১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

প্রতিবছর পাঁচ লাখ শরণার্থী আশ্রয় দেবে জার্মানি


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ প্রতিবছর অন্তত ৫ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে জার্মানি। আগামী কয়েক বছর দেশটি এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। চলমান শরণার্থী সঙ্কট নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। মঙ্গলবার দেশটির ডেপুটি চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল সরকারী টেলিভিশন ‘জেডডিএফকে’ দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন। তবে শুধু সিরীয় শরাণার্থী গ্রহণে রাজি হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। খবর এএফপি, বিবিসি, আলজাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

২০১৫ সালেই ৮ লাখের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে জার্মানি যা ২০১৪ সালের তুলনায় চারগুণ। এশিয়া ও আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপ অভিমুখী আসা শরণার্থীর স্রোত সামলাতে আজ বুধবার একটি প্রস্তাব পেশ করবে ইউরোপীয় কমিশন প্রধান জঁ ক্লদ জুনকার। ওই প্রস্তাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাধ্যতামূলক কোটায় শরণার্থী বণ্টনের কথা বলা হবে। জুনকারের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মেরকেল। এই প্রস্তাবকে শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন তিনি। মেরকেল বলেছেন, চলমান এই সঙ্কট শুধু জার্মান বা সুইডেনের জন্য নয়। এ সমস্যা মোকাবেলায় আরও অনেক দেশকে এগিয়ে আসতে হবে।

ওদিকে শুধু খ্রীস্টান শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার কথা বলে আলোচনায় আসা ফ্রান্সের দুই মেয়র ইভ নিকোলিন ও দেমেইন মেসোটের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারনার্ড কাজনভ। মঙ্গলবার ফ্রান্স-টু টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে নিকোলিনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর আখ্যা দিয়েছেন তিনি। বারনার্ড কাজনভ বলেছেন, আমি সত্যিই এই ভেদাভেদের বিষয়টি বুঝতে পারি না। এটি নিন্দাজনক। আমি মনে করি এটি একটি ভয়ঙ্কর চিন্তা। কোন ধর্মের ভিত্তিতে নয় আমরা সকল নির্যাতিত শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত। এই দুই মেয়র ফ্রান্সের মধ্য ডানপন্থী এক দলের নেতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কটে পড়েছে ইউরোপ। এ সমস্যা নিরসনে জার্মানের ডেপুটি চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল সাক্ষাতকারে আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি প্রতিবছর নিশ্চিতভাবে ৫ লাখ শরণার্থী গ্রহণ করতে পারি আমরা। আবার এর চেয়ে বেশিও করা যায়। জার্মানির মধ্য বামপন্থী রাজনৈতিক দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা গ্যাব্রিয়েল বলেন, আমরা এ বছর অন্তত ৮ লাখ শরণার্থী গ্রহণ করব। আর ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও সুষম উপায়ে শরণার্থী গ্রহণ করা উচিত। আর জার্মানি এসব শরণার্থীর একটি বড় অংশকে জায়গা দিতে পারে। কারণ আমরা অথনৈতিক দিক দিয়ে একটি শক্তিশালী দেশ। এ নিয়ে সন্দেহ থাকার কোন কারণ নেই। কিন্তু শরণার্থী গ্রহণ করাতে শুধু কয়েকটি দেশ যেমন অস্ট্রিয়া, সুইডেন এবং জার্মানির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। আর এসব কারণেই ইউরোপীয় নীতি পরিবর্তন করা জরুরী।

ইউরোপ অভিমুখী অভিবাসী গ্রহণে মহাদেশটির যেসব দেশ অনীহা প্রকাশ করেছে তাদের সমালোচনা করেছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোশে ম্যানুয়েল গার্সিয়া মারজেলো। তিনি বলেন, চলমান অভিবাসী সংকট ইউরোপের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করবে। তিনি বলেন, নৈতিক এবং বাস্তবতার নিরিখে আমরা ইউরোপের ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন করতে পারি না। আবার সন্ত্রাসবাদের পক্ষাবলম্বনও করতে পারি না। জোশে ম্যানুয়েল গার্সিয়া মারজেলো বলেন, স্পেনে চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেও আমরা শরণার্থী গ্রহণে রাজি হয়েছি। এ সময় শরণার্থী গ্রহণকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে স্পেন ঠিক কতসংখ্যক শরণার্থী গ্রহণ করবে তার কোন সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সূত্র জানিয়েছে স্পেন ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রহণ করবে। এরই মধ্যে ইউরোপের অন্যান্য দেশ কত সংখ্যক অভিবাসী গ্রহণ করবে এ বিষয়ে আজ একটি নয়া পরিকল্পনা পেশ করবেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ জুনকার।

অবশ্য এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন হাঙ্গেরীর প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবাম। তার মত হলো এত বেশি সংখ্যক অভিবাসী গ্রহণ না করে তুরস্ককে অর্থায়ন করা যেতে পারে যাতে দেশটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শরনাথী গ্রহণ করতে পারে। শরণার্থী গ্রহণ পরিকল্পনায় জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং সুইডেন রাজি থাকলেও এতে বাদ সাধছে হাঙ্গেরীর মতো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো। তারা মুসলিম শরণার্থী গ্রহণে অনাগ্রহী। চলমান অভিবাসি সঙ্কট নিরসনে ইউরোপকে অন্তত ২ লাখ শরণার্থী গ্রহণের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ব্রিটেন আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার সিরীয় শরণার্থী নেবে। জার্মানিতে গত সপ্তাহে ২০ হাজার শরণার্থী গেছে। সোমবার আরও ১১ হাজার শরণার্থী দেশটিতে প্রবেশ করে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: