মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

হঠাৎই মৃত্যুর সারি ॥ গত কিছু দিনে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫
হঠাৎই মৃত্যুর সারি ॥ গত কিছু দিনে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা
  • আগস্ট মাসে বন্ধ হওয়া অনুমোদনহীন গাড়ি আবার মহাসড়কে
  • ৯৯ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ওই সব যানবাহন দায়ী
  • বেশি চালকই অপেশাদার

রাজন ভট্টাচার্য ॥ সিরাজগঞ্জের নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়কের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ এলাকায় ট্যাঙ্কলরি ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নসিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে একই পরিবারের সাত সদস্যসহ অটোরিক্সার নয় যাত্রী নিহত হন। ঘটনা ১৫ ডিসেম্বরের। একই দিন দিনাজপুরে ট্যাংকলরি চাপায় নিহত হন একজন। গাজীপুরে ভটভটির চাপায় আরও একজন। এদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২১ জন। ১৭ ডিসেম্বর সারাদেশে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে সমপরিমাণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৯৯ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মহাসড়কে চলা অনুমোদনহীন যানবাহন। বেপরোয়া ড্রাইভিং, অনুমোদনহীন যানবাহন, অপেশাদার চালকদের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি হুইলার, নসিমন, করিমন ভটভটিসহ স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও এখন দিব্যি চলছে। সড়ক নিরাপত্তায় এসব পরিবহন চলাচল বন্ধে নীরব সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে হাইওয়ে পুলিশ। অর্থাৎ কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই।

চলতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন অন্তত ১৫০ মানুষ। আহত তিন শতাধিক। বছরের এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নয় হাজার, আহত প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সরকারী হিসেবে সারাদেশে তিন লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে। ১০ লাখের বেশি অনুমোদনহীন পরিবহন। প্রায় ১৭ লাখ অবৈধ চালক দাবড়ে বেড়াচ্ছে। দুর্ঘটনা কমাতে শীতকালীন সময়ে সড়ক মহাসড়কে ঈদের মতো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও নিষিদ্ধ পরিবহন চলাচল বন্ধ, সড়কে পুলিশী তৎপরতা বাড়ানো, গাড়ির বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কের পাশে থাকা বাজারসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, চালক-শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, চালকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়াসহ সড়ক নিরাপত্তায় পৃথক বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সর্বোপরি পরিবহন সেক্টরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনার পরামর্শ অনেকের।

চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ॥ রাজপথ থেকে আঞ্চলিক সড়কপথ। সবখানেই দাবড়ে বেড়াচ্ছে ফিটনেসবিহীন পরিবহন। নিয়ন্ত্রণের কাগুজে উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে নেই। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ফিটনেস গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। রাজধানীতে গত জুলাই পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা প্রায় ৯ লাখ গাড়ির মধ্যে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫১টি গাড়িই ফিটনেসবিহীন। সূত্র মতে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ১৯২টি বাসের নিবন্ধন করা হয়। তার আগে গত বছর ১ হাজার ৩৬৪টি, ২০১৩ সালে ৯৭১টি, ২০১২ সালে ১ হাজার ২১৮টি গাড়ি নিবন্ধন হয়। সম্প্রতি বিআরটিএ পক্ষ থেকে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পরিবহন পাকড়াও অভিযান শুরু হলে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয় রাজধানীতে। অর্থাৎ বেসরকারী পরিবহন মালিকদের কাছে কার্যত জিম্মি সরকার। পাশাপাশি বিআরটিসিকেও বিকল্প শক্তিশালী পরিবহন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুদূত অবৈধ চালকরা ॥ এখন দেশে ইচ্ছে করলেই চালক হওয়ায় যায়। কোন রকম প্রশিক্ষণ বা পরীক্ষা দেয়া ছাড়াই চালকের বৈধ সনদ মেলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ভারি যানবাহনের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএ কাগজে কলমে যেসব শর্ত রয়েছে তা পূরণ করার সক্ষমতা নেই সংস্থাটির। দেশের অর্ধেকের বেশি জেলায় কোন রকম পরীক্ষা ছাড়াই লাইন্সে দেয়া হচ্ছে চালকদের। পাশাপাশি যে যার ইচ্ছেমতো চালক বনে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে লাইসেন্স পরীক্ষা নিরীক্ষার কেউ নেই। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে ইচ্ছে করলেই চালক হওয়া সম্ভব সেখানে বছরে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথা।

বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যার তুলনায় সনদধারী চালক প্রায় ১০ লাখ কম বলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন। সম্প্রতি সংসদে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তবে লাইসেন্সবিহীন চালকের সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে লাইসেন্সধারী গাড়িচালকের সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। অন্যদিকে রেজিস্ট্রেশন করা মোটরযানের সংখ্যা ২৪ লাখ ৪ হাজার ১১৪টি। ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক ও মোটরযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ধরতে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পরিবহন খাতে ৮৪ হাজার ৩১৪টি মামলার মাধ্যমে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। এক হাজার ২৬৬ জন আসামিকে কারাদ- দেয়া হয়েছে এবং ২ হাজার ৮১৬টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে।

অবৈধ গাড়ি ১০ লাখ চালক ১৭ লাখ ॥ সরকারী হিসেবে বৈধ পরিবহনের সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি। প্রশিক্ষিত চালক ১৪ লাখ। তাহলে লাইসেন্সধারী পরিবহন চালাচ্ছেন ১০ লাখ অবৈধ চালক। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বলছে, সারাদেশে অবৈধ পরিবহনের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বৈধ অবৈধ পরিবহন মিলিয়ে লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা ১৭ লাখের বেশি। এ চিত্রই বলে দেয় দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতোটুকু হুমকির মুখে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গেল বছর পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল আট হাজার। সরকারী হিসেবে এ পরিসংখ্যান চার হাজারেরও কম। যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ বুয়েটের গবেষকরা বলছেন, দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৬০ ভাগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। মাত্র ৪০ ভাগ তথ্য সংবাদমাধ্যমে আসে। এ কারণে দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না।

চলতি মাসে দুর্ঘটনায় ১৫০ জনের মৃত্যু ॥ বছরের শেষদিকে সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়েছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। অকালে ঝরছে বহু প্রাণ। পরিসংখ্যানে চলতি বছরের এ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুমোদনহীন যানবাহনের সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ দুর্ঘটনার কারণ নসিমন, করিমন, ভটভটি, মহেন্দ্রাসহ স্বল্পগতির পরিবহন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির গবেষকরা বলছেন, সড়ক-মহাসড়ক থেকে শুরু করে চলাচলের জন্য সামগ্রিক রাস্তার পরিবেশ ভাল নয়। রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে ট্রাফিক আইন ও হাইওয়ে আইন সম্পর্কে চালকসহ যাত্রীদের মোটেই ধারণা নেই। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও এ ব্যাপারে অনভিজ্ঞ। ট্রাফিক আইন কার্যকর করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেককাংশেই রোধ করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তারা।

চলতি মাসের ১ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ ও আহত ১০ জন। ২ ডিসেম্বর নিহতের সংখ্যা ৬, আহত ২৭। ৩ ডিসেম্বর নিহত তিন, আহত ১১। ৪ ডিসেম্বর নিহত সাত, আহত ১৭। ৫ ডিসেম্বর নিহত ছয়, আহত ২৫। ৬ ডিসেম্বর নিহত ১২ ও আহত ১১।৭ ডিসেম্বর নিহত ১৬ ও আহত ১০। ৮ ডিসেম্বর নিহত ২ আহত ১ জন। ৯ ডিসেম্বর নিহত ছয়, আহত তিন। ১০ ডিসেম্বর নিহত ১১, আহত ৪৩। ১১ ডিসেম্বর নিহত ৬ আহত ২২। ১২ ডিসেম্বর নিহত দুই আহত ১০। ১৩ ডিসেম্বর নিহত ২২ আহত ৮০। ১৪ ডিসেম্বর নিহত একজন। ১৫ ডিসেম্বর নিহত সাত আহত ২১। ১৬ ডিসেম্বর বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২১ জন। ১৮ ডিসেম্বর বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছয় জন।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জনকণ্ঠকে বলেন, দেশের ২২টি জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ করে সরকার। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই এসব পরিবহন আবারও রাস্তায় ফিরে আসে। দেখার কেউ নেই। নীরব পুলিশসহ মন্ত্রণালয়। তার কথার বাস্তবতা আছে এ কারণে সম্প্রতি সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেই এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, এসব পরিবহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে। আবুল কালাম আরও বলেন, কুয়াশার কারণে গাড়ি আস্তে চলে। এতে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটলেও হতাহতের সংখ্যা খুবই কম হয়। নিহত হয় না বললেই চলে। তিনি বলেন, বর্তমানে মহাসড়কে নিষিদ্ধ পরিবহনগুলোই বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

কেন এই দুর্ঘটনা ॥ সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে অনুমোদনহীন যানবাহন চলায় প্রায় ৯৯ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই যে কোন মূল্যে জাতীয় মহাসড়কে অনুমোদনহীন পরিবহন চলাচল থামাতে হবে। জানতে চাইলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের ময়মনসিংহের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন খান জনকণ্ঠকে বলেন, রাস্তার কোন ত্রুটির কারণে এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে না। আমরা দেখছি অনুমোদনহীন পরিবহনগুলো মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলার কারণে দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়ছে। তিনি বলেন, থ্রি হুইলার, নসিমন, করিমন, মহেন্দ্রা থেকে শুরু করে স্বল্পগতির যানবাহনগুলোর চালকরা মোটেই দক্ষ নয়। তাই ইচ্ছেমতো সড়কে গাড়ি চালান। সিরাজগঞ্জে একই পরিবারের আট জনের মৃত্যুর পেছনে অনুমোদনহীন যানবাহনই দায়ী। তিনি বলেন, বেপরোয়া চলাচল করায় অনেক সময় দ্রুতগতির যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। কুয়াশার কারণে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। মহাসড়কে অনুমোদনহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক এ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, বিশৃঙ্খল চালকরাই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য একমাত্র দায়ী। তিনি বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। ‘সাবধান’ কথাটি মাথায় রাখতে হবে। তাছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকসহ যাত্রীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। শীত মৌসুম পড়ায় কুয়াশার সময় লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।

হাইওয়েতে সরকার মনিটরিং ছেড়ে দিয়েছে। তাই সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়েছে। এমন অভিযোগ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী জনকণ্ঠকে বলেন, হাইওয়েতে নিষিদ্ধ সকল গাড়ি চলছে। কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। জেলা পুলিশ কাজ করছে না। পুলিশের উচিত বেপরোয়া গতিতে চলা গাড়ি ধরে ধরে মামলা দেয়া। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দেয়া হলেও তা কাজে লাগাচ্ছে না হাইওয়ে পুলিশ। পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, চালকদের লাইসেন্স দেয়ার সময় ৩Ñ৭ দিনের সচেতনতামূলক কোর্স জরুরী। দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে কাউকে দোষারোপ না করা। পৌর নির্বাচনের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় এখন অনুমোদনহীন যানবাহন চলার মাত্রা বেড়েছে। এসব পরিবহনে চলছে প্রচার প্রচারণা। ভোট নষ্ট হবে তাই কেউ কিছু বলছে না।

শীতকালীন সময়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই)-এর গবেষকরা বলছেন, এ মুহূর্তে সড়ক মহাসড়কে গাড়ির চাপ অনেক বেশি। কারণ একদিকে বছরের শেষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে শীত। অর্থাৎ ভ্রমণের সময়। তাই সড়কে সব ধরনের পরিবহন চলাচল বেশি। এটি সড়ক দুর্ঘটনার একটি কারণ। বছরের দুই ঈদে সড়ক মহাসড়কে নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হলেও শীতকালীন সময়ে নেয়া হয় না। সড়ক নিরাপত্তার সার্থে এ পদক্ষেপ জরুরী। এআরআই এর অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহাবুব আলম তালুকদার জনকণ্ঠকে বলেন, বছর শেষে ছুটির সময় সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা জরুরী। কিন্তু দুঃখজনক হলো, সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বিষয়টিকে কোন মহল থেকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। কোন সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেই। যে যার ইচ্ছেমতো চলছেন। মানুষের মধ্যে নীতি নৈতিকতাও কাজ করছে কম। সড়কগুলো আধুনিক ও মানসম্মত নয় একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হার্ড ব্রেক করার উপযোগী করে আমাদের সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। রাস্তার দু’পাশে হাটবাজার আর স্থাপনা। পরিবহন চালক, মালিক থেকে শুরু করে সকলের বাণিজ্যিক মানসিকতা। তাছাড়া আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ত্রুটির অভাব নেই।

দীর্ঘ সময় পাড়ি দিলেও পরিবহন সেক্টরে কোন অর্জন না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই বুঝি না। অবহেলিত এ সেক্টরে নিরাপত্তা বাড়াতে পৃথক বাজেট দরকার। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গবেষণা ভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক দুর্ঘটনার খবর কেউ রাখে না। পুলিশ অন্য কাজে ব্যস্ত। তাই সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক পরিসংখ্যান বা সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: