মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বইমেলার ভাল-মন্দ

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • তাপস মজুমদার

শেরে বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলা শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই শুরু হয়ে যায় বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা’। এটিও মাসব্যাপী। তবে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি বলে ২৮ দিনে শেষ হয়ে যায় মেলা। পাঠক ও প্রকাশকরা এবার অবশ্য নিজেদের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতে পারেন। লিপইয়ার বা অধিবর্ষ পড়েছে বলে বইমেলার মেয়াদ এবার একদিন বেড়ে হবে ২৯ দিন। শীতের মাস মাঘ প্রায় শেষ হতে চলেছে। কুয়াশার প্রাবল্য কমবেশি থাকলেও শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে বলা যায়। বড় বড় গাছের পাতারা হলুদ হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করেছে অরিরাম, অবিরল। উড়ু উড়ু ফুরফুরে চঞ্চল হাওয়ায় মন উদাস করা বসন্তের আমেজ। বাগানে বাগানে অফুরন্ত নানা রঙের বর্ণিল ফুলের শোভা। শিশু একাডেমি, কার্জন হলের দু’পাশের নার্সারিগুলো দেখলে ভরে যায় প্রাণমন। দোয়েল চত্বর ছাড়ালেই দু’পাশে বইমেলার উদার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। দূর থেকে সার্কাস বা পুতুল নাচের তাঁবু বলে ভ্রম হতে পারে, তবে এসবই মূলত বইয়ের স্টল। অফুরন্ত বই, অগণিত বই। অসংখ্য প্রকাশক, ততোধিক লেখক। প্রতিদিনই মেলায় আসে নতুন নতুন বই, ঝকঝকে তকতকে, সদ্য বাঁধাইখানা থেকে এসেছে যেন, পুটে ভেজা আঠার গন্ধ সর্বোপরি নতুন ছাপা ও কাগজের সুঘ্রাণ। বেশ মনে পড়ে, সেই কোন সুদূর শৈশবে হাঁটি হাঁটি পা পা বয়সে তুলতুলে হাতে বাল্যশিক্ষা, আদর্শলিপি পেয়ে পড়তে না পারার আক্ষেপ ভুলেছিলাম মলাট ও কাগজের গন্ধ শুঁকে। সেই সুদূর গন্ধটা আজও যেন কেন টের পাই বেশ। নতুন যে কোন বই হাতে পেয়ে মলাট ও পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে কেন যেন অজান্তে গন্ধ শুঁকে দেখতে মন চায়, যায়। একটি বইয়ে যেন সঙ্গোপনে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের কিংবা তারও অনেক আগের লুকায়িত সুঘ্রাণ। মিসরের নীল নদের তীরের সঘন নলখাগড়ার বনের খাগের কলমের কালি দিয়ে সযতেœ লিখিত প্যাপিরাসের বাকলের গন্ধ। এটা তো সত্যি যে, বই সর্বদাই মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন, মানুষের ক্রমবিকাশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, অগ্রগতি ও উন্নতির কথা বলে। বাংলা একাডেমির বইমেলা মূলত মানুষেরই সেই উন্নতি ও অগ্রগতির সঙ্গে সংযুক্ত আরও একটি বিজয় নিশান, যা অর্জিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে অমর শহীদানের মাধ্যমে।

শুরু করেছিলাম শেরে বাংলা নগরের বাণিজ্যমেলা দিয়ে। বইমেলাও বাণিজ্যমেলা বটে। তবে দুটোর চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির। বাণিজ্যমেলায় মেলে ঘর-গৃহস্থালির জিনিসপত্র- হাতা-বেলন-খুন্তি-কড়াই, তৈজসপত্র, মসলাপাতি, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী, ভোগ্য ও উপভোগ্য সামগ্রী ইত্যাদি। সুতরাং স্বভাবতই এখানে বাণিজ্যের প্রাবল্য সমধিক। লোক সমাগমও বেশি, বেচাকেনাও বেশি। এবারের বাণিজ্যমেলায় কত হাজার কোটি টাকার পণ্যাদি বেচা-বিক্রি হয়েছে, তার হিসাব না মিললেও কয়েকটি বড় কোম্পানির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ভ্যাট বাবদ প্রচুর অর্থ জমা হয়েছে সরকারী কোষাগারে। বিভিন্ন পণ্যের বৈদেশিক অর্ডারই পাওয়া গেছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার। বাণিজ্যমেলায় দর্শক সমাগমও হয়েছে প্রচুর। রাজধানীর জনগণও যেন প্রায় প্রতিদিন উপচে পড়েছে বাণিজ্যমেলায় এবং প্রায় প্রত্যেকেই কিছু না কিছু কিনেছেন মেলায় গিয়ে। এর জন্য শেষ দিকে মেলার মেয়াদ বাড়ানোরও জোর দাবি উঠেছিল বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। তবে বইমেলার দাবি এবং সম্ভবত ভাষার মাস হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়েনি। অবশ্য প্রতিবছর বইমেলার মেয়াদ বাড়ানোরও দাবি ওঠে প্রকাশক গোষ্ঠীসহ দর্শক-পাঠকের পক্ষ থেকে। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠে না। এবারের ব্যতিক্রম বাদে মাত্র ২৮ দিনে ক্রেতা-বিক্রেতার মন না ভরাই স্বাভাবিক। আবার ফাল্গুনের অকস্মাৎ ঝড়-বৃষ্টি-তুফান এবং এমনকি অগ্নিকা-ের ঘটনাও উপেক্ষণীয় নয়। তবুও মেয়াদ বাড়ানো হয়ে ওঠে না শেষ পর্যন্ত। কেননা, ফেব্রুয়ারি শেষ না হতেই দেখা দেয় উত্তাল রক্তঝরা সদা স্পন্দিত স্পর্ধিত মার্চ। অমল ধবল স্বাধীনতা। স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়, কে বাঁচিতে চায়?... মার্চ তো আমাদের সবার স্বাধীনতার ‘অগ্নিশপথ’, পথ চলার কা-ারী। আর বই শুধু বই মানুষের সে অবারিত পথ চলার সর্বক্ষণের অনির্বাণ সঙ্গী। সম্ভবত প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, বই পড়ে কেউ দেউলিয়া হয় না। আমরা সামান্য একটু যোগ করে বলি, বই পড়ে কেউ কখনও পরাধীন হয় না। বই সর্বদাই স্বাধীনতার কথা বলে। পিথাগোরাস তার সাক্ষী। স্পার্টাকাস তার সাক্ষী। সর্বোপরি সাক্ষী গ্যালিলিও, কোপার্নিকাস, টাইকো ব্রাহে। একুশের বইমেলায় আমরা তাদেরই প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। রবীন্দ্রনাথ যাকে বলেছেন, মহাশঙ্খের ভেতরে নিদ্রিত মহাসমুদ্রের কল্লোল।

বইমেলায়ও প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটে। তবে স্বভাবতই বাণিজ্যমেলার মতো বিপুল বিশাল জনসমাগমে ধন্য হয় না। ঘোর-সংসারী কর্তা-গিন্নি কিংবা বৈষয়িকরা হয়ত তেমন আসেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল সংলগ্ন এলাকা হওয়ার সুবাদে বইমেলাকে ঘিরে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও আগমন চোখে পড়ে বেশ। তদুপরি বইমেলা উপলক্ষে পশ্চিম বাংলার লেখক-কবি-দর্শকরা আসেন। প্রবাসে কমবেশি প্রতিষ্ঠিত বাংলা ভাষাভাষীসহ বইপ্রেমিকরাও আসেন বৈকি! পঁচিশ শতাংশ কমিশনে বেচা-বিক্রিও নেহাত কম হয় না। প্রতিবছর গড়ে পঁচিশ থেকে ত্রিশ কোটি টাকা। মন্দ কী! তদুপরি বই তো সারাবছর ধরেই কম বেশি বিক্রি হয়। তবুও বলতেই হয় যে, ষোলো কোটি জনসংখ্যাধিক্যের দেশে ত্রিশ কোটি টাকার বই বিক্রি, সমুদ্রে পাদ্য অর্ঘ্য, এ ড্রপ ইন দ্য সি। একেবারে নস্যি।

আগেকার দিনে দেখেছি, ঘরে ঘরে গৃহিণীরা ঘর-গেরস্থালির কাজকর্ম সেরে দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রম্ভালাপে বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে যে কোন একটি বইয়ের পাতা মেলে ধরতেন চোখের সামনে, শরৎচন্দ্রের মেজদিদি, দত্তা, দেবদাস, মীর মশাররফের বিষাদ সিন্ধু, নজিবর রহমানের আনোয়ারা নিদেনপক্ষে বেগম পত্রিকা। আজকালের গৃহিণীদের সেই শখ বা চল বুঝি উঠে গেছে। বরং ঘরে ঘরে দেখি সিরিয়াল, দেশী-বিদেশী ধারাবাহিকের দৌরাত্ম্য ও প্রাবল্য। প্রশ্ন জাগে, আজকাল কি বিয়ে শাদী বৌভাত বা অন্য কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে বই উপহার দেয়ার আদৌ প্রচলন আছে? আচ্ছা, পুরনো আমলের প্রথাটা একটু সাহস করে ফিরিয়ে আনলেই তো হয়।

আজকালের গৃহিণীদের আরও একটি বিষয় কিছুটা হলেও নিন্দনীয়। সদলবলে, সপরিবারে শেরে বাংলা নগরে গিয়ে সকাল-সন্ধ্যা থেকে প্রচুর হাটবাজার করেন বটে; ছাতা-লাঠি-খুন্তি-কড়াই-কাপড়-চোপড়,তেল-নুন-বিস্কুট-চিপস, মাইক্রোওভেন প্রায় কিছুই বাদ দেন না। তবে কোন অবস্থাতেই নিদেনপক্ষে একটি বই কেনেন নাÑ এমনকি রান্নার বই, রূপচর্চার বই, শিশু পালনের বই, সন্তানদের সঠিক পথের দিশা দেখাবার বই। যদি কিনতেন অথবা অভ্যাস থাকত, তাহলে সেখানেও নিশ্চয়ই বসত বইয়ের পসরা অথবা এমনও হতে পারে যে, দোকানি সেই গৃহিণীকে এটা সেটা নেড়ে চেড়ে হতাশ হয়ে পছন্দ না হলে শেষ পর্যন্ত বই গছিয়ে দেয়ার চেষ্টাকালে সৈয়দ মুজতবা আলীর গল্পের নায়িকার মতো বলতেন, র্ধ্!ু বইও তো একটা আছে আমাদের বাড়িতে। নতুন কি আছে দেখান না!

তবে এত কিছুর পরেও বাংলাদেশী বাংলাভাষী এবং বিশ্বের যে যেখানে আছেন, সেসব বাংলা ভাষীর জন্য একটি সুসংবাদ এই যে, ২০০০ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের জন্য লাল রঙে চিহ্নিত একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেয়ার পর বাংলা একাডেমির বইমেলা ক্রমশই যেন আন্তর্জাতিক চরিত্র পেতে যাচ্ছে। এর একটি নমুনা এই যে, গত দুয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশের নামী-দামী শিল্পী-সাহিত্যিকরা বইমেলার উদ্বোধনের দিন ও আগে-পরে আসছেন বাংলাদেশ সফরে। এবারও যেমন এসেছেন ব্রিটিশ কবি ও জীবনানন্দ অনুবাদক জো উইন্টার, চেক প্রজাতন্ত্রের লেখক-গবেষক রিবেক মার্টিন, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সমিতির (আইপিএ) সভাপতি রিচার্ড ডেনিস পল শার্কিন এবং আরও কেউ কেউ। বইমেলাকে উপলক্ষ করে লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলগিরভাস বাটকেভিসিয়াসের সফরটিও অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখের দাবি রাখে বৈকি! ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি আসছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রকাশিত একটি অনুবাদগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে প্রথমবারের মতো মাতৃভাষা দিবস স্মরণে স্থাপিত মৃণাল হকের ভাস্কর্যটিও অবশ্যই উল্লেখের দাবি রাখে।

সে অবস্থায় বাংলা একাডেমিকে আরও বড় পরিসরে একেবারে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বইমেলাকে রূপান্তরের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশ সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতৃবৃন্দকেও স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সত্য বটে, বইমেলার আয়োজন করতে গিয়ে বাংলা একাডেমির মূল কাজ বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণের উন্নয়ন ও শ্রীবৃদ্ধিসহ অব্যাহত গবেষণা ও প্রকাশনা ব্যাহত হচ্ছে অনেকটাই। সেক্ষেত্রে এই গুরুদায়িত্ব অন্য কোন সরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে দেয়া যেতে পারে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রও এটি করতে পারে। কেননা, তারা যে বইমেলাটি করে থাকে, সেটি আদৌ জমে না।

শোনা যাচ্ছে, শেরে বাংলানগর থেকে সরিয়ে অন্যত্র প্রতিবছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার জন্য স্থায়ী কাঠামো নির্মিত হচ্ছে। সেখানেও সুবৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা যেতে পারে বইমেলার। এখানে মনে রাখা দরকার যে, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে বাংলা একাডেমি ও আশপাশে বইমেলা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ভাবা হলেও আগামী ২০-৫০ বছর পর কোন অবস্থাতেই এখানে স্থান সংকুলান হবে না। বইপুস্তক প্রকৃতই যদি মানুষের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন তথা হৃদয়-মনকে প্রসারিত করে, তাহলে এক্ষেত্রে তথাকথিত ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকার নামে কূপম-ূক হয়ে বসে থাকার কোন মানে নেই।

এবার বইয়ের গুণমান নিয়ে একটু বলি। বইমেলাকে উপলক্ষ করে প্রতিবছর হাজার হাজার বই প্রকাশিত হয় ও হচ্ছে। এসবের কয়টি মানসম্মত অথবা পাঠযোগ্য? ক্লাসিক বা কালোত্তীর্ণ বইয়ের কথা তো আরও পরে। যদি প্রশ্ন রাখা যায় যে, একুশের বইমেলায় প্রকাশিত গত দশ বছরের বইগুলো থেকে এক শ’ বা এক হাজারটি মানসম্মত বইয়ের তালিকা লেখক নয়, বরং প্রকাশকরাই করুন বেচাবিক্রি ও পাঠকের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে, তাহলে তারা কি করবেন? এক্ষেত্রে হরেদরে বইয়ের একটি তালিকা হয়ত করা যাবে, তবে তা নিশ্চয়ই মানোত্তীর্ণ তথা কালোত্তীর্ণ হবে না। চাইলে প্রকাশক সমিতি চেষ্টা করে দেখতে পারে। চাই কি বাংলা একাডেমিও গবেষণা করে দেখতে পারে প্রশ্নটির সত্যাসত্য।

গত ২৫ জানুয়ারি বাংলা একাডেমি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ নামাঙ্কিত সভাকক্ষে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রকাশনার মানোনয়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে জাতীয় অধ্যাপকসহ দেশের অনেক জ্ঞানী-গুণী লেখক ও বই বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন। তা থেকে যে সারগর্ভ বক্তব্য উঠে এসেছে তা হলো, যে বই মননকে স্পর্শ করে, ঋদ্ধ করে, সেসব বই-ই ভাল। আজেবাজে প্রকাশনার ভিড়ে ভাল বই হারিয়ে যাচ্ছে।... বেশিরভাগ প্রকাশনা সংস্থার নেই নিজস্ব সম্পাদক বা কপি এডিটর। সম্পাদনা ও পা-ুলিপি যাচাই-বাছাইসহ মানসম্পন্ন লেখকদের বই প্রকাশে গুরুত্ব দেয়া দরকার। বইয়ের মান উন্নয়নে সরকারÑ লেখক-প্রকাশক এবং এমনকি পাঠকসহ উদ্যোগী হতে হবে সবাইকে। আর একুশে গ্রন্থমেলা বাণিজ্য বা শিল্পমেলা নয়। এটা বাঙালী জাতির সর্বোৎকৃষ্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু প্রকাশনা ও লেখার মান উন্নত হচ্ছে না। একে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রকাশনার মানোন্নয়ন নিয়ে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা দরকার।

এই হলো গিয়ে সারকথা। আর এখানেই বইমেলার আন্তর্জাতিকীকরণের প্রশ্ন আসে ও ওঠে। বাস্তবতা হলো, বৈশ্বিক অঙ্গনে একমাত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই টিকে থাকাসহ ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব।

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য দিয়ে শেষ করি: ‘আমরা কবে মুক্ত হতে পারব, বইমেলায় ঘুরে বেড়াতে পারব, সেই আশার আছি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মেলা এক মাস চললেও যেন অনেকের মন ভরে না, যেন আরও চললে ভাল লাগে।’

প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী সবার মনের কথাই বলেছেন। কঠোর নিরাপত্তার বাতাবরণে শুধু মাসব্যাপী নয়, বরং বইমেলা চলুক সারাবছর, সব জেলা ও শহরে। তাহলেই বইয়ের বেচাকেনা আরও বাড়বে। জ্ঞান যাবে মানুষের ঘরে ঘরে, দোরগোড়ায়। আর বইমেলার কড়াকড়ি ও নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি নিয়ে মনে পড়ে সুকুমার রায়ের সেই বিখ্যাত কবিতাÑ রাজার বড় ইচ্ছা সে সর্বসাধারণের সঙ্গে মিলেমিশে ইটের পাঁজার ওপর বসে মনের সুখে বাদাম ভাজা খায় আর রাজ্যের সুখ-দুঃখ নিয়ে আলোচনা করে। কবে হবে সব মানুষের আকাক্সিক্ষত সেই বইমেলা, মিলনমেলা, প্রাণের মেলা সর্বোপরি মননমেলা? আমরা সেই সেদিনের অপেক্ষায় আছি।

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৯/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: