২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভূ-ব্যবস্থাপনার নয় ভাগের চার ভাগ শেষ হয়ে গেছে


মানুষ যে হারে প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষ করে চলেছে তাতে ভূ-ব্যবস্থাপনার নয়ভাগের চারভাগই শেষ হয়ে গেছে বলে বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্সে এ বিষয়ে করা ১৮ জন গবেষকের একটি সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

সমীক্ষার ফলে বলা হয়েছে, মানুষ ইতোমধ্যেই ‘প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি’ বা ভূ-ব্যবস্থাপনার চারটি সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। এগুলো হলো বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর বিলুপ্তির হার, বন উজাড় হওয়া, বায়ুম-লে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়া এবং ভূমি থেকে সাগর মহাসাগরগুলোতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের প্রবাহ। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও স্টকহোম রেসিলেন্স সেন্টার যৌথভাবে এ সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষক দলের উইল স্টিফেন বলেছেন, বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে মানুষের কর্মকা- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও এগুলোর ব্যবহার বৈশ্বিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। কৃষিকাজ, খনি থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন ও নির্মাণ কাজ বন ও ভূমির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বদলে দিয়েছে। ২০১৩ সালে বনভূমির পরিমাণ এক তৃতীয়াংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার দেয়া উপাত্ত থেকে এটি জানা গেছে। স্টিফেন বলছেন, এগুলো কেবল ভবিষ্যতের সমস্যা নয়। বরং এখনই এ বিষয়ে কাজে হাত দিতে হবে। তাঁর কথায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ১৯৫০ সালের পর থেকে অর্থনীতি যেভাবে বৈশ্বিক রূপ পরিগ্রহ করতে শুরু করেছে তার ফলে ভূ-ব্যবস্থাপনার সীমাগুলো অতিক্রমও শুরু হয়ে গেছে। আগে ধারণা করা হতো পৃথিবী বা এর সম্পদগুলো অসীম। কিন্তু ভূ-ব্যবস্থাপনা আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে যে, এগুলো অসীম নয়। এর আগে ২০০৯ সালে গবেষকরা ভূ-ব্যবস্থাপনার নয়টি সীমার কথা বলেছিলেন। পরিবেশ বিপর্যয়ের মাত্রা হিসাব করার জন্য এটি এক একটি তাত্ত্বিক সীমারেখা। এগুলোর মধ্যে আছে ওজোন স্তর হ্রাস পাওয়া, সুপেয় পানি ব্যবহার, মহাসাগরের পানিতে এসিডের উপস্থিতি বাড়া, বায়ুম-লে সিএফসি গ্যাস নির্গমন, ক্ষতিকর রাসায়নিক ও উদ্ভিদসহ প্রাণীদের ওপর জিনগত প্রক্রিয়া ব্যবহার করা। শিকাগো ইউনিভার্সিটির আর্থ-সিস্টেম বিশেষজ্ঞ রে পিয়েরেহামবার্ট বলছেন, ভূ-ব্যবস্থাপনার সীমাগুলো পর্বতের খাড়া প্রান্তের মতো নয়। বরং এর কল্পিত সীমান্তের বাইরের অবস্থাটি অনিশ্চিত। সবগুলো সীমা অতিক্রম হয়ে গেলে মানব সভ্যতার চেহারাটি কি রকম দাঁড়াবে সে বিষয়ে এখন কিছু বলা সম্ভব নয়। -ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইন