১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়


সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেখতে দেখতে তিন বছর অতিক্রম করল যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ। মঞ্চের সংগঠকরা বলছেন, এ সময়ে যেমন সফলতা আছে, তেমনি ব্যর্থতাও কম নয়। আছে সহকর্মীদের হারানোর বেদনা। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে

না পারার ক্ষোভ। তবুও আছে মুষ্টিবদ্ধ হাতে এগিয়ে চলার দৃঢ়প্রত্যয়। গণআন্দোলনের দীর্ঘ পথচলায় দাঁড়িয়ে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করলেন সংগঠকসহ সর্বস্তরের মানুষ। তারা চান সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না উগ্র-সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী। নির্মূল হবে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস।

২০১৩ সালের এই দিনে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা একপর্যায়ে দেশের সকল জেলা-উপজেলার সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবাসী বাঙালীরা আন্দোলনে সমর্থন জানাতে নিজ নিজ দেশে গঠন করেন মঞ্চের শাখা। পৃথিবীর ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অহিংস গণআন্দোলনের তালিকায় জায়গা করে নেয় গণজাগরণ মঞ্চ, যা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে মহাকাল।

আন্দোলনের তিন বছর পূর্তিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিকেলে ‘রঙ-তুলিতে স্বপ্নের বাংলাদেশ’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় হাজারও শিশু। বিকেল ৪টায় ‘জাগরণ যাত্রা’য় অংশ নেন হাজারও মানুষ। র‌্যালিটি রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে থেকে ঘুরে টিএসসি-চারুকলা হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়। ‘জামায়াত নিষিদ্ধ করো’, ‘আমার মাটি আমার মা, পাকিস্তান হবে না’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড এবং যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা র‌্যালিতে অংশ নেন। মিছিলে-সেøাগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।

এ সময় বহন করা হয় বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নসহ বিভিন্ন দাবির কথাও র‌্যালি থেকে জানানো হয়। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার এসব কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

আন্দোলনের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এক সময় দেশবাসী ফুঁসে ওঠেছিল। স্বাধীনতার পর বুকে জমে থাকা ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটানোর প্লাটফরম ছিল এই মঞ্চ। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এসে যোগ দিয়েছিলেন; কথা বলেছিলেন। সবাইকে এক দাবিতে আনতে পারাই আন্দোলনের সফলতা বলে মনে করেন তিনি।

ইমরান বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। যদিও তিন বছরের পথচলায় অনেক সহকর্মী হারিয়েছিÑ সে বেদনা তো বুকে চাপা আছেই। শুধু আমি কেন, এজন্য গোটা দেশবাসীর বুকে চাপা কষ্ট আছে। দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে সহকর্মীদের জীবন দিতে হয়েছে। তিনি জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, এ দেশে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা না হলে মুক্তবুদ্ধি চর্চার মানুষদের ওপর একের পর এক আঘাত আসবেই। তাই সময় থাকতেই তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া ভাল। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারী জিম্মায় নেয়া ও তাদের সম্পদ বাজেয়াফত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধাসহ তাদের সন্তানদের কল্যাণে কাজে লাগানোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির থেকে শুরু করে উগ্র-সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী যেমন বাংলাদেশ চায় না, সংস্কৃতি, শান্তি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চাকে বিশ্বাস করে না, এমনকি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে স্বীকার করতে চায় না; তেমনি যুদ্ধাপরাধীদের দেশ পাকিস্তানের কোন অনুতাপ নেই। তারা এখনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যায়ভাবে আমাদের কূটনীতিককে পাকিস্তান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাদের দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশ ছিন্ন করুক।

এদিকে কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিন শনিবার বিকেল ৩টায় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ : কোন পথে আমরা?’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা ৬টায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: