১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আইএসের অর্থ সংগ্রহের পথ বন্ধ করা হবে


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ চরমপন্থী দল ইসলামিক স্টেটের (আইএস)। অর্থ সংগ্রহের পথ রোধ করতে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিক্রমে এক প্রস্তাব পাস করেছে। আইএস তেল ও পুরাকীর্তি বিক্রি, মুক্তিপণ আদায় এবং অন্যান্য অপরাধমূলক তৎপরতার সাহায্যে অর্থ যোগাড় করে থাকে। আইএসের অর্থ আদায়ের পথ বন্ধ করা কঠিন হবে বলে বড় বড় দেশের অর্থমন্ত্রীরা একমত হয়েছেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

আল কায়েদা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রস্তাবের আওতায় আইএসের ওপর ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উদ্যোগে আনীত বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবটি আইএসকে আল কায়েদার পর্যায়ভুক্ত করেছে। এতে আইএসের ক্রমবর্ধমান হুমকিই প্রতিফলিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১-এর হামলার পেছনে আল কায়েদর হাত ছিল।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যাক লিউ ইসলামিক স্টেটের অর্থ সংগ্রহ রোধ করা কঠিন কাজ বলে উল্লেখ করেন। কারণ আল কায়েদার মতো সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে আইএসের এখানেই পার্থক্য যে, আইএস এর তহবিলের অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র অংশই বিদেশী দাতাদের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে পেয়ে থাকে। লিউ বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। আইএস সিরিয়া ও ইরাকের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রসহ বিরাট ভূখ- দখল করে রয়েছে। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের বোমাবর্ষণ এবং স্থল বাহিনীর অভিযানের ফলে ইরাক কিছু ভূখ- পুনরায় অধিকার করতে সক্ষম হয়েছে।

ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী মিশেল স্যাঁপে পরিষদে বলেন, কোন দেশই আইএসের হামলার হাত থেকে নিরাপদ নয় এবং ২০১৪-এর জুন থেকে বিশ্বে চরমপন্থী দলটি এর প্রতি অনুগত দলগুলোর হাতে ১ হাজার ৬শ’ লোক নিহত হয়। স্যাঁপে বলেন, সংঘাতে ইন্ধন যোগাচ্ছে এমন চরমপন্থী দলগুলোর কাছে অর্থ চালান রোধ করতে প্রতিটি দেশকেই এর ভূমিকা পালন করতে হবে। সিরীয় গৃহযুদ্ধের এক রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের ১৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার প্রাক্কালে স্যাঁপে এ মন্তব্য করলেন।

লিউ বলেন, ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখ-ে অর্থনৈতিক কর্মকা- ও সম্পদ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে। এটি ভূখ- দখল ও ব্যাংকের ভল্ট লুট করা থেকে শুরু করে রাজস্বের নবায়ণযোগ্য উৎসগুলোকে কাজে লাগিয়ে থাকে।

১৮০ জঙ্গী নিহত

ইরাকে গত পাঁচ মাসের মধ্যে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) চালানো সবচেয়ে বড় হামলা প্রতিহত করেছে কুর্দী বাহিনী। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলা এই লড়াইয়ে প্রায় ১শ’ ৮০ আইএস জঙ্গী নিহত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহরের কাছে বেশ কয়েকটি লক্ষে সমন্বিতভাবে হামলা চালায় আইএস জঙ্গীরা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার সহায়তা নিয়ে তাদের সফলভাবে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয় কুর্দী বাহিনী। ২০১৪ সাল থেকে মসুল আইএসের দখলে রয়েছে।

বুধবার বিকেলের দিকে আইএস জঙ্গীরা ইরাকী কুর্দী পেশমেরগা বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলায় তারা মেশিনগান, গাড়িবোমা, রকেট এবং সশস্ত্র বুলডোজার ব্যবহার করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল স্টিভ ওয়ারেন ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, গ্রীষ্মের পর এটাই ছিল আইএসের চালানো সবচেয়ে কঠিন আঘাত। ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক ওডোম বলেন, মসুল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নস্যাৎ করার লক্ষ্যেই সম্ভবত এই আগ্রাসী আক্রমণ চালানো হয়েছিল। আইএসের চালানো বিভিন্ন হামলাস্থলের মধ্যে বাশিকাও রয়েছে। বাশিকাতেই তুর্কী বাহিনী সম্প্রতি ইরাকী কুর্দীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। ইরাকের ভূখ-ে অনুমতি না নিয়ে তুর্কী বাহিনীর এই অবস্থানকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছিল ইরাক। বিষয়টি নিয়ে ইরাক-তুরস্ক সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততার সৃষ্টি হয়।