১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সীমিত সাধ্যে কেনাকাটা হকারদের হাঁকডাকে উৎসবের আমেজ


সীমিত সাধ্যে কেনাকাটা হকারদের হাঁকডাকে উৎসবের আমেজ

মোরসালিন মিজান ॥ সাধ সাধ্যের বিরোধ তুঙ্গে। ব্যথা বেদনার কত কত গল্প। এরপরও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের ঘরে ঈদ আসে। ঈদ এমনই উৎসব। আর মাত্র কয়েকদিন। এরপর সন্ধ্যাকাশে যে চাঁদটি মহোৎসবের বার্তা নিয়ে উদয় হবে, তার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকাবেন সীমিত আয়ের মানুষ। তাঁদের কখনও খেয়ে, কখনও অল্প খেয়ে কাটে। প্রিয় সন্তানের নামমাত্র চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা কুরে কুরে খায় বহু বাবা মাকে। তবে ঈদ সারা বছরের ব্যর্থতা দুঃখ শোক যেন ভুলিয়ে দেয়। সংসারের অনটন সত্ত্বেও এ সময় তাঁরা কেনাকাটা করেন। আর এ কেনাকাটার উৎকৃষ্ট স্থান রাজধানীর ফুটপাথ। এখানে দাম অপেক্ষাকৃত কম। বিচিত্র সম্ভার। ভিড় তাই উপচেপড়া। সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট কেনাকাটা।

রাজধানী ঢাকার যেটুকু ফুটপাথ, এখন মোটামুটি হকারদের। অধিকাংশ ফুটপাথে নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তাঁরা। গুলিস্তান মতিঝিল ফার্মগেট নিউমার্কেট মিরপুরসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমজমাট অবস্থা। গুলিস্তানের পুরোটাই যেন বাজার। কোন ফুটপাথই দেখা যায় না। যেদিকে চোখ যায়, পোশাকের দোকান। চৌকির ওপর পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। কেউ কেউ শক্ত কাগজের বাক্সের উপরিভাগে নিজেদের সংগ্রহ মেলে ধরেছেন। ঈদের নতুন পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে শার্ট প্যান্ট টিশার্ট থ্রিপিসÑ সবই পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি রুমাল পর্যন্ত! বয়সে তরুণ হকাররা উচ্চ স্বরে ক্রেতা আহ্বান করছেন। সুরে সুরে কাছে ডাকছেন পথচারীদেরÑ ঈদ আইলো... দেইখ্যা লন... বাইচ্যা লন... আসলটা...। দাম কম। কত কম সেটাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন হকাররা। ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি। ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে দারুণ দেখতে শার্ট! প্যান্টের সেলাইয়ে যা খরচ, তার চেয়ে কম খরচে প্যান্ট। থ্রিপিসগুলোতে সুন্দর কাজ করা। সে তুলনায় দাম কম। মিন্টু নামের এক হকার বললেন, ‘আমরা ভাই অল্প লাভ করি। অনেক সস্তায় মাল ছাইড়া দেই। এত কমে আর কেউ পারব না।’ কিন্তু মান? সেটা কতটা ঠিক আছে? এমন প্রশ্নের উত্তর দিলেন মোঃ আমিন মিয়া। তিনি বলেন, ‘ভাল খারাপ বড় মার্কেটেও আছে। ওইখানে গিয়াও মানুষ ঠকতাছে। বহু টেকা দিয়া কাপড় কিইনা দেখে রং উঠতাছে।’ আমাগো এইখানেও ভাল মন্দ আছে।’ তবে এখানে কেনাকাটা করে হারানোর কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি।

মতিঝিলের ফুটপাথেও এখন ঈদ বাজার। নতুন পোশাকের পসরা। বড় আয়োজনটি সোনালী ব্যাংকের প্রধান অফিসের সামনের ফুটপাথে। এখানে বেশ ভাল কাপড়ের শার্ট প্যান্ট। হাল ফ্যাশনের জামা। দাম গুলিস্তানের তুলনায় বেশি হলেও, আদতে অনেক কম দাম। আরিফ নামের এক হকার বললেন, ‘আমাগো কাপড় ভাই দামী। অফিসের বড় বড় স্যাররা তো আমাগো শার্টে টাই দিয়া পরে। দোকানের ভাড়া দেওন লাগে না। কম দামে ছাইরা দেই। এতে যারা কিনে তাগোর লাভ।’ চাঁদ রাত পর্যন্ত তাঁদের বিক্রি চলবে বলে জানান এই হকার।

ফার্মগেটে তেজগাঁ কলেজের সামনের ফুটপাথ থেকে শুরু করে আনন্দ সিনেমা হলের সামনের অংশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে বাজার। এক দোকানের ঠিক গা লেগে আছে অন্যটি। এভাবে কয়েকশ! পাঞ্জাবি শার্ট প্যান্ট থ্রিপিস ওপর থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে শার্টের পাশাপাশি মেয়েদের জামা বেশ ভাল যাচ্ছে। আছে শিশুদের পোশাক। শাখাওয়াত নামের এক বিক্রেতা জানান, এখানে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে মেয়েদের ভাল জামা পাওয়া যাচ্ছে। শিশুদের পোশাক কেনা যাচ্ছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

ফুটপাথে কেনাকাটা করতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হলো তারাও খুশি। ফার্মগেটের ফুটপাথে কেনাকাটা করতে আসা আসিফুর রহমান বললেন, আমার আয় কম। কিন্তু বড় সংসার। ফুটপাথের দোকানগুলো আছে বলেই সামাল দিতে পারছি। ৩০০০ টাকায় চার সন্তানের কেনাকাটা সেরেছেন বলে জানান তিনি।

সচ্ছল ব্যক্তিদেরকেও ফুটপাথে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাথে এই শ্রেণীর ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। ঢাকা কলেজের উল্টো দিকের ফুটপাথ ঘুরে অনেককে গাড়ি থামিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। অভিজাত শপিংমল রেখে এখানে কেন? জানতে চাইলে মিরাজুল হক নামের এক ক্রেতা বললেন, এখানে স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই কেনাকাটা করি। একটু কমে পাওয়া যায়। আবার ওদের সংগ্রহটা ভাল। নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাথে অবশ্য নারীরাই বেশি কেনাকাটা করেন। ভিড় ঠেলেও ক্লান্তি নেই। বরং অভ্যস্থ মনে হয় অনেককে। শামীমা নামের এক ক্রেতা বললেন, ফুটপাথে হলেও এদের সংগ্রহটা ভাল। একটু খুঁজে দেখতে পারলে এক্সক্লুসিভ অনেক কিছু পাওয়া যায়।

পোশাক ছাড়াও ফুটপাথের এসব দোকানে নিত্য ব্যবহার্য প্রায় সব কিছুই পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেদের লুঙ্গি, টুপি, সুগন্ধি, হাত ঘড়ি, কোমরের বেল্টÑ যা চাই, আছে। মেয়েদের টপস, টাইটস, গজ কাপড়, বিভিন্ন ধরনের অর্নামেন্টস, কসমেটিকস, বাচ্চাদের জুতা, স্যান্ডেল, চশমাসহ সংসারের বাসন-কোসনও পাওয়া যায় ফুটপাথে। বলা বাহুল্য, ঈদের এই কেনাকাটা চাঁদরাত পর্যন্ত চলবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: