১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ্বসভায় দেশের সাহিত্য পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়


বিশ্বসভায় দেশের সাহিত্য পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ উৎসবটা সাহিত্যের। সঙ্গে ছিল শিল্পের সম্মিলন। সেই উৎসবটি হয়ে উঠল ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। দেশের খ্যাতিমান লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আয়োজনটিতে হাজির হলেন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত কবি-সাহিত্যিক, অভিনয়শিল্পী, প্রকাশক, সাংবাদিক ও চিন্তক। রাজধানী ঢাকার কোটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে থাকা সাহিত্যপ্রেমীরা এ উৎসবে। সেই সব সাহিত্য অনুরাগীরা টানা তিন ধরে মুখরিত করে রাখলেন ঢাকা লিট ফেস্ট। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে বর্ণময় হয়ে ধরা দিয়েছে এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। সেই সঙ্গে ব্যক্ত হলো দেশের সাহিত্যকর্ম বিশ্ব সভায় পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়। বাংলার সমাদৃত সাহিত্যকর্ম ছড়িয়ে যাবে সারা বিশ্বে- এ আশাবাদ জাগানো সাহিত্যনির্ভর তিন দিনের এ উৎসবের সমাপনী দিন ছিল শনিবার। এদিন সাহিত্যভিত্তিক নানা আলোচনার পাশাপাশি কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আধ্যাত্মিক গানের পরিবেশনা, গল্পকথকের গল্প বলাসহ এদিনও নানা অধিবেশন প্রাণভরে উপভোগ করেছেন বাংলা একাডেমি আঙ্গিনায় উৎসবে আগত অগণন শ্রোতা-দর্শক। সমাপনী দিনে নানা অধিবেশনের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ‘ডিএসসি প্রাইজ ফর সাউথ এশিয়ান লিটারেচার’। উৎসবের সমাপনী আনুষ্ঠানিকতায় প্রদান করা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যের সর্বোচ্চ সম্মানজনক এই পুরস্কার। ‘দ্য স্টোরি অব এ ব্রিফ ম্যারেজ’ গ্রন্থের জন্য আলোচিত পুরস্কারটি জয় করেছেন শ্রীলঙ্কার কথাসাহিত্যিক অনুক অরুদপ্রগাসম। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার ডলার। এছাড়াও শেষ দিনে ছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাহিত্য সাময়িকী ‘গ্রান্টা’র একটি সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন।

ডিএসসি পুরস্কার পেলেন অনুক অরুদপ্রগাসম ॥ শনিবার সন্ধ্যায় বসে উদ্বোধনী দিনের সমাপনী আনুষ্ঠানিকতা। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয় দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সাহিত্যের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ডিএসসি প্রাইজ ফর সাউথ এশিয়ান লিটারেচার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি ডিএসসি পুরস্কার তুলে দেন শ্রীলঙ্কার কথাসাহিত্যিক অনুক অরুদপ্রাগসমকে। সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিক সামিয়া জামান।

প্রথমেই পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতিতে অনুক অরুদপ্রগাসম বলেন, বই প্রকাশের জন্য প্রথমে আমি শ্রীলঙ্কার কাছে অনেক প্রকাশকের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে আমার বইটি কেউ প্রকাশ করতে চায়নি। তখন আমি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী গ্রান্টার সঙ্গে যোগাযোগ করি। শেষ পর্যন্ত গ্রান্টা থেকে ‘দ্য স্টোরি অব এ ব্রিফ ম্যারেজ ’ শিরোনামের বইটি প্রকাশিত হয়। এ পুরস্কারটি আমি শ্রীলঙ্কাবাসীকে উৎসর্গ করলাম। আর পুরস্কারের অর্থমূল্য শ্রীলঙ্কায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠানকে দান করব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সাহিত্যের এ আসরটিকে আমার কাছে সেরা সাহিত্য উৎসব মনে হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যের সঙ্গে বিশ্ব সাহিত্যের সংযোগ ঘটেছে এ উৎসবের মাধ্যমে। সাহিত্যের আবেদন চিরন্তন। কারণ সাহিত্য আমাদের রুচি পরিশীলিত করে।

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে যে কোন ধরনের লেখা এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। ২০১০ সালে ডিএসসি সাহিত্য পুরস্কার প্রচলন করেছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সারিনা নারুলা। ডিএসসি পুরস্কারের সম্মাননা স্মারকের সঙ্গে ২৫ হাজার ডলারের সম্মানী প্রদান করা হয়।

এ বছর ডিএসসি প্রাইজ ফর সাউথ এশিয়ান লিটারেচারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় অনুক অরুদপ্রগাসম ছাড়া আরও ছিলেনÑ অঞ্জলি জোসেফ, আরবিন্দ আডিগা, করণ মহাজন ও স্টিফেন অল্টার। বিচারকম-লীতে ছিলেনÑ রিতু মেনন, ভ্যালেন্টাইন কুনিংহাম, স্টিভেন বারনেস্টাইন, ইয়াসমিন আলীভাই ও সিনেথ ওয়াল্টার পারেরা।

‘গ্রান্টা’র মোড়ক উন্মোচন ॥ সমাপনী দিনে গ্রান্টা সাহিত্য সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক করণ মহাজন, মার্কিন লেখক ক্যাথরিন ডন, গ্রান্টার সম্পাদনা সহকারী যুক্তরাজ্যের ইলিয়ন চেন্ডলার ও মার্কিন ঔপন্যাসিক জেসি বেল। গ্রান্টা সাময়িকীতে নিজের লেখা প্রসঙ্গে করণ মহাজন বলেন, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার সংস্কৃতির মধ্যে মিল হয়েছে। আমেরিকার জীবনযাপন, সেখানকার নাগরিকদের বেড়ে ওঠা ইত্যাদি বিষয় আমার লেখায় উঠে এসেছে। আমেরিকাতে বাস করলেও সেখানে আমি ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে মার্কিন সংস্কৃতির পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই লেখক বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা চোখে পড়ার মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের প্রসঙ্গে করণ বলেন, আমেরিকায় অভিবাসীদের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়, বিশ্বের অন্য কোথাও তেমনটা দেয়া হয় না। আফ্রিকার উগ্রবাদীদের কারণে অন্য দেশের অভিবাসীরা সঙ্কটে ভুগছে। তারপরও আমেরিকায় অভিবাসীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভাল আছে।

সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৮টি অধিবেশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অধিবেশনের কথা তুলে ধরা হলো।

ভাষার রাজনীতি- ভাষার অর্থনীতি ॥

ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের চতুর্থতম ভাষা বাংলা। আর সমাপনী দিনের একটি উল্লেখযোগ্য অধিবেশন ছিল ‘ভাষার রাজনীতি : ভাষার অর্থনীতি’। বাংলা ভাষার ওপর আগ্রাসন এবং বৈশ্বিকীকরণে করণীয় বিষয়ে নানান প্রসঙ্গ উঠে আসে এ আলোচনায়। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে অংশ নেন ভারতের দুই কবি কিন্নর রায় ও সেবন্তী ঘোষ এবং দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদক আলতাফ শাহনেওয়াজ। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন লেখক হামীম কামরুল হক।

ভাষার ভিত্তিতে রাজনীতি ও সংস্কৃতি পরিচালিত হয় উল্লেখ করে কিন্নর রায় বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষা। ব্যক্তি মানুষের আত্মমর্যাদারও একটি অংশ হচ্ছে ভাষা। বাংলা ভাষার বিপন্নতার কথা উল্লেখ করে এই কবি বলেন, বাংলাভাষী অনেকেই এই ভাষার শুদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে যেন লজ্জা পায়। অকারণে বাক্যের মধ্যে ইংরেজী শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটায়। যেমন কথায় কথায় বলে ফেলে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারস, পটিসহ নানা শব্দ। এক্ষেত্রে বাংলাভাষার ওপর চেপে বসেছে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন। ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজ করছে রাজনীতি। কে কী পড়বে, কোন জিনিস খাবে কিংবা কেমন করে কথা বলবেÑ সেটাও ঠিক করে দিচ্ছে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার রাজনীতি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এ কারণেই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া অপূর্ণ থাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা। ্একটি দেশ বা সমাজে ভাষা ও সাহিত্য তখনই প্রভাব বিস্তার করে, যখন শক্তিশালী হয় অর্থনীতি। আর অর্থনীতি শক্তিশালী হলে রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যেও নিজস্ব ভাষার চর্চাটা জোরালো হয়।

বাংলাভাষাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে অনুবাদের বিকল্প নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন সেবন্তী ঘোষ।

বাংলাভাষার প্রভাব সম্পর্কে আলতাফ শাহনেওয়াজ বলেন, একাত্তরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাকামী জনসমুদ্রে দেয়া ভাষণে বলেছিলেন, ‘তোমরা আমাদের দাবায় রাখতে পারবা না।’ এটা ছিল আমাদের অঞ্চলের একেবারে নিজস্ব ভাষা। চাষী, মজুর ও শ্রমিকের মুখের কথা ছিল এমনই। তাই সেই কথা মানুষের মাঝে আলোড়ন তুলেছিল।

বক্তারা আরও বলেন, ভাষার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে মুক্তবাজার অর্থনীতির আধিপত্যবাদ। উদাহরণস্বরূপ গারো বা চাকমা ভাষার ওপর যখন বাংলা ভাষা প্রভাব বিস্তার করে তখন সেটা হয় আধিপত্যবাদের ফসল।

শিশুদের জন্য গল্প শোনার আসর ॥ সকালে একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের জন্য গল্প শোনার আসর। এতে বিভা সিদ্দিকি ও ফারজানা আহমেদের স্নিগ্ধ কণ্ঠে বইয়ের পাতায় থাকা গল্প শুনে মুগ্ধ হয়েছে শিশুরা। শিশুদের পড়ে শোনানো হয় ‘বংকু দ্য সুপার ডগ’ ও ‘বনের গল্প’। কথকদের উপস্থাপনায় শিশুরা এ সময় হারিয়ে যায় গল্পের ভুবনে।

শুরুতেই বিভা সিদ্দিকি বলেন বংকু নামে এক কুকুরের গল্প। বংকু সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব করে। তার প্রিয় বন্ধু মোঙা নামের একটি বিড়াল। কুকুর-বেড়ালের মাঝে বন্ধুত্ব; একটি অবাস্তব ব্যাপার হলেও বংকু বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিক করে নেয়। একদিন মোঙাকে কিছু দুষ্ট কুকুর ভয় দেখায়। তখন তাদের সঙ্গে ঝগড়া করে বংকু তার বন্ধু মোঙাকে রক্ষা করে। এরপর থেকেই সে পরিচিত হয়ে ওঠে সুপার ডগ হিসেবে। দুষ্ট কুকুরগুলো আর কখনই মোঙাকে বিরক্ত করেনি।

গল্প শুনে মুগ্ধ দুই খুদে প-িত উঠে আসে মঞ্চে। তারা বংকুকে নিয়ে তাদের অনুভূতির কথা দর্শক শ্রোতার সামনে তুলে ধরে। ‘বনের গল্প’র মাধ্যমে ফারজানা আহমেদ শোনান মাম্বা ও অলস বিড়ালদের গল্প। মাম্বা হচ্ছে একটি দয়ালু বানর আর অলস বিড়ালরা হচ্ছে রুশি, পুশি ও টুসি। সব সময় মাম্বা এ তিনটি বিড়ালের খাবারের ব্যবস্থা করে। তবে একদিন হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় মাম্বা। তখন ক্ষুধার্ত রুশি, পুশি ও টুসি বাধ্য হয়ে খাবারের খোঁজে বের হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে দেখা হয় বক, খরগোসসহ কিছু কর্মঠ প্রাণীর।

গল্প শেষে শিশুদের জন্য ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। অনুষ্ঠানে আগত বিভিন্ন স্কুলের শিশুরা এ সময় লেখকদের মজার মজার সব প্রশ্ন করে।

সমাপনী দিনের অন্যান্য অধিবেশন ॥ শনিবার সকাল ৯টায় উজান ভাটি শিল্পীগোষ্ঠীর মারফতি গানের পরিবেশনায় শুরু হয় লিট ফেস্টের শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘উইমেন, আর্ট এ্যান্ড পলিটিক্স’ শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নেন এসথার ফ্রিউড, নন্দনা সেন, বিওগা কোল, সাদাফ সায। পরে বেলা সোয়া ১১টায় এই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পলের ‘দ্য স্টোরি অব কোহিনূর’ শিরোনামের অধিবেশন।

দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘দ্য সিজন ইন কুয়েন্সি : এ ট্রিবিউট টু জন বার্গার’ সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন অস্কারজয়ী স্কটিশ অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন। কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে সকাল ১০টায় ‘ব্লোন টু বিস’ শিরোনামের অধিবেশনে যোগ দেন ক্যাথেরিন লেকে, করণ মহাজন। এরপর বেলা সোয়া ১১টায় ‘কমিউনিজম এ্যান্ড জিওনিজম : আনএক্সপেকটেড ফিউচারস’ শিরোনামে অধিবেশনে অংশ নেন চার্লস গ্লাস, রিচার্ড লয়েড পেরি, কাজী নাবিল আহমেদ, ডমিনিক জিগলার। দুপুরে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি লুকিং ব্যাক’ শীর্ষক অধিবেশনে ফেরদৌস আজিম ও ফখরুল আলম উপস্থিত ছিলেন। ‘গঙ্গাস’ : এ রিভার রানস থ্রু ইট’ শিরোনামের সেশনে অংশ নেন ভিক্টর মালেট।

লনে সকালে ‘পেন : মেজারড স্পিচ’ শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নেন জন ম্যাকিনসন, এ্যান্ড্রু ফাইনস্টান, সি আর আব্রার, জাস্টিন রুলাট ও জয়তী মালহোত্রা। ‘চেজলেস চ্যাটার অব ডেমনস’ শিরোনামের অধিবেশনে বক্তৃতা করেন অশোক ফেরি। ‘সিরিয়া : ওয়ার উইদআউট এ্যান্ড’ শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নেন চার্লস গ্লাস ও আজিম ইব্রাহীম। ‘উই নিড টু টক এ্যাবাউট শ্রিবার’ শিরোনামে অধিবেশনে অংশ নেন ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক লিওনেল শ্রিবার। ‘মিছিলের দিনগুলো : মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কবিতা’ শিরোনামের আয়োজনে কবিতা পাঠ করেন হেলাল হাফিজ।

ভাস্কর নভেরা এক্সিবিশন হলে ‘ডিসপ্লেসমেন্ট’ অধিবেশনে অংশ নেন ডেভিজ সেজলি ও জেসি বল। ‘নাইনটিন সেভেনটি ফোর : দ্য সাইলেন্ট ইয়ার’ শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নেন নওমি হোসেন ও সৈয়দ বদরুল আহসান। ‘পেন : কলমকে কেন এত ভয়’ শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নেন লাভলি বাশার, বলারি সেন, আহমেদ মোস্তাফা কামাল। ‘দ্য ইনভিজিবল ইউনিভার্স’ শিরোনামের সেশনে অংশ নেন বেলাল বাকি।

কসমিক টেন্টে আট থেকে চৌদ্দ বছরের শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ‘ফান ম্যাথ ফর কিডস’। এই আয়োজনটিতে অংশ নেন নন্দনা সেন। ‘ডটারস অব জোড়াসাঁকো’ শিরোনামের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এরপর। ‘ধর্ষণ- পৌরুষের ক্ষমতা, পৌরুষের অক্ষমতা’ অধিবেশনে কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, রিতা দাস রায়, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, বিনা বিশ্বাস অংশ নেন।

নজরুল মঞ্চে সকালবেলায় ছিল ‘পরান দ্য পোস্টম্যান’ শিরোনামের কবিতার আসর। পরে ‘স্বরচিত কবিতা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি’-শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নেন জহরসেন মজুমদার ও জুয়েল মাযহার।

উৎসব আয়োজনের তথ্য ॥ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন করে যাত্রিক। উৎসব পরিচালনা করেন কথাসাহিত্যিক কাজী আনিস আহমেদ, কবি সাদাফ সায্্ সিদ্দিকী ও কবি আহসান আকবার। উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন, সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: