২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা


অধ্যায়-১

ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর :

১) বাংলার রাজ দরবারের ভাষা ফার্সি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : সেনদের হটিয়ে দিয়ে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি নামক এক ভাগ্যান্বেষী তুর্কি সেনাপতি বাংলা দখল করেন। এ সূত্রে বাংলা পারস্য সভ্যতার সংস্পর্শে আসে। ১৩৩৮ সালে ফকরুদ্দিন মোবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন যা ২শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। সুলতানদের কেউই বাঙালি ছিলেন না। তাদের ভাষা ছিল ফার্সি। সেই সূত্র ধরে শাসনকার্যের সুবিধার জন্য বাংলার রাজদরকারের ভাষাও হয় ফার্সি।

২) পুঁজি পাচার বলতে কী বোঝ? বাংলা থেকে পুঁজি পাচারের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ কর।

উত্তর : দেশের অর্থসম্পদ ব্যাপক হারে দেশের বাইরে চলে যাওয়ারকে পুঁজি পাচার বলে। বাংলার শাসনকালে বিভিন্ন অজুহাতে শাসকদের বাংলার অর্থসম্পদ পাচার করতে শুরু করে। ইতিহাসে এগুলোই পুঁজিপাচার হিসেবে খ্যাত। বাংলা থেকে পুঁজি পাচারের দুটি ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

১. দিল্লিতে আকবরের পরে তার পুত্র জাহাঙ্গীর মসনদে বসার পর যুদ্ধবিগ্রহ, বিলাস, বিনোদন ও শিল্প-সাহিত্যের জন্য বাংলার কোষাগার হতে অর্থসম্পদ নিতে শুরু করেন। ১৬৭৮ সালে সুবেদার শায়েস্তা খান একেবারে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ৪ লাখ টাকার সোনা দিল্লিতে পাঠান।

২. সুবেদার সুজাউদ্দিন তাঁর ১১ বছরের সুবেদারির সময় দিল্লিতে প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা পাঠান।

৩. কী কারণে চতুর্দশ শতাব্দীতে বাণিজ্য বিপ্লবের সূচনা হয়?

উত্তর : চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপের কোনো কোনো দেশে খনিজ সম্পদের আবিষ্কার, সামুদ্রিক বাণিজ্যের বিস্তার এবং কারিগরি বাণিজ্যিক বিকাশের ফলে অর্থনীতি তেজি হয়ে উঠেছিল। ফলে এ সময় ইউরোপে বাণিজ্য বিপ্লবের সূচনা হয়।

৪. ওয়েস্ট ফেলিয়ার চুক্তি কী?

উত্তর : ওয়েস্ট ফেলিয়ার চুক্তি একটি শান্তিচুক্তি। ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধরত ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের মধ্যে এই শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠা হয়। এটি সম্পাদিত হওয়ার পর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে বিভিন্ন ইউরোপীয় জাতি নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিক বিকাশের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন।

৫. ইউরোপীয় শক্তিগুলো ভারতবর্ষকে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ কী?

উত্তর : বাণিজ্য বিপ্লবের সূচনা হলে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও সংগঠনগুলো শক্তিশালী হতে শুরু করে। এর ফলে কাঁচামাল ও উৎপাদিত সামগ্রীর জন্য বাজার সন্ধানও জরুরী হয়ে পড়ে। কাঁচামালের প্রাচুর্য ও বাজার সৃষ্টির জন্য ভারতবর্ষ ছিল আকর্ষণীয় স্থান। আবার বাংলার মিহি কাপড়, সিল্ক এবং মসলা তাদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। তাই তারা ভারতবর্ষকে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়।

৬. ভারতবর্ষে আগমনকারী ইউরোপীয় শক্তিসমূহের বর্ণনা দাও।

উত্তর : পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছে ভারতবর্ষকে বিশ্ববাণিজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নিয়ে আসেন। দক্ষ নাবিক আল বুকার্ক ভারত মহাসাগরের কর্তৃত্ব অধিকার করে পুরো ভারতের বহির্বাণিজ্য করায়ত্ত করে নেন। বাণিজ্য বিস্তারের সূত্র ধরে যেসব ইউরোপীয় শক্তি ভারতবর্ষে আগমন করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে

১. পর্তুগীজ : পর্তুগীজরা পর্তুগালের অধিবাসী। ভাস্কো-দা-গামার নতুন জলপথ আবিষ্কারের অল্পদিন পরেই পর্তুগীজ বণিকগণ এই উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্য কুটি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ইংরেজ আধিপত্য বিস্তার শুরু হলে পর্তুগীজ প্রভাব খর্ব হয়।

২. ওলন্দাজ : হল্যান্ডের অধিবাসীগণ ডাচ বা ওলান্দাজ নামে পরিচিত। পর্তুগীজদের অনুকরণে তারা ভারতে আসে। বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০২ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে। তারা মাদ্রাজ্যের নাগাপট্রম, কাশিমবাজার চুঁচুড়া ও বাকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। তারা এদেশ থেকে রেশমি সুতা, সুতি কাপড়, চাল, ডাল, তামাক ও মসলা রপ্তানি করত। ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ের ১৬৬৬ সালে লিখেছেন, ‘ওলন্দাজরা কাশিমবাজার সিল্ক ফ্যাক্টরিতে ৭ থেকে ৮শ’ লোক নিয়োগ করে বছরে ২২ হাজার বেল সিল্ক উৎপাদন করত। ইংরেজদের সাথে টিকে থাকতে না পেরে তারা ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার দিকে চলে যায়।

৩. ইংরেজ : ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি স্থাপিত হয়। ১৬৫১ সালে হুগলিতে ও ১৬৫৮ সালে কাশিমবাজারে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে পরবর্তীতে তারা সৈন্য এনে ব্যবসার অধিকার লাভ করে। এর সাথে স্থানীয় শক্তি ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় শক্তির ওপর প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে। ঔপনিবেশিক বিজয়ের মাধ্যমে ভারতবর্ষে প্রায় ২শ’ বছরের শাসন শোষণ কায়েম করে।