২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রত্নসমৃদ্ধ ও পর্যটন এলাকার চিত্র তুলে ধরা হয় না দেশ-বিদেশে


প্রত্নসমৃদ্ধ ও পর্যটন এলাকার চিত্র তুলে ধরা হয় না দেশ-বিদেশে

সমুদ্র হক ॥ পর্যটকরা দেশের কয়েকটি প্রত্নসমৃদ্ধ ও পর্যটন এলাকার কথাই জানে। এর বাইরে বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় কোন না কোন পর্যটন স্পট এবং সমৃদ্ধ প্রত্নসম্পদের যে ভা-ার আছে বহির্বিশ্বে তার পরিচিতি কমই তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর ভূমিকাও আশাব্যঞ্জক নয়। এদিকে দেশে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কক্সবাজার ছাড়া প্রতœসমৃদ্ধ ও পর্যটন এলাকায় কোন ট্যুরিস্ট পুলিশ নেই। ট্যুরিস্ট পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। দেশে পর্যটনের নীতিমালা আছে তবে আইন নেই। পর্যটনকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার পরও এ শিল্পে গতি আসেনি। পর্যটক আগমনের হার বাড়েনি। এর মধ্যেই আজ (বুধবার) পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এবাররে প্রতিপাদ্য ‘টেকসই পর্যটন, উন্নয়নের মাধ্যম’।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের একজন কর্মকর্তার মতে, প্রত্নসমৃদ্ধ এলাকায় পর্যটকদের আগমনে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ বেশিরভাগ প্রত্ন এলাকা গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে। হালে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। পর্যটকদের যাতায়ত ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভাল। তবে প্রত্ন এলাকায় পর্যটকরা থাকতে চাইলে উন্নত রেস্ট হাউস, হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তরাঁ নেই। বগুড়ার মহাস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের ছোট রেস্ট হাউস আছে। মহাস্থানগড়ে পর্যটকদের অবকাশযাপনের জন্য দৃষ্টিনন্দন বেশকিছু অবকাঠামো স্থাপনা ও পর্যটন রেস্তরাঁ গড়ে তোলা হয়েছে। তবে আবাসন ব্যবস্থায় হাতেগোনা কয়েকজনের থাকার জন্য আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের ছোট রেস্ট হাউস। পর্যটকদের বেশিরভাগ প্রত্নসমৃদ্ধ এলাকা দেখতে গিয়ে জেলা শহরে অবস্থান করে। পর্যটন ও প্রত্ন এলাকাগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের কোন সেন্টার বা ফাঁড়ি নেই। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন নগরী পু-্রনগর খ্যাত বগুড়ার মহাস্থানগড়ের পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোন ট্যুরিস্ট পুলিশ নেই। বগুড়ার পুলিশ সুপার জানালেন, এখানে কোন ট্যুরিস্ট পুলিশ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে স্থানীয় থানা পুলিশ নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে যায়। পর্যটকদের জন্য গাইডের ব্যবস্থাও দুর্বল। পর্যটকরা বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার পর ওই এলাকার পরিচিতি কৃষ্টি বুঝে নেয়ার জন্য কোন গাইড পান না। পর্যটন কর্পোরেশন গাইডের ব্যবস্থা করে না। পর্যটকরা এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা আকারে-ইঙ্গিতে যা বলেন তা থেকেই কিছু বুঝে নেয়ার চেষ্টা করেন।

বগুড়ার মহাস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির ও বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকায় পর্যটক আকর্ষণে অবকাশ কেন্দ্র, বাংলো বাড়ি, রেস্তরাঁ, উন্নত পথঘাট, বসার স্থান, দৃষ্টিনন্দন কার্যক্রমসহ অনেক কিছু নির্মিত হয়েছে। সাউথ এশিয়া ট্যুরিজম ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ব্যয় হয় ১৫ মিলিয়ন ডলার, যার ১২ মিলিয়ন ডলার যোগান দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। এসব এলাকায় দেশী-বিদেশী পর্যটকরা আসছেন। তবে যে হারে পর্যটক আগমনের কথা তা নেই। নিত্যবছর যে হারে আগমন ঘটে তারচেয়ে সামন্য বেড়েছে।

এদিকে, পর্যটক বাড়াতে ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে ৬০টি দেশের পর্যটকদের ‘অন এ্যারাইভাল ভিসা’ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পার্শ¦বর্তী দেশ ভারত নেই। এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতকে অন এ্যারাইভাল ভিসা দেয়া হলে এবং ভারতও বাংলাদেশের পর্যটকদের অন এ্যারাইভ্যাল ভিসা দিলে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে দুই দেশেই পর্যটক বাড়বে। পর্যটন এমন একটি শিল্প যেখানে পর্যটক আমদানিতে অর্থ দিতে হয় না। দেশী-বিদেশীরা এসেই অর্থ দিয়ে যান। বাড়ে বৈদেশিক মুদ্রা। বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হয়।

এক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে অভ্যন্তরীণ পর্যটক ছিল প্রায় ৪০ লাখ আর বিদেশী পর্যটক এসেছিলেন প্রায় চার লাখ। আশা ছিল পরবর্তী বছরে (২০১৬) অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে এক কোটিতে এবং বিদেশী পর্যটক ১০ লাখে উন্নীত হবে। এ টার্গেট পূরণ হয়নি। চলতি বছরও উল্লেখযোগ্য হারে পর্যটক আসেনি। সূত্র জানায়, পর্যটক আগমনের যে আশা ছিল তারচেয়ে কিছুটা বেড়েছে। শীত মৌসুমে পর্যটকদের আগমন বেড়ে যায়। দেশে শীত মৌসুম কার্যত শুরু হয় মধ্য নবেম্বর থেকে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকে শীতের আমেজ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: