ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

নেপালকে ৪-১ গোলে হারাল ভারত

ভুটানকে গোলের মালা উপহার বাংলাদেশের

রুমেল খান

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ২০ মার্চ ২০২৩

ভুটানকে গোলের মালা উপহার বাংলাদেশের

ভুটানকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের উল্লাস

জয়টা অনুমেয়ই ছিল। শুধু জানার ছিল, কত গোলে জিতবে বাংলাদেশ। উত্তর, ৮-১ গোলে। সোমবার ঢাকার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মো. মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের। লিগভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে ভুটানকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে শুভসূচনা করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথমার্ধে বিজয়ী দল এগিয়েছিল ৪০ গোলে। এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে ভারত ৪-১ গোলে হারায় নেপালকে। ভারতের ফরোয়ার্ড শিলজি শাহজি হ্যাটট্রিক করেন। অপর গোলটি করেন পূজা। নেপালের গোলটি বর্ষা অলির। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ কাল বুধবার, বিকেল সোয়া ৩টায়। প্রতিপক্ষ রাশিয়া (অতিথি দল)। 
খেলার শুরুতে বাংলাদেশ দল বেশ অগোছালো ফুটবল খেলে। আক্রমণে কোন পরিকল্পনা ছিল না। খেলায় ছিল না ধার। এমনকি বল নিয়ন্ত্রণেও ছিল সমস্যা। মাঝে মধ্যে মুখস্ত পাসের মহড়া। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের গুছিয়ে নেয় বাংলার বাঘিনীরা। এবং একের পর এক গোলের নেশায় মেতে ওঠে।
এই টুর্নামেন্ট হবে লিগভিত্তিতে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রাহক দলই হবে চ্যাম্পিয়ন। ফলে গোলের সংখ্যাই হয়ে উঠতে পারে মূল নিয়ামক। সে কথা মাথায় রেখেই গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যারা সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছে। দুটি গোল অফসাইডে বাতিল না হলে গোলের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারত তারা। 
১০ মিনিটে প্রথমবারের মতো বিপজ্জনক একটি আক্রমণ করে বাংলাদেশ। বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি। কিন্তু ডান পায়ের যে গড়ানো শটটি নেন, তাতে তেমন জোর ছিল না। তাছাড়া শটটি একেবারে ভুটানি গোলরক্ষক দীক্ষা রাইয়ের হাতে গিয়ে পড়ে। ফলে বলটি ধরতে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি দীক্ষাকে।
১৬ মিনিটে অবশেষে গোলের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে তারা। বল পেয়ে যান সুরভী। বক্সের ভেতরে বল নিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়েন তিনি। এদিকে বিপদ বুঝে ততক্ষণে সুরভীকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেন ভুটানি গোলরক্ষক দীক্ষা। সুরভী ডান পায়ের যে গড়ানো-কৌনিক শটটি নেন, তা দীক্ষার নাগালের ও পোস্টের বাইরে দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যাচ্ছিলো। কিন্তু সুযোগ সন্ধানী তৃষ্ণা রানী দৌড়ে দিয়ে সেই বলে পা চালিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন (১-০)। 
পরের মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারত ভুটান। কিন্তু বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বক্সের ভেতরে ভুটানের নামসেল জটলার মধ্যে লাফিেেয় হেড নেন, তা বাংলাদেশের পোস্টে আরেকটু হলেই ঢুকে যেত। কিন্তু বাংলাদেশ গোলরক্ষক সঙ্গীতা রানী দাস ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেন। ২১ মিনিটে বাংলাদেশের (রুমা আক্তার) একটি গোল বাতিল হয় অফসাইডে। ২৬ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ভুটানের বক্সের ভেতরে বল পান সুরভী। গোলরক্ষককে একেবারে ফাঁকায় পেয়ে যান তিনি। কিন্ত বা পায়ে শট নিতে গিয়ে পিছলে পড়ে যান সুরভী। ঠিকঠাক শট না হওয়াতে রক্ষা পায় ভুটান।
২৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ভুটানের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নুসরাত জাহান মিতু বল থ্রু পাস দেন সতীর্থ তৃষ্ণাকে। বল নিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন তৃষ্ণা। গোলরক্ষক দীক্ষা সামনে চলে আসেন। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। ডান পায়ের টোকায় সেই বল দীক্ষার পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন তৃষ্ণা (২-০)। 
৩৬ মিনিটে আবারও গোল করে বাংলাদেশ। জয়নব বিবি রিতার নেয়া উঁচু ফ্রিকের বল পড়ে ভুটানের বক্সের ভেতরে। সেই বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি ভুটানের ডিফেন্ডাররা। লাফিয়ে ওঠা সেই বলে কোনাকুনি হেড করে জালে জড়ান সুলতানা আক্তার (৩-০)। ৪২ মিনিটে সুরভী দর্শনীয় গোল করে বাংলাদেশকে ৪০ গোলে এগিয়ে দেন। ভুটানি ডিফেন্ডার চকি ওমের ভুলে বল পেয়ে যান সুরভী। বা প্রান্ত দিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। ওদিকে চকি ও আরেকদিক থেকে গোলরক্ষক দীক্ষা সুরভীর সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। কিন্তু সুরভী তাদের মাথার ওপর দিয়ে ডান পায়ের উড়ন্ত-বাঁকানো শট নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন (৪-০)। 
৫৫ মিনিটে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক রুমা আক্তার। ৫৯ মিনিটে সুরভীর পরিবর্তে মাঠে নেমেই গোল করেন থুইনুই মারমা (৫-০)। পূজার থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বা পায়ের গড়ানো শটে গোল করেন তিনি। এরপর ৬২ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড মুন্নি (৬-০)। ৬৪ মিনিটে ভুটানের প্রিয়া ঘাল্লি একটি গোল শোধ করেন (১-৬)। ৭৬ মিনিটে থুইনুই মারমা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন (৭-১)। ৮৫ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড সাগরিকা গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৮-১। শেষ পর্যন্ত রেফারি খেলা শেষের বাাঁশি বাজালে জয়ের চিত্তসুখ নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। 
বাংলাদেশ দল ॥ সঙ্গীতা রানী দাস, রুমা আক্তার (অনন্য মুর্মু বীথি), জয়নব বিবি রিতা, অর্পিতা বিশ্বাস, রিতু আক্তার, নুসরাত জাহান মিতু, পূজা দাস, তৃষ্ণা রানী (সাগরিকা), কানন রানী বাহাদুর, সুলতানা আক্তার (মুন্নি), সুরভী আকন্দ প্রীতি (থুইনুই মারমা)।

×