১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তিতুমীর ও ইডেন কলেজের সামনে ছাত্রলীগের তাণ্ডব


স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর তিতুমীর কলেজ ও ইডেন কলেজের সামনে রাস্তায় তা-ব চালিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটার দিকে দুই কলেজের সামনে সড়কে সরকার সমর্থক এ ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা প্রায় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর চালায়। তারা এসব সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনাগুলো ঘটেছে। এদিকে ভয়াবহ যানজটে নাকালে পড়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এতে ঈদের কেনাকেটা অনেকে মøান হয়ে পড়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মুশতাক আহমেদ খান জানান, ছাত্রদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই পক্ষের মধ্যে একটু উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর চালায়। উভয়পক্ষের হামলায় মহাখালী আমতলী থেকে গুলশান-১ নম্বর সার্কেলগামী সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ এসে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা সোয়া ২টার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের একটি দল লাঠি হাতে তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে সেøাগান দিতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক তরুণ মূল সড়কে এসে নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর শুরু করে। তারা রাস্তার দুই ধারে পার্কিং করা ১০ থেকে ১৫টি প্রাইভেটকার ভাংচুর চালায়। এ সময় ওই তরুণরা চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্ক পথচারীরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে। দুই দিকে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। তা-বের পরপরই তিতুমীর কলেজের ভেতরে ছাত্রলীগের একদল ও উল্টো পাশের গলির ভেতরে আরেকটি দলকে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ সময় দুই পক্ষই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ সেøাগান দিচ্ছিলেন। এ সময় কলেজের ভেতর থেকে ধারাল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজনকে ফটকের দিকে এগোতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ কলেজ ও এর আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেয়। দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভাংচুরের পর তিতুমীরের কলেজ ফটকে উত্তেজনার মধ্যে একজনের হাতে দেখা যায় ধারাল অস্ত্র। তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মিরাজুল ইসলাম ডলার জানান, মহল্লার কয়েকজন প্রায়ই আমাদের ছাত্রদের মারধর করে। সকালে সানি নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে স্থানীয় রাব্বি নামে একজন। তিনি জানান, রাব্বী ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক। ডলার জানান, সানিকে মারধর করার সময় রাব্বিকে আমাদের কয়েকজন চড় থাপ্পর মারে। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মহল্লার ওরা আমাদের ছেলেদের মারধর করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর চালায়। পরে কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা কলেজের সামনে অবস্থান নেয়। এতে তাদের দিকে অপরপক্ষ ঢিল ছুড়ে মারে বলে ছাত্রলীগের নেতা ডলার অভিযোগ করেন।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের তা-ব ॥ অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মুনমুন নাহার বৈশাখীকে পিটিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান অর্চি। রবিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজের রাজিয়া হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে সাধারণ সম্পাদক পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কলেজ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিপা, সাধারণ সম্পাদক অর্চি ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক বৈশাখীকে কলেজের বকুলতলায় ডাকেন। পরে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দেন তারা। পরের দিন রবিবার সকাল ১০টার দিকে সাধারণ সম্পাদক অর্চি আবারও বৈশাখীকে ডাকতে ১০-১২ জন ছাত্রীকে পাঠান। ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুত হয়ে অর্চি বের হচ্ছিলেন। যাওয়ার আগেই সাড়ে ১০টার দিকে অর্চি রাজিয়া হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে আসেন। পরে ওই কক্ষের দরজা আটকে বৈশাখীকে মারধর করেন। এ ব্যাপারে বৈশাখী জানান, আমি আগে অর্চি আপুর সঙ্গে একই কক্ষে থাকতাম। আমাদের খুবই ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হঠাৎ কেন তিনি আমাকে মারধর করলেন। তা বুঝতে পারছি না। তবে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নিঝুম আপুর বাসায় যাওয়ার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অর্চি জানান, আমি কাউকে মারধর করিনি, হুমকিও দেইনি। শুধু ডেকে কথা বলেছি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। মারধরের বিষয়ে ইডেন মহিলা কলেজের রাজিয়া হলের প্রধ্যাক্ষ অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: