১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানে প্রাণ হরণ


আবার পাকিস্তানে প্রাণ হরণ হলো। এবার উগ্রবাদীদের শিকার হয়েছে মানবাধিকার কর্মী, সাবেক গণমাধ্যম সাংবাদিক ও অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট বা ব্লগার। করাচীর একটি রেস্তরাঁয় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে গবেষক, ইসলামবিষয়ক প-িত এবং একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে একদা যুক্ত থাকা মানবাধিকার প্রবক্তা চল্লিশ বছর বয়সী খুররম জাকিকে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় তার আরও দুই সাংবাদিক বন্ধু আহত হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রচারে অংশগ্রহণকারী জাকি উদার ধর্মীয় মতামত প্রচারকারী এবং যে কোন জঙ্গী বা উগ্রপন্থার ঘোরবিরোধী ছিলেন। পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত জাকি সে দেশের শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রবহির্ভূত বিভিন্ন সহিংস গোষ্ঠীর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ ছিলেন। ইসলামের একটি উদার ব্যাখ্যাদানে সচেষ্ট ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। গত বছর ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারে স্কুলে হত্যাকা-ের প্রথম বার্ষিকীতে করাচীর লাল মসজিদের সামনে সরকারী বাধা উপেক্ষা করে স্ত্রী-কন্যাসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল আজিজ ওই হত্যাকা-কে সমর্থন করেছিলেনÑ এমনকি তিনি শিয়াদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এর সপক্ষে ভিডিওসহ থানা, আদালত, হাইকোর্টে মামলা করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। অপরদিকে লাল মসজিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ এনে মাওলানার মামলা আদালত গ্রহণ করেছে। শিয়াদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে পরিচালিত সহিংসতার বিষয়গুলো সবার দৃষ্টিতে আনার জন্য সচেষ্ট ছিলেন এই মানবাধিকার কর্মী। গত তিন দশকের বেশি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা পরিচালনা করছে। জাকি এসবের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠ। কিন্তু তার সেই কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই পাকিস্তানী বর্বররা একাত্তর সালেও বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। এখন নিজ দেশেও অব্যাহত রেখেছে নানা আবরণে।

এ বছরের গোড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, পাকিস্তানই সন্ত্রাসবাদের স্বর্গ। তিনি মনে করেন, আগামী একদশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই অস্থিরতা চলবে। সন্ত্রাসবাদীদের নতুন স্বর্গ হয়ে উঠবে পাকিস্তান। পাকিস্তান নামক অকার্যকর রাষ্ট্রে গুপ্তহত্যা, গণহত্যা, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা, ইত্যাকার পদ্ধতির হত্যাকা- চলে আসছে। অধিকাংশ সন্ত্রাসী হামলা ও উপদলীয় খুন ধর্মীয় মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ। লস্কর-ই তৈয়বা, তেহরিকই তালিবানসহ জঙ্গীগোষ্ঠীগুলো ইসলামের নামে তাদের জঙ্গী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আফগান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ মদদ ও আর্থিক সহায়তায় পাকিস্তানে মুজাহিদীন ও পরে তালেবান নামক জঙ্গীগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও মৌলবাদীগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব পাকিস্তানকে জঙ্গী ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সেনাবাহিনী এ জঙ্গীদের মদদদাতা হিসেবে কাজ করছে। পুরো দেশটিই আজ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত। সেখানে মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। কেবল সুশীল সমাজ, সাংবাদিকরাই একমাত্র আলো প্রজ্বলন করে আসছেন শত প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে। এই প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা গেলে তার আলোয় ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানের জঙ্গী ও সন্ত্রাসমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। বিশ্ববাসী যদি পাকিস্তানের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের পাশে দাঁড়ায়, তবে সে দেশ ও দেশের মানুষ সভ্যতায় ফিরে আসতে পারে।