মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জনতার মঞ্চ-ফিরে দেখা

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬
  • ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১৯৯৫-এর শেষ থেকে দেশে দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার দাবি উত্থাপন করে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৎকালীন জোট সরকারের আমলে যেসব উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে ব্যাপক কারচুপি বন্ধকরণে খালেদা জিয়া কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন নির্বাক ও লজ্জাকর পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করে। এ সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি অগ্রাহ্য করে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচন বর্জন করে। এই নির্বাচনে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন খালেদা জিয়ার আজ্ঞাবহ ক্রীড়নক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক নজিরবিহীন লজ্জাকর পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে। তাদের এই ভূমিকায় তৎকালীন সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী সকল নির্বাচনী এলাকায় ভোটের তামাশা অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারী দল বিএনপি ৩০০, ৭ দলীয় ঐক্য জোট ৯৮, ফ্রিডম পার্টি (ফারুক) ৬৭, খেলাফত আন্দোলন ৫৪, এনডিএ ৫০ এবং স্বতন্ত্র ৪৫৭ জনসহ ১৪৯৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন বলে বিদিত হয়। এই প্রক্রিয়ার সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে সক্ষম হননি। খালেদা জিয়ার সন্ত্রাসী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত তল্পিবাহক স্থানীয় প্রশাসন, মেরুদ-হীন নেতৃত্বের অধীনে নিরাপত্তা বাহিনী ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের নীরব সম্মতিক্রমে ভোটকেন্দ্র দখল করে, বিএনপি ও তার অনুগামী রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীর অনুকূলে ব্যালট কাগজে সিল মেরে ব্যালট বক্স ভরে এবং সবশেষে ভোট গণনায় কারচুপির মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করে। কারচুপির ভোট গণনা শেষে বলা হয় যে, এই নির্বাচনে শতকরা ৯১.২২ ভাগ ভোট পড়েছে।

পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে এত উঁচু হারে ভোট কখনও দেয়া হয়নি। কারচুপির এই নির্বাচনে ৪৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়াসহ বিএনপি ২৮৯ এবং অন্যান্য দল ১১টি আসন লাভ করে বলে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রচার করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই প্রহসনের নির্বাচন সম্পর্কে বলেন যে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে তার স্বভাবসুলভ একগুঁয়েমির ওপর ভর করে তড়িঘড়ি সরকার গঠন করেন। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান ও খালেদা জিয়ার নবনির্বাচিত সরকারকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করে। দেশব্যাপী জনগণ এই কারচুপির নির্বাচন অনুষ্ঠান ও অবৈধ সরকার গঠনের প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে। জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ সারাদেশের প্রায় সকল জনপদে প্রতিবাদী সভা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। সারাদেশে এমনকি খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এলাকায়ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ঢাকায় শহীদ মিনার, শাপলা চত্বর, প্রেসক্লাব ও অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসব জনসমাবেশ ও প্রতিবাদী সভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হতে থাকে এবং জনগণ ও সরকারী কর্মচারীরা খালেদা জিয়া কর্তৃক নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের পদত্যাগ ও দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নতুন নির্বাচন দাবি করতে থাকেন। এর প্রেক্ষিতে সচেতন নেতাকর্মীর কাছে এসব বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদী সমাবেশ সমন¦য় করে অধিকতর একতার সঙ্গে এক বাক্যে প্রতিবাদ উচ্চারিত ও বিস্তৃত করার প্রয়োজন অনুভূত হয়।

এই পটভূমিকায় ৭ মার্চ সন্ধ্যায় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আওয়ামী লীগ নেতা খ ম জাহাঙ্গীর ও শিল্পীদের মুখপাত্র সৈয়দ হাসান ইমাম সুধাসদনে জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তৎকালীন সিভিল সার্ভিস প্রশাসনের মহাসচিব হিসেবে আমার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নেত্রীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন সহকর্মী রবিউল আলম মোক্তাদির চৌধুরী (এখন সংসদ সদস্য)। আমি তখন ছিলাম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য। পরিকল্পনা কমিশনে যোগ দেয়ার আগে খালেদা জিয়া সরকার আমাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কর্মবিহীন নিম্নতর জেলা গেজেটিয়ারের মুখ্য সম্পাদক হিসেবে নিযুক্তি দিয়েছিল। প্রশাসন সার্ভিসের প্রবল প্রতিবাদের মুখে তখন খালেদা জিয়া আমাকে পরিকল্পনা কমিশনে নিযুক্ত দিতে বাধ্য হন। মুনতাসীর মামুন, খ ম জাহাঙ্গীর ও হাসান ইমামের সঙ্গে আলোচনা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার নির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগের নগরনেতা মোহাম্মদ হানিফকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি একক মঞ্চ স্থাপন করে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং দাবি সমন্বিত ও সোচ্চারভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ অনুযায়ী ৯ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মোহাম্মদ হানিফ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্যগণ জনগণের সঙ্গে মিলে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও প্রতিবাদ করতে থাকেন।

১৩ মার্চ বিকেল থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক ধরে ও সচিবালয় ঘিরে ১৫ ফেব্রুয়ারির অবৈধ নির্বাচনের প্রতিবাদে এবং তার ভিত্তিতে খালেদা জিয়া কর্তৃক গঠিত অবৈধ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়। ঢাকায় কর্মরত আমরা প্রশাসনিক সার্ভিসের সদস্যরা আমাদের ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও অন্যান্য পেশাজীবী সহকর্মী ও সহযোগীরা বিভিন্ন চত্বরে ধর্মঘট ও প্রতিবাদ হেঁটে হেঁটে দেখতে থাকি। এই অবস্থান ধর্মঘট শুরু হওয়ার আগে সেখানে নাগরিক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে মুক্তি দেয়ার লক্ষ্যে সকলকে খালেদা জিয়ার অবৈধ সরকারকে বর্জন করার আহ্বান জানান। এই মহাসমাবেশ ছিল অসহযোগ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ঢাকার বৃহত্তম সমাবেশ। সেদিন শেখ হাসিনা লক্ষাধিক মানুষের সামনে খালেদা জিয়ার অবৈধ সরকার পতনের সূচনা করেন এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জনগণের সামনে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। মঞ্চের পেছনে কদম ফুলের ফোয়ারা পেরিয়ে সুপ্রীমকোর্ট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা, সামনে দৈনিক বাংলার মোড়, নূর হোসেন চত্বর থেকে বিজয়নগর সড়ক ও তার আশপাশের অলি-গলি, সচিবালয়ের চারদিকের সড়কাদি, প্রেসক্লাবের ভেতরের চত্বরসহ পুরো এলাকা সেদিন রূপান্তরিত হয়েছিল এক জনসমুদ্রে। লক্ষ মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল একই সেøাগান- ‘স্বৈরাচারী খালেদার পদত্যাগ চাই’। লাগাতার ধর্মঘট চলাকালে ঢাকাবাসী ধর্মঘটীদের জন্য নিয়ে এসেছিলেন পানি, চিড়া, গুড় ও অন্যান্য শুকনা খাবার। শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই মঞ্চ থেকে প্রচারিত হয় সংবাদ বুলেটিন ও উপস্থাপিত হয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও টেলিভিশনের শিল্পীদের গণজাগরণী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারাদেশের অসহযোগ আন্দোলনবিষয়ক সংবাদ বুলেটিন পাঠ করেন রামেন্দু মজুমদার ও রাশিদা মহিউদ্দিন (প্রয়াত)। সঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী ও জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোট। এই মঞ্চই তখন থেকে পরিচিতি লাভ করে জনতার মঞ্চ নামে। ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসের ঢাকার জনতার মঞ্চের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও প্রতিষ্ঠাতা এই প্রেক্ষিতে ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

এই মঞ্চকে ঘিরে লাগাতার ধর্মঘট ও জনতার প্রতিবাদ দেশের সকল স্থানে অসহযোগ আন্দোলন দৃঢ়তর করে। স্থান বিশেষে সরকারী অফিস, আদালত ও থানা ঘেরাও হতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ে, অফিস আদালত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক ও জনপথ জনগণ বন্ধ করে দেয়। রেল যোগাযোগ ব্যাহত হতে থাকে। এমনকি জেলে কয়েদিদের রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা সচিবালয়ে উপস্থিতি নিম্নতম পর্যায়ে নেমে আসে। এই অবস্থায় আমরা শতাধিক সরকারী কর্মকর্তা ঢাকা সচিবালয়ে বসে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করার সিদ্ধান্ত নেই। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্যদের মধ্যে আমার সঙ্গে প্রশাসনিক সার্ভিসের সদস্য মোক্তাদির চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব), আবু আলম শহীদ খান (অবসরপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব), ফজলুল আহাদ (অবসরপ্রাপ্ত সচিব) ছিলেন। আমরা অধিকাংশ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে ফোনে কথা বলে উদ্ভূত জনরোষ থামানোর সম্ভাবনা ও উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করি। একইসঙ্গে অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের সদস্যরা ও পেশাজীবী সংগঠন যথা ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, সরকারী কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্যগণ ও শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতিতে কি করণীয় সে সম্পর্কে মতবিনিময় করি। এ ছাড়া ঢাকার তৎকালীন নির্বাচিত মেয়র হানিফ ও আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রাজ্জাক ও আহসান উল্লাহ মাস্টারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়।

১৫ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এভাবে যোগাযোগ ও আলোচনার আলোকে-

(১) আমরা সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার অন্য কোন বিকল্প নেই বলে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জানিয়ে দেয়া জনস্বার্থিক বলে মনে করি;

(২) সংবিধান ও নির্বাচন সংক্রান্ত আইনাবলি অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশকে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করার ভিন্নতর কোন উপায় নেই বলে ঐকমত্যে পৌঁছি; কোন সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রক্রিয়ায় কোন শাসকগোষ্ঠীর অবৈধ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট হবেন না বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছি;

(৩) ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রহসনমূলক নির্বাচনের ফল বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় ও পরিচালনায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে যথা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে নির্র্বাচন অনুষ্ঠিত করার প্রয়োজন সকলের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেই;

(৪) সংবিধান অনুযায়ী সকল সরকারী কর্মচারী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সে জন্য তাদের সংবিধানের বাইরে কোন ক্ষমতা দখলকারীর সহযোগী হওয়া কিংবা অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত কোন স্বঘোষিত সরকারের নির্দেশ মেনে চলা সঙ্গত হবে না বলে স্থির করি;

(৫) দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরণের লক্ষ্যে আমরা সকল এলাকার জনগণকে বিভিন্ন অধিদফতর ও পরিদফতর এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুশাসন দেয়া বিধেয় বলে মনে করি; এবং

(৬) সকল স্তরের সরকারী প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনাকে কোন চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে সংবিধান, বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী জনগণের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করে যথা প্রয়োজন কর্মকরণে অনুশাসন দেই।

আমরা ঢাকায় কর্মরত সরকারী কর্মচারীদের বিভিন্ন এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসেবে প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে জনতার মঞ্চের কার্যাবলি ও অনুষ্ঠান দেখি এবং আমাদের তরফ থেকে আলোচনার মাধ্যমে উপরোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ জানিয়ে দেই। আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, মেয়র হানিফ, শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ অন্য নেতারা বলেন যে আমাদের নেয়া অবস্থান ও সিদ্ধান্তসমূহ জনগণকে প্রকাশ্যে জানিয়ে দেয়া কর্মানুগ হবে। ২৩ মার্চ আমাদের সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচীর সমর্থনে সচিবালয়ের কার্য প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান অনুযায়ী আমরা দেশব্যাপী কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিই। এদিন খালেদার তথাকথিত মন্ত্রিসভায় নবনিযুক্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আমানুল্লাহ আমান ডেমরা থানার ছাত্রদলের সভাপতি সন্ত্রাসী মোজাম্মেল ও জামালসহ সচিবালয়ে তাদের তালাবদ্ধ অফিস কামরায় জোর করে ঢুকতে চেয়ে কর্মচারীদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হন। সচিবালয়ে তাদের অফিসে ঢোকার পথে তেমনি বাধাগ্রস্ত হন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান ও পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস। কর্মচারী সমন¦য় পরিষদ থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে এদের মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাৎক্ষণিক অপসারণ দাবি করা হয়। আমরা একমত হয়ে ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় আমাদের স্ব-স্ব বাসায় ফিরে যাই। এই ফিরে যাওয়ার সময় আমাদের কয়েকজন সহকর্মীর ওপর বিএনপির গু-ারা আক্রমণ করে। ফলে এর পরে প্রতি রাতে আমরা আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হই।

২৩ মার্চ রাত ৩টার দিকে বিএনপির গু-াদল ও পুলিশ বাহিনী একযোগে আক্রমণ করে জনতার মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়। জনতার মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়ার সময়ে জনতার সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মঞ্চে তখন অবস্থানরত অন্যদের মধ্যে জননেতা তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী এবং শাজাহান খান (এখনকার নৌপরিবহনমন্ত্রী)। প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বিধ্বস্ত জনতার মঞ্চের নিচে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন এবং স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন। এই খবর আমাদের কাছে পৌঁছলে আমরা সচিবালয় থেকে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনতিবিলম্বে জনস্বার্থে জনতার মঞ্চে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হই যে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুগ সরকার প্রতিষ্ঠাকরণের দাবিতে আমরা অনড় থাকব এবং ওইভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকার ছাড়া অন্য কোন অবৈধ গোষ্ঠীর বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করব না।

এমনিভাবে আমরা দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ হয়ে ১৯৮৮ থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে সিভিল সার্ভিস প্রশাসনের তরফ থেকে আমরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করেছিলাম। ওই সময়কার প্রতিরোধের মূল প্রতিপাদ্য ছিল সকল সরকারী কর্মচারী ব্যক্তিবিশেষের নয় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং সে জন্যে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারী আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে জনস্বার্থে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন (দ্রষ্টব্য : বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, মুনতাসীর মামুন ও জয়ন্ত কুমার রায়)।

আমরা সচিবালয়ের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এসব বিষয়ে অবহিত করতে ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি সভা আহ্বান করি। আমাদের প্রস্তাবিত এই সভা যাতে সচিবালয়ের ভেতরে অনুষ্ঠিত হতে না পারে সে জন্য সরকার বা সরকারের যে অবশিষ্টাংশ তখনও কার্যরত ছিল তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আওতায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সচিবালয়ে এর আগে কোনদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুয়ায়ী সমাবেশের ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয়নি। আমরা তৎকালীন সরকারী কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ মহিউদ্দিন, মহাসচিব সৈয়দ আতাউর রহমান ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে ১৪৪ ধারায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমাদের সভা অনুষ্ঠিত করি। এই সভায় অন্যদের মধ্যে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপিত করেন কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ মহিউদ্দিন এবং প্রশাসন সার্ভিসের অন্যতম মুখপাত্র ইব্রাহিম হোসেন খান, ফজলুল আহাদ ও আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান। তাদের বক্তব্য অনুরণন করে উপসংহারে আমি সচিবালয়ে কর্মরত সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের প্রেসক্লাবের সামনে তার আগের রাতে বিধ্বস্ত জনতার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের সকল কর্মচারী কর্মকর্তার তরফ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনমূলক নির্বাচনের ফল এবং তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে জনগণের দাবির সঙ্গে প্রজাতন্ত্রে কর্মরত কর্মচারী হিসেবে আমাদের দাবির সমার্থতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণার আহ্বান জানাই। আমি বলি যে জনতার মঞ্চ যাতে আর কোন দুর্বৃত্ত তছনছ না করতে পারে তার জন্য আমাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। বক্তৃতার পর আমি ফজলুল আহাদ, মোক্তাদির চৌধুরী, আবু আলম শহীদ খান, সৈয়দ মহিউদ্দিন ও অন্য সহযোগীদের সঙ্গে মিছিল করে জনতার মঞ্চে পৌঁছি। আমাদের দেখাদেখি আশপাশের সকল সরকারী অফিস থেকে হাজার হাজার সহকর্মী তাদের স্ব-স্ব অফিস থেকে বেরিয়ে এসে জনতার মঞ্চে উপস্থিত হন। আর ঝড়ের বেগে চারদিক থেকে ছুটে আসে লাখো জনতার ঢল। এই সময়ে জনতার মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরের নির্বাচিত মেয়র মোঃ হানিফ, আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা আবদুর রাজ্জাক (প্রয়াত) এবং মতিয়া চৌধুরী ও শাজাহান খান।

অগণিত জনতা দিয়ে বেষ্টিত জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনতার স্বার্থের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আমি সরকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের তরফ থেকে সারাদেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা আইনানুগভাবে রক্ষা করার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারী বিভাগ ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই। আমাকে সমর্থন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক ফজলুর রহমান, শ্রমিক নেতা শাজাহান খান ও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রতিনিধি মমতাজ বেগম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. শাহাদাত আলী বক্তৃতা করেন। দুপুরের পর এ্যাডভোকেট শামসুল হক চৌধুরী, (সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি) এডাবের সভাপতি কাজী ফারুক আহমেদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, আইনজীবীদের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, শিল্পীদের প্রতিনিধি সৈয়দ হাসান ইমাম, সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ, অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, এ্যাডভোকেট আফসার উদ্দিন আহমদ, কৃষিবিদ ড. আবদুর রাজ্জাক ও প্রকৌশলী ইব্রাহিম মিয়া, চিকিৎসক সমিতির প্রতিনিধি ড. শারফুদ্দিন আহমদ (এখন প্রোভিসি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রখ্যাত শল্যচিকিৎসক ড. কাজী শহীদুল আলম (অবসরপ্রাপ্ত) ও অন্যরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সমাজের সকল অংশের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা দেন। সৈয়দ হাসান ইমাম ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনমূলক নির্বাচনে কথিত নির্বাচিত ৩০০ সাংসদসহ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংবিধান লঙ্ঘন করার জন্য বিচার দাবি করেন। সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল আহাদ চৌধুরী, সাংবাদিক শফিকুর রহমান, মেজর (অব) শাহ আলম একই দাবি উত্থাপিত করেন। এই সময়ে জনতার মঞ্চ হতে দেশব্যাপী প্রতিরোধ সংগ্রামের খবর পরিবেশন করেন বাবুল আখতার ও নীলুফার বানু, গণসঙ্গীত গেয়ে জনগণকে উজ্জীবিত করেন ফকির আলমগীর ও মলয় কুমার গাঙ্গুলী। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাতিল এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে চরমপত্র পাঠ করেন এম আর আখতার মুকুল (প্রয়াত)। সেই সন্ধ্যায় ২০ জন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা একই দাবিতে গণআন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান (অব) লে. জেনারেল আতিকুর রহমান, মেজর জেনারেল (অব) বীরউত্তম শফিউল্লাহ, মেজর জেনারেল (অব) চিত্তরঞ্জন দত্ত, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) বীরপ্রতীক সদরুদ্দিন, মেজর জেনারেল (অব) আনোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার (অব) শামসুদ্দিন আহমেদ, কর্নেল (অব.) শামসুল আলম, কর্নেল (অব) এসডি আহমদ, লে. কর্নেল (অব) আবু ওসমান চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান, লে. কর্নেল (অব) হাবিবুল্লাহ বাহার, ক্যাপ্টেন (অব) তাজুল ইসলাম। জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বীরউত্তম মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বলেন যে, ২৫ বছর আগে তারা সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর ডাকে জনতার কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তেমনি সকলের জন্য জনতার ডাকে সাড়া দিয়ে অবৈধ সরকারের নির্দেশ অমান্য করার সময় তখন এসেছে।

সচিবালয়ে সরকারী ও অন্য অধিদফতর, পরিদফতর ও সংস্থার কর্মচারীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জনতার মঞ্চে যোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশের প্রতিবাদ মুখরতার প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়া সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে ওঠে। মঞ্চে যোগ দেয়ার পর আমি চারদিকে চক্রাকারে জনতার মঞ্চ বেষ্টিত পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে স্থান ত্যাগ করার অনুরোধ জানাই এবং জনগণের ওপর দমনমূলক তৎপরতার প্রতিকূলে হুঁশিয়ারি প্রদান করি। খানিক ইতস্তত করে তারা আমার কথা মতো অবরোধ বেষ্টনী তুলে নেন।

অবরোধ তুলে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ লোক চারদিক থেকে এসে জনতার মঞ্চকে মানব সমুদ্রের মাঝে একমাত্র দিক নির্দেশনায় সমুজ্জ্বল বাতি ঘরের রূপ দেন। জনতার মঞ্চে আমাদের যোগ দেয়ার খবর টেলিফোনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরলে সেখানকার সরকারী কর্মচারী ও জনগণ অধিকতর অত্মবিশ্বাস ও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের স্ব-স্ব এলাকায় খালেদা জিয়া ও তার অবৈধ সরকারকে প্রতিরোধ করার জন্য হাজারও জনতার মঞ্চ গড়ে তুলেন। এভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ময়মনসিংহ, বগুড়া, দিনাজপুর ও অন্যান্য শহরে সরকারী কর্মচারীগণ জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে অবৈধ সরকার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করেন। সেসব এলাকায়ও সেদিন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বেষ্টনী প্রত্যাহার করে নেয় এবং জনগণের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার ভিত্তিতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করনে ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ফিরে যেতে সফল হয়।

সেদিন সন্ধ্যায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা সমন্বয় পরিষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় আমার প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে ২৭ মার্চের মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় অর্থবহ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিপর্যয় নিরসন করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানান হয়। আমি সুস্পষ্টভাবে আমার বক্তব্যে বলি যে, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় দেশের মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন, কল্যাণ ও অধিকার বিপর্যয়ের সামনে পৌঁছেছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ভবিষ্যতে এই ধরনের কারচুপির নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট হবেন না। আমি বলি খালেদা জিয়ার সরকারকে পদচ্যুত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার দাবি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে বৈধ সরকার স্থাপন করা ছাড়া বিদ্যমান বিপর্যয় এড়ানোর অন্য কোন পথ নেই। আমার এই অবস্থানকে সমর্থন করেন কৃষি ক্যাডারের কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলীদের নেতা এম এ কাশেম, বিচার বিভাগীয় ক্যাডারের প্রতিনিধি চৌধুরী মনিরউদ্দিন মাহমুদ, পুলিশ ক্যাডারের প্রতিনিধি বজলুল করিম, পশুসম্পদ ক্যাডারের ড. নিশীথ দেবনাথ, বিসিএস (সড়ক ও জনপথ) ক্যাডারের প্রকৌশলীদের নেতা এস এম ফারুক, বিসিএস কর ক্যাডারের মোহাম্মদ শাহজাহান, বিসিএস কো-অপারেটিভ ক্যাডারের মোঃ সাইদুজ্জামান, সেক্টর কর্পোরেশনের পক্ষে প্রকৌশলী বীরপ্রতীক ইসহাক, স্বাস্থ্য ক্যাডারের খালেদা আক্তার, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ড. কাজী শহীদুল আলম, বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা সার্ভিসেস সমন্বয় পরিষদের প্রতিনিধি আজিজুর রহমান, শিক্ষা ক্যাডারের মুখপাত্র অধ্যক্ষ এবিএম আলী, মুজিবনগর কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ লতিফ এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিনিধি একেএমএ হামিদ ও শামসুর রহমান এবং অন্যরা।

সভা শেষে আমরা মিছিল করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট থেকে জনতার মঞ্চে আবার যোগ দেই। সেখানে অন্যদের মধ্যে আমাদের স্বাগত জানান আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদা চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, আমীর হোসেন আমু, ড. মোহাম্মদ সেলিম (প্রয়াত), মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও মেয়র হানিফ। জনতার মঞ্চে সেই সন্ধ্যায় ও রাতে গান পরিবেশন করেন শিল্পী আবদুল জব্বার। আসাদুজ্জামান নূর পাঠ করেন ‘নুরলদিনের সারাজীবন’ নাটকের অংশ বিশেষ। রামেন্দু মজুমদার, লুৎফুননাহার লতা, রুপা চক্রবর্তী ও তারিক সুজাত দেশের কবিতা এবং লুৎফর রহমান দুঃশাসনকে ব্যঙ্গ করে ছড়া আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘মুজিব থেকে হাসিনা’ গীতি নাটক পরিবেশন করেন জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোট। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ কণ্ঠে নিয়ে আমি ও আমার সহযোগীরা রাত ১২টার দিকে মঞ্চ ছেড়ে বিএনপির লেলিয়ে দেয়া গু-া বাহিনী ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে একেক পথ ধরে আমাদের অজানা আশ্রয়ে চলে যাই।

লেখক : সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও

আওয়ামী লীগ নেতা

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬

২৪/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: