মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৭ জুলাই ২০১৭, ১২ শ্রাবণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

লিবিয়ায় দরিদ্রদের নিয়ে বাহিনী গড়ছে আইএস

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১২:০৯ এ. এম.
  • অভাবী দেশ শাদ, মালি ও সুদান থেকে অর্থের বিনিময়ে যোদ্ধা সংগ্রহ

ইসলামিক স্টেট (আইএস) আফ্রিকার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলো থেকে পদাতিক সৈন্য সংগ্রহ করার মধ্য দিয়ে লিবিয়ায় তাদের নতুন নিরাপদ আশ্রয়ে দরিদ্রদের নিয়ে একটি পদাতিক বাহিনী গড়ে তুলছে। সিরীয় গোয়েন্দা প্রধানরা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

সন্ত্রাসী গ্রুপ আইএসের লিবীয় শাখা শাদ, মালি ও সুদানের মতো পার্শ্ববর্তী দরিদ্র দেশগুলো থেকে প্রত্যেককে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ প্রদান করে পদাতিক যোদ্ধা সংগ্রহ করছে এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। এ দেশগুলোতে অনেকে দিনে উপার্জন করে মাত্র ১ ডলার। তাদের কাছে মাত্র কয়েক শ’ ডলারই এক বছরের বেতনের সমান। লিবীয় কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, লিবিয়ায় প্রবেশকারী অভিবাসীদের ঠেকাতে পারছেন না তারা। এদের অনেকেই ইউরোপগামী আফ্রিকান অভিবাসীদের ব্যবহৃত বর্তমান মানব পাচার পথগুলো ব্যবহার করে লিবিয়ায় পৌঁছাচ্ছে। লিবিয়ার প্রয়াত একনায়ক কর্নেল গাদ্দাফি তার বিরুদ্ধে বিপ্লব ঠেকাতে প্রথমবারের মতো যে কৌশল ব্যবহার করেছেন তাই অনুকরণ করছে আইএস। গাদ্দাফি তার সেনাবাহিনীর জন্য কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত আফ্রিকান দেশগুলো থেকে হাজার হাজার ভাড়াটে সৈন্য সংগ্রহ করেছেন তার বিরুদ্ধে বিপ্লব দমনের জন্য। কিন্তু পাঁচ বছর আগে ঐ বিপ্লবে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। আইএস অনেকটা সে পথেই কর্নেল গাদ্দাফির নিজ শহর সির্তিতে নতুন খিলাফতে ইরাকী ও সিরীয়দের পাশাপাশি আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে। ইরাকী সিরীয়রা অবশ্য এ খিলাফতে মূল নেতত্বে রয়েছে। পার্শ্ববর্তী মিসরাতা শহরে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল মুনসিফ আল ওয়ালদা টেলিগ্রাফকে বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীরা এখানে এক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, বিদেশী যোদ্ধাদের এখানে আসতে এবং আইএসের পক্ষে লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা যোগায় তারা। অধিকাংশ অভিবাসীই ইউরোপ যেতে আগ্রহী। কিন্তু কেউ কেউ আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়। তিনি বলেন, দুঃখজনক ব্যাপার যে, অভিবাসীদের ইউরোপ যাওয়ার প্রধান পথ হচ্ছে আমাদের লিবিয়া। আইএসের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় পাশ্চাত্যের সামরিক সহযোগিতা গ্রহণের জন্য লিবিয়ার নতুন সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধির জন্য ব্রিটেন ও আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানান লিবীয় কর্মকর্তা। ডাউনিং স্ট্রিট ও পেন্টাগন অবশ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ত্রিপলিকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য ও ৫ হাজার ইতালীয় সৈন্য প্রশিক্ষণ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

আইএস এক বছর আগে সির্তিতে তাদের অবস্থান গড়ে তোলার পর থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার যোদ্ধার এক বাহিনী গড়ে তুলেছে। মিসরাতায় সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কর্নেল ইসমাইল শুকরি টেলিগ্রাফকে বলেছেন, সির্তিতে আইএস বাহিনীর প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্য লিবিয়ার বাইয়ের দেশগুলো থেকে সংগৃহীত।

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১২:০৯ এ. এম.

০৩/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: