১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ না করেই ঝরে পড়ছে ২১ শতাংশ শিশু


স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হলেও এখনও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই প্রায় ২১ শতাংশ শিশু ঝরে পড়ছে। শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ‘নীরবে ঝরে পড়ছে’। তবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শিশুর সংখ্যা গত আট বছরে বেড়েছে ২৬ শতাংশ। অগ্রগতি হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা অর্জনের ক্ষেত্রেও।

ইউনেস্কো পরিচালিত ‘সবার জন্য শিক্ষা জাতীয় পর্যালোচনা বাংলাদেশ-২০১৫’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে এমন তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ভবনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাউল আলম ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কোর সচিব মঞ্জুর হোসেনসহ ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইইউ’র প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাইজুল কবির। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালে প্রাথমিকে ভর্তির হার ১০ দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালের হিসেবে মোট ভর্তির হার ৯৭ দশমিক তিন শতাংশ। ২০০৫ সালে এ হার ছিল ৮৭ দশমিক দুই শতাংশ। ভর্তির এ সন্তোষজনক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, ঝরে পড়ার হার আগের চেয়ে কমলেও এখনও ২১ দশমিক চার শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ প্রতিবেদনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা অর্জনের চিত্রও তুলে ধরা হয়। লৈঙ্গিক সমতাকে বাংলাদেশের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে অগ্রগতি হয়েছে লৈঙ্গিক সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে। এদিকে মানদ- অনুযায়ী ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষার চ্যালেঞ্জ হিসেবে বলা হয়, শিখন- শেখানো প্রক্রিয়ার কারণেই অনেক শিক্ষার্থী নীরবে ঝরে পড়ছে। ২০১৩ সালে ৭৮ লাখ শিশু স্কুলে ভর্তি ও নিয়মিত উপস্থিত হয়ে উপবৃত্তি গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। জরুরী ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং যারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের নির্দেশনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের ফলাফল ও সুপারিশ গ্রহণ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও আছে, সাফল্যও আছে। আমরা যুগান্তকারী পরিবর্তন অর্জন করেছি। এখন আগামী দিনের লক্ষ্য, গুণগতমান অর্জন করা। মানসম্মত শিক্ষাই এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। গুণমত মান বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর চালু পঞ্চম শ্রেণীতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা ও অষ্টম শ্রেণীতে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার আয়োজন করছে। এ পরীক্ষা শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্বে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তিপরীক্ষার নামে কিছু শিক্ষার্থীকে আলাদা করে পড়ালেখা করানো হতো। অন্যদের অবহেলা করা হতো। প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে এখন স্কুলের সকল শিক্ষার্থী সমান যতœ পাচ্ছে। এসএসসি’র আগেই দু’টো সনদ অর্জন একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে শিক্ষার্জনে অনেক বেশি উৎসাহিত করছে। শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার মহৎ উদ্দেশ্য পূরণে আরও নিবেদিতপ্রাণে দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরিপ করছে ব্যানবেইস ॥ শিক্ষাখাতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অনলাইনে বার্ষিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরিপ শুরু করেছে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। রবিবার ব্যানবেইস ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আগামী ১০ নবেম্বর পর্যন্ত জরিপ চলবে। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে দেশের ১২৫ উপজেলায় আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় এ ধরনের আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাসচিব মোঃ নজরুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন এবং ব্যানবেইসের পরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আইসিটি ভবনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আইসিটি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক আইসিটি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের হাতের নাগালে প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

জরিপ সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ নবেম্বর পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৯৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জরিপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ তথ্য ছাড়াও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত ভৌত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী, সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে। সঠিক তথ্য না থাকলে সঠিকভাবে পরিকল্পনা নেয়া যায় না। এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে।