২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘সারদা কেলেঙ্কারি আড়াল করতেই মমতার ঢাকা সফর’


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাংলাদেশ সফরকে রহস্যময় উল্লেখ করে ওই সফরের যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সিপিআই (এম)। সিপিআই (এম) আশঙ্কা করছে, মমতার এ সফরের পেছনে কোন গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে। সিপিআই (এম) নেতা বিমান বসু বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক বিবৃতিতে এ তদন্তের দাবি তুলে বলেন, ‘মমতার এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকায় একটি মৌলবাদী গ্রুপের কাছে সারদা কেলেঙ্কারির টাকা হস্তান্তরকে ঢাকা দেয়ার জন্য। এ অভিযোগই সত্য হতে পারে এবং তা উড়িয়ে দেয়া যায় না।’

উল্লেখ্য, তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ সফল করেন। তিনি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি তিন দিন ঢাকা সফর করে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যান।

ইতোপূর্বে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তাঁর ঢাকায় আসার কথা ছিল। মনমোহন সিংয়ের ওই সফরেই ঢাকার সঙ্গে দিল্লীর তিস্তা চুক্তি হওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী শেষ মুহূর্তে ঢাকায় না আসায় সকল প্রস্তুতি নিয়েও তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়নি।

আগামী মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসছেন। তার ওই সফরের সূচী ঠিক হওয়ার পর পরই তড়িঘড়ি করে মমতা ব্যানার্জী ঢাকা সফরের ঘোষণা দেন এবং সম্প্রতি ঢাকা সফর করেন। বিশেষ করে সারদা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল নেতৃবৃন্দের নাম জড়িয়ে পড়া এবং সারদার টাকা বাংলাদেশের একটি ইসলামিক রাজনৈতিক দলের কাছে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠার পর মমতার ঢাকা সফর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ ওঠে।

বিমান বসুুর অভিযোগ মমতার ঢাকা সফরের পেছনে কোন গোপন এজেন্ডা ছিল। তা না হলে কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী তার এক সফরসঙ্গীকে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হবে কেন? তার সফরসঙ্গী কারা ছিল তা থেকেই সব পরিষ্কার হয়। এ কারণেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর যথাযথভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সব চোর-বদমাশরাই মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার পর পরই সারদা কেলেঙ্কারির অর্থপাচারের জট খুলতে শুরু করে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পারে সারদার টাকা বাংলাদেশের স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ওই টাকা জঙ্গী তৎপরতায় নিয়োজিত বাংলাদেশের মৌলবাদী গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: