২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বাবার কোলেই ঘুমন্ত তুহিনকে জবাই করে চাচা

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ, ১৬ অক্টোবর ॥ ছেলের নৃশংস খুনের পর বাকরুদ্ধ তুহিনের মা এখন বাবার বাড়িতে শয্যাশায়ী। মাত্র ১৫ দিন আগে এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি। তুহিনের অপর দুই ভাই ও নবজাতক বোনকে নিয়ে কীভাবে চলবেন সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছেন এই হতভাগা মা। তুহিনের তিন ও সাত বছরের দুভাই মামার বাড়িতে। তাদের দেখতে স্বজন ও বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা লোকজনের দিকে ফ্যালফ্যাল করে থাকিয়ে আছে এই অবুঝ শিশুগুলো। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তুহিন হত্যার বিচার দাবি করেছেন তিনিসহ এলাকার সচেতন মানুষজন। নির্মম এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বাবা-চাচা ও চাচতো ভাইয়েরা মিলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।

সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের কর্ণগাঁও মোড় থেকে ৭ কিলোমিটর দূরে অবস্থিত ছায়ানীবিড় এক গ্রাম কেজাউড়া। এক সময়ের শান্তিপ্রিয় এই গ্রামটি অশান্ত হয়ে ওঠে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর অন্তর্দ্বন্দ্বে। অন্তর্দ্বন্দ্বে একপক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার আর অপর পক্ষে মাওলানা আব্দুল মুচ্ছাব্বির। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন। মুছাব্বির শিশু তুহিনের চাচা।

জেলার দিরাই উপজেলার কেজাউড়া গ্রামে নৃশংস কায়দায় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে খুন হয়েছে গ্রামের আধিপত্য বিস্তারের জেরে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনের স্বজনরাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিল- কেজাউড়া গ্রামে সরেজমিন আলাপকালে জনকণ্ঠকে এমনটাই বলছেন গ্রামের আপামর মানুষ। পাশবিক কায়দায় সংঘটিত এই হত্যাকা-ের পিছনে রয়েছে আধিপত্য বিস্তারের আরও দুটি হত্যাকা-।

এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন। মুছাব্বির শিশু তুহিনের চাচা। এর আগে ২০০১ সালে মুজিব নামের এক কৃষক ও ২০১৫ সালে খুন হন নিলুফা নামের এক গৃহবধূ। দুটি খুনের ঘটনায়ই বিবদমান দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে ফাঁসানোর অভিযোগ। মুজিব খুনের ঘটনায় আসামি করা হয়েছিল শিশু তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরকে। অপরদিকে গৃহবধূ নিলুফা হত্যা মামলায় আনোয়ার মেম্বার পক্ষের ১৬ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে এই তুহিন হত্যাকা-ের ঘটনায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেছেন তুহিনের মা মনিরা বেগম। এ মামলায় তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, জমসের আলী, নাছির উদ্দিন ও চাচতো ভাই শাহরিয়ারকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতে নাছির ও শাহরিয়ার হত্যাকা-ে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। বাবা আব্দুল বাছির ও দুই চাচাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বুধবার দিরাই থানা হাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কেজাউরা গ্রামের বাসিন্দারা মনে করেন, এই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পরস্পর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এই বিরোধ চরমে উঠে। নৃশংস কায়দায় এক এক খুনের ঘটনার জন্ম হচ্ছে। খুনীচক্র দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রবিবার রাতে তারই বলি হয় শিশু তুহিন। তারা এই হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। যেন এভাবে আর কোন তুহিনকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।

এদিকে শিশু তুহিনকে জবাই করে হত্যা করে তার দুটি কান ও যৌনাঙ্গ কটে ফেলে ঘাতকরা। পরে তার পেটে সালাতুল ও সুলেমানের নাম খোদাই করা দুটি ছুরি ঢুকিয়ে রাখা হয়। সালাতুল ও সুলেমান দুজনই হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে শিশু তুহিন হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, এমনটাই দাবি করেছেন তারা।

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

১৭/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: