১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

২৪ ঘণ্টায় মত পাল্টাল চীন

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০১৯
  • পর্যটকদের জন্য কাশ্মীরের দুয়ার খুললেও সাড়া নেই

একদিন না যেতেই সিদ্ধান্ত বদল করলেন চীন। মঙ্গলবার কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল চীন। ভারত এবং পাকিস্তানকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যত উল্টো অবস্থান নিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ালেন শি জিনপিং। সিনহুয়া, এনডিটিভি।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বুধবার বলেন, তারা কাশ্মীর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। এই ইস্যুতে বেজিং যে পাকিস্তানের পাশেই দাঁড়াবে, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে বেজিং সফরে রয়েছেন। ইতোমধ্যেই চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। শির সঙ্গে বৈঠক। চীনের সংবাদমাধ্যম জিনহুয়া নিউজের খবর, ওই বৈঠকেই শি জিনপিং বলেছেন, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, সেটা স্পষ্ট। কাশ্মীর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং বেজিং ইসলামাবাদের পাশেই থাকবে এমন আশ্বাসও শি ইমরানকে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের শত্রু এবং ভারতবিরোধী বলেই পরিচিত চীন। এ দিন সেই বার্তা আরও স্পষ্ট করে শি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে যে পরিবর্তনই আসুক, পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্ব কখনওই ভাঙেনি, বরং পাথরের মতো দৃঢ় থেকেছে। বেজিং-ইসলামাবাদ পারস্পরিক সহযোগিতাও সব সময়ই রয়েছে।’ শি শুক্র ও শনিবার ভারত সফর করবেন। এই সফরে চেন্নাইয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি’র বৈঠক হবে। ৩৭০ ধারা বিলোপ করে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তোলার পরেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে চরম অবনতি হয়েছে। এমনকি জাতিসংঘেও বিষয়টি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সফর এবং মোদির সঙ্গে বৈঠক ঘিরে আশা জাগিয়েছিল দিল্লীর। কিন্তু তার সফর শুরুর দু’দিন আগে চীনা প্রেসিডেন্টের এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

এদিকে ভারতের সংবিধানে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের দুই মাস পর সেখান থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার গবর্নর সত্যপাল মানিকের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীরের দরজা খুলে গেছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও পর্যটকদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ৫ আগস্ট কাশ্মীরের সতর্কতা জারির পর হাজার হাজার পর্যটক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও তীর্থযাত্রী এলাকাটি ছেড়ে যান। সে সময় উপত্যকাটিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যটক ছিলেন বলে ভারতের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছিলেন। কেবল ৩ আগস্টই কাশ্মীর থেকে ফিরে যায় ৬ হাজারেরও বেশি পর্যটক; সহিংসতার আশঙ্কায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকে গৃহবন্দি করার পাশাপাশি পাঠানো হয় বাড়তি সেনা। ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সরকার সংবিধানে কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে সেটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেয়। অবরুদ্ধ কাশ্মীরের বাসিন্দাদের ওপর আরোপ করা হয় নানান বিধিনিষেধ। সেই থেকে ভূস্বর্গখ্যাত উপত্যকাটি ছিল পর্যটকশূন্য। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকার কাশ্মীরের ওপর থেকে বেশকিছু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিলেও বেশিরভাগ এলাকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও সচল হয়নি। পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের জুনেই কাশ্মীর ঘুরে গেছেন প্রায় পৌনে দুই লাখ পর্যটক। জুলাইয়ে এ সংখ্যা কিছুটা কমে ছিল দেড় লাখ। রমরমা সেই অবস্থার বিপরীত চিত্র এখন উপত্যকাটির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০১৯

১১/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: