কাশি, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই থাকে শিশু। আজ ৮ ডিসেম্বর (রবিবার) থেকে শিবিরগুলোতে কলেরা টিকা দেয়া শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে কলেরায় আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে বিপুলসংখ্যক শিশু।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের আগে থেকে বৈধ ও অবৈধভাবে অবস্থানগত রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি। আর ২৫ আগস্টের পর পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে আরও সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এদের সংখ্যা ১২ লাখেরও বেশি বলে চাউর থাকলেও বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখের কাছাকাছিতে পৌঁছেছে। কেননা, ১৭ সালের ২৬ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দুদফার হিসেবে রোহিঙ্গা নারীরা শিশু জন্ম দিয়েছে এক লাখেরও বেশি। বর্তমানে আরও ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নারী সন্তান প্রসবের দিন গুণছে।

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

০৮/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: