মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সাইবার নজরদারির জন্য নতুন প্রকল্প চালু হচ্ছে

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬
  • ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় শ’ কোটি টাকা

ফিরোজ মান্না ॥ নবগঠিত টেলিযোগাযোগ অধিদফতর (ডট) শুরুতেই দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সাইবার থ্রেট ডিটেকশন ও রেসপন্স’ নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তারা রাষ্ট্রের যে কোন ব্যক্তির অনলাইন কার্যক্রমসহ ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ তদারকির সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমসহ সব ধরনের ওয়েবসাইট থেকে যে কোন কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতাও পাবে তারা। যদিও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিটিটিবি-বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিটিসিএলের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত অধিদফতরে সাইবার নিরাপত্তা কিংবা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কোন বিশেষজ্ঞ না থাকলেও এ ধরনের জটিল প্রযুক্তিগত প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন অধিদফতরে প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে।

ডটের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫০ কোটি ৫১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের পুরো অর্থের যোগান দেয়ার কথা বলা হয়েছে সরকারী তহবিল থেকে। প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার কেনার জন্য ১২৫ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বাকি ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হবেÑ সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, পুনর্বাসন ও জীপ কেনা বাবদ।

পরিকল্পনা কমিশনের বৈঠকে বলা হয়Ñ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে সাইবার নিরাপত্তা কর্মসূচীর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও নবগঠিত টেলিযোগাযোগ অধিদফতরের অধীনে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তা দেয়ার কোন যুক্তি নেই। অধিদফতর গঠিত হয়েছে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিটিটিবিতে থাকা টেলিকম ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন এবং অবসর সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য। এর বাইরে কিছু প্রশাসনিক কাজকর্মের বিষয় রয়েছে। সক্ষমতা ছাড়াই অধিদফতরের এ ধরনের ব্যয়বহুল জটিল কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন প্রশ্ন তুলেছে। প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দের প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রও নেয়নি টেলিযোগাযোগ অধিদফতর। প্রকল্প প্রস্তাবটি আরও পর্যালোচনা করে উপস্থাপনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, কমিশন কোন ধরনের দ্বৈততা চায় না। এজন্য সাইবার নিরাপত্তা মোকাবেলার কাজটি কাদের কর্মপরিধির মধ্যে পড়ে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, এখন প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। তবে এমন একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে, তা ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও জানেন না। তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে টেলিযোগাযোগ অধিফতরের কোন কর্মকর্তাই আলোচনা করেননি। জনস্বার্থে প্রয়োজন না হলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে কোন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেয়া হবে না বলে তিনি বলেন।

প্রকল্প প্রস্তাবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে চার ধরনের কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সব ওয়েবসাইট থেকে বাংলাদেশের অনুপযোগী কনটেন্ট অপসারণ করা হবে, সরকার বা অন্য কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়েবসাইটে প্রবেশে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা, চিহ্নিত অপরাধীদের ইন্টারনেটে গতিবিধি তদারকি করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে সহায়তা দেয়া এবং প্রাইভেট আইপি এ্যাড্রেস ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিতকরণ।

জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যে কোন ওয়েবসাইট থেকে যে কোন বিষয়বস্তু অপসারণ এবং অনলাইনে যে কোন ব্যক্তির কার্যক্রম মনিটরিংয়ের ক্ষমতা পাবে টেলিযোগাযোগ অধিদফতর। ফলে অনলাইনে নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যন্ডউইথে অতিরিক্ত চাপের কারণে ইন্টারনেটের গতি গ্রাহকপর্যায়ে কমে যেতে পারে। পরিকল্পনা কমিশন বৈঠকে বলা হয়, পরিকল্পনা কমিশন নাগরিক স্বাধীনতা ও ইন্টারনেটের গতির ওপর জোর দিয়ে প্রকল্প প্রস্তাবটি ফেরত পাঠিয়েছে।

ডটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশেই টেলিযোগাযোগ অধিদফতর শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই টেলিযোগাযোগ অধিদফতরের ক্ষমতা টেলিযোগাযোগের যে কোন প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়া এ প্রকল্পে মনিটরিং কার্যক্রমে ব্যবহƒত যন্ত্রপাতিগুলো এমনভাবে স্থাপনের কথা বলা হয়েছে, যার ধারণক্ষমতা ইন্টারনেট গেটওয়ের চেয়ে বেশি। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিকল্প যন্ত্রের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে একটি নষ্ট হলে আরও একটি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। ইন্টারনেটের গতিতে যেন প্রভাব না পড়ে সেজন্য বাইপাস সংযোগেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কারণে ইন্টারনেটের গতি কমবে না। ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়ে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিদের্শনা অনুযায়ী অধিদফতর ব্যবস্থা নেবে। এখানে ডট নিজে থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেবে না। সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত পেলেই অধিদফতর কাজ করবে।

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা নামে একটি কর্মসূচী তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে আগে থেকেই বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা’ নামে একটি সংস্থা গঠন করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে একটি গাউডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। ডটও যদি একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে বসে থাকতে হবে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে হলে ডটের সব ধরনের অবকাঠামো তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হবে। অথচ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তার জন্য অনেক আগে থেকেই অবকাঠামো রয়েছে।

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬

২৭/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: