১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এই সময়ে ত্বকের যত্ন


এই সময়ে ত্বকের যত্ন

যারা এগুলোকে রুচিসম্মত মনে না করেন তারা যেকোন একটি উৎকৃষ্ট সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কোন সানস্ক্রিন আপনি ব্যবহার করবেন? এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনার ত্বকের রং বিবেচনায় আনতে হবে। যে ত্বকের রং যত সাদা সে ত্বক সূর্যালোকে তত বেশি নাজুক। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে ত্বকের নানাবিধ সমস্যা। তাই এখন থেকেই শুরু হোক ত্বকের বাড়তি যত্ন। এতে শীতের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বককে করবে মসৃণ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করুন

শীতে ত্বকের যএই সময়ে ত্বকের যত্নর শুরুতে একটি ভাল ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। বাজার থেকে বাদাম তেল বা এভাকাডো সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার কিনুন। এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যতবার ত্বক শুষ্ক মনে হবে ততবার ব্যবহার করুন।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

শীত আসছে বলে ভাববেন না যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীতা কমে গেছে। শীতকালেও বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে এসপিএফ ১৫-৩০ সম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

আর্দ্রতা বজায় রাখুন

শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে মাঝে মাঝে মুখে পানির ঝাপটা দিন। সহজে ত্বক শুষ্ক হবে না।

অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। আর গোসলের সময় আরাম অনুভব হলেও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মুখ, মাথা ধোয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অতিরিক্ত গরম পানি মুখের ত্বকের ফলিকলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে যা ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। গোসলের সময় পানিতে কয়েক ফোঁটা জোজোবা বা বাদাম তেল দিয়ে নিলে তা ত্বককে আর্দ্র এবং মসৃণ করতে সহায়তা করে।

ভেজা ত্বকের পরিচর্যা করুন

গোসলের পর এবং প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

ঠোঁটের পরিচর্যা

কখনোই জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিত নয়। কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট কখনোই ফেটে যাবে না।

মেকআপ করার সময়

মেকআপ করার সময় লিক্যুইড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। শীতকালে ক্রিম ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

চুলের যত্নে

শীতকালে কখনোই ভেজা চুলে বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। এতে করে চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয় এবং চুল ভেঙ্গে যায়।

হ্যাট পরুন

চুল এবং মাথার তালুর আর্দ্রতা ধরে রাখতে হ্যাট পরতে পারেন। তবে হ্যাটটি যাতে বেশি টাইট না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

হাত ও পায়ের যত্ন

হাত এবং পায়ের আর্দ্রতা ধরে রাখতে যতবার প্রয়োজন ততবার লোশন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

প্রাকৃতিক উপায়ে রূপচর্চা

রূপচর্চায় প্রাকৃতিক পদ্ধতিই সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। কারণ এতে কোন ক্ষতিকারক দিক নেই। তবে কোন ত্বকে কেমন যত্ন প্রয়োজন তা আগে থেকেই জানা থাকতে হবে। আর প্রতিদিনের কাজের ব্যস্ততায় একটুখানি সময় বের করে নিজের যত্ন নিতে হবে। প্রাকৃতিক উপায়ে যতে্নর রয়েছে বেশ কয়েকটি ধাপ। এর মধ্যে ক্লিনজিং, ম্যাসাজ, স্ক্রাবিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দিনে অন্তত চার পাঁচবার মুখে পানির ঝাপটা দিন, পানি হলো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। মুখে সাবান ব্যবহার করবেন না। মুখ ধোয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন বেসন। কাঁচা দুধের মধ্যে পাউরুটি ভিজিয়ে সেটা দিয়েও মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। সাবানের ক্ষার জাতীয় পদার্থ ত্বকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে ত্বককে করে তোলে শুষ্ক ও প্রাণহীন। সাবান যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে চন্দনযুক্ত বা নিমযুক্ত হারবাল সাবান ব্যবহার করুন। ত্বক পরিষ্কার করার পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

এ্যালোভেরা, মঞ্জিষ্ঠা, চন্দনের গুঁড়া, মসুর ডালের গুঁড়া মিশিয়ে প্রাকৃতিক ক্লিনিং স্ক্রাব তৈরি করুন। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য এই স্ক্রাব ব্যবহার করুন। শুধু মুখে নয়, চাইলে সারাশরীরেও ব্যবহার করতে পারেন এই স্ক্রাব। ত্বকের ধরন শুষ্ক হলে স্ক্রাবের সঙ্গে পানির বদলে ব্যবহার করুন দুধ বা দই। তৈলাক্ত ত্বক হলে স্ক্রাবের সঙ্গে মেশান লেবুর রস ও গোলাপজল। যাদের ত্বক পরিণত এবং বলিরেখার ছাপ পড়েছে তারা আমন্ড তেল ও পানি মিশিয়ে স্ক্রাব ব্যবহার করুন।

স্ক্রাবের ব্যবহারে ত্বকের মৃত কোষ ও ব্ল্যাকহেডস দূর হয়। প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে আতপ চালের গুঁড়া, মসুর ডালের গুঁড়া, এক চিমটি কর্পূর আর গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সারা মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর হালকা করে ঘষে তুলে ফেলুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালভাবে ধুয়ে নিন।

ম্যাসাজের জন্য এসেনশিয়াল অয়েল খুবই কার্যকর। সাধারণ ত্বকের জন্য জোজোবা বা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে ল্যাভেন্ডার, জেরেনিয়াম বা জেসমিনের তেল মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জোজোবা অথবা সূর্যমুখী তেলের সঙ্গে লেবু ও কয়েক ফোঁটা নিম বা চন্দনের তেল মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু ও জুঁই ফুলের তেল মিশিয়ে ম্যাসাজ করুন। ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের ক্ষেত্রে জোজোবা অয়েলের সঙ্গে ল্যাভেন্ডার অয়েল, নিম তেল, চা গাছের তেল ও লেবুর তেল মিশিয়ে ম্যাসাজ করলে উপকার পাবেন।

ম্যাসাজের পর হারবাল স্টিম নিলে ত্বক হয় সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। দুই লিটার গরম পানিতে এক কাপ পরিমাণ উপাদান মিশিয়ে মুখে ভাপ নিন। ভাপ নেবার সময় তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। সাধারণ বা মিশ্র ত্বকের জন্য গরম পানিতে চন্দনের গুঁড়া, তেজপাতা ও তুলসী পাতা দিন। তৈলাক্ত ত্বক হলে গরম পানিতে লেবুর খোসা, লবঙ্গ ও ইউক্যালিপটাসের তেল। শুষ্ক ত্বকের জন্য পানিত মিশান লবঙ্গের গুঁড়া, পুদিনা পাতা ও রোজ অয়েল।

স্টিম নেয়ার পর মুখে মাস্ক বা ফেসপ্যাক লাগানো জরুরী। মাস্ক বা বিউটিপ্যাক ত্বকের গভীরে ঢুকে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে। ফলে ব্ল্যাকহেডস বা ব্রণের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়।

মডেল : এলিন, ছবি : নাঈম ইসলাম