১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ডাক্তারদের দিনভর ঈদের কেনাকাটা


নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ৮ জুলাই ॥ হাতীবান্ধা উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের মঙ্গলবার সরকারী এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে ঈদের কেনাকাটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় জরুরী বিভাগসহ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকে। ফেসবুকে এ সম্পর্কিত ছবি ও ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের পর শুরু হয়েছে তোলপাড়।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা হাসপাতালের একমাত্র এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মঙ্গলবার রংপুর বিভাগীয় শহরের শপিংমলে ঈদের কেনাকাটা করেন। জরুরী বিভাগসহ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা থাকে বন্ধ। এই ঘটনায় সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্তব্য অবহেলার বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে লালমনিরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগ। ফেসবুকে এ্যাম্বুলেন্সর ছবি ও চিকিৎসকদের কেনাকাটার দৃশ্যসহ ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা ধরা পড়ে। রোগীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন চিকিৎসক ছিলেন না। জরুরী বিভাগেও না। দুর্ঘটনায় হাত ভেঙ্গে জরুরী সেবা নিতে এসেছিলেন হাতীবান্ধার চর হলদীবাগি গ্রামের শামছুল হক। এ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে তিনি ট্রেনে সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে যেতে বাধ্য হন। ঈদ শপিংয়ে যাওয়া চিকিৎসকগণের মধ্যে ছিলেন নাঈম হোসেন, আক্কাছুর রহমান, মেডিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট আনোয়ারুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও ওয়ার্ড বয় আক্তার হোসেন ছিল বলে জানা যায়।

এ্যাম্বুলেন্সের চালক দবিয়ার রহমান জানিয়েছেন, হাতীবান্ধায় কর্মরত চিকিৎসক নাঈম হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রংপুর গিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক নাঈম হোসেন রংপুরের কোন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখাতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা শপিং ব্যাগগুলোর পণ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ডাঃ নাঈম হোসেন জানান, রংপুরে গিয়েছিলাম তাই একটু সময় বের করে সকলের জন্য ঈদের কেনাকাটা করেছি। ডাঃ আক্কাছুর রহমান জানান, চিকিৎসকরাও রক্তে মাংসে মানুষ। তাদেরও পরিবার-পরিজন আছে। তারাও ঈদে নতুন জামাকাপড় আশা করতে পারে। স্বজনদের জন্য নিজ হাতে কেনাকাটা করা অপরাধ নয়। এদিকে রবিবার হাতীবান্ধা হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আলমগীর নামের এক ব্যবসায়ী চিকিৎসা নিতে এসে সঠিক সময়ে চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা অবহেলায় মারা যায়। এই নিয়ে সেদিন ব্যবসায়ীরা মৃতব্যক্তির লাশ হাসপাতালের সামনে আন্তর্জাতিক মহাসড়কে রেখে অবরোধ পালন করে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যায়। হাতীবান্ধা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রমজান আলী জানান, চিকিৎসক নাঈম হোসেন রংপুরে যাওয়ার বিষয়টি তাকে অবহিত করে গেছেন। ঘটনাটি সত্য হলে এটি একটি মারাত্মক অপরাধ হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: