ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

জিতেও হারলো মোহামেডান!

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৩৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

জিতেও হারলো মোহামেডান!

ম্যাচের মাঝপথে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডানের খেলোয়াড়রা

প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে শুক্রবার ছিল ‘অঘোষিত ফাইনাল’ ম্যাচ, যাতে মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেড এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। খেলায় জিতেও হেরেছে মোহামেডান! ৩-২ গোলে এগিয়েছিল তারা। কিন্তু খেলার একপর্যায়ে সৃষ্টি হয় গন্ডগোল ও বির্তকের। মোহামেডানের দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড পেলে তারা খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। নিয়ম অনুযায়ী আধাঘণ্টা অপেক্ষার পর আম্পায়াররা বিজয়ী ঘোষণা করেন আবাহনীকে। ৩ পয়েন্ট দেন আবাহনীকে। প্রথম পর্বে দুই দলের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। 
কার্ডের খাঁড়ায় অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি খেলতে পারবে না- এই ইস্যুতে মোহামেডান খেলবে কি না, তা নিয়ে ছিল সংশয়। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে মোহামেডান প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানায় তারা খেলবে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অসাধারণভাবে দুই গোলই শোধ করে তারা দারুণভাবে সমতায়ও ফিরে আসে। একপর্যায়ে আরেক গোল করে লিডও নিয়েছিল তারা। তারপরই ঘটে এই ঘটনা। মজার ব্যাপারÑ আবাহনীকে জয়ী ঘোষণা করার সময় মোহামেডানের খেলোয়াড়দের দেখা গেছে করতালি দিতে, পরে টার্ফের এক প্রান্তে গিয়ে পতাকা উঁচিয়ে উৎসব করতে!
এর ফলে লিগে কোন দল শিরোপা জিতবে, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। ১৫ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট মেরিনার্স ও আবাহনীর। বাইলজ অনুযায়ী প্লে-অফে শিরোপা নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। মোহামেডান ২০১৮ সালের পর লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করার সুযোগ নষ্ট করেছে। এখন প্লে-অফ ম্যাচে আবাহনী-মেরিনার্স উভয় দলই যদি খেলতে অস্বীকার করে, তাহলে এই দুই দলকেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হতে পারে।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে এগিয়ে যায় আবাহনী। শিশে গাওয়ারের হিট গোলরক্ষক ফেরানোর পর পোস্টের কাছাকাছি থেকে আফফান ইউসুফ হিটে লক্ষ্যভেদ করেন (১-০)। ২৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আবাহনী। পিসি থেকে গাওয়ারের হিট গোলরক্ষক নুরুজ্জামান আটকালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। সামনে থাকা পুস্কর ক্ষিসা মিমো গোল করেন (২-০)। 
৩২ মিনিটে সার্কেলের বাম দিক থেকে রিভার্স হিটে সজিবুর রহমানকে পরাস্ত করেন মালয়েশিয়ান ফায়সাল বিন সারি। ব্যবধান কমায় মোহামেডান (১-২)। ৩৬ মিনিটে সমতায় ফেরে সাদা-কালোরা। পিসি থেকেই ফায়সাল বিন সারি গোল করেন (২-২)। পরের মিনিটেই আবারও পিসি থেকে ফায়সাল হ্যাটট্রিক করলে এগিয়ে যায় মোহামেডান (৩-২)। 
৪৩ মিনিটে দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল বাধে। শুরু হয় হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি। বাহাসের শুরু করা আবাহনীর আফফান ও মোহামেডানের জুল বিন মিজুনকে হলুদ কার্ড দেন আম্পায়ার। মোহামেডানের দ্বীন ইসলাম ইমন ও তানভির রহমান সিয়াম এবং আবাহনীর নাঈম উদ্দিনকে দেন লাল কার্ড। এই সিদ্ধান্তের পর খেলা বন্ধ থাকে। খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে ডাগআউটে অবস্থান নেয় মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। আবাহনীর খেলোয়াড়রা ছিল মাঠের ভেতরে। ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর মোহামেডানের খেলোয়াড়রা মাঠে না ফিরলে আম্পায়ররা আবাহনীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। 

×