ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

শেষ হাসি জস বাটলারদের

প্রকাশিত: ০৬:২১, ১৪ অক্টোবর ২০১৬

শেষ হাসি জস বাটলারদের

মিথুন আশরাফ ॥ সব ঠিক ছিল। স্কোরবোর্ডে রানও যথেষ্ট জমা হয়েছিল। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু এক শিশিরই স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটিয়ে দিল। ইংল্যান্ড স্পিনাররা বল ঘুরাতে পারলেন। কিন্তু শিশিরের জন্য সেই কাজটি করতে পারলেন না বাংলাদেশ স্পিনাররা। তাতে করে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৪ উইকেটে হেরে সিরিজই হাতছাড়া হয়ে গেল। ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তাই বলেছেন, ‘যেমন উইকেট ছিল, শিশিরের কারণে স্পিনাররা কোন টার্ন পায়নি। এ কারণে পেসারদের দিয়েই বোলিং করাতে হয়েছে। ব্যাটিং ওদের জন্য খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। অথচ যেটি ওদের খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল। এখানে ২৭৭ অনেক বড় স্কোর। যতটুকু শিশির পড়েছে, তার অর্ধেক পড়লেও ম্যাচ অন্য রকম হতো।’ টস জিতে আগে বাংলাদেশকে যখন ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার, তখনই শিশিরকে মাথায় রাখে তারা। তাদের মাথাতেই ছিল, রাতে শিশির পড়বে। সেজন্য বাংলাদেশ স্পিনার বল ঘুরাতে পারবে না। টার্ন পাবে না। আর টার্ন না পেলেতো স্কোর যাই হোক, ম্যাচে জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে। আরেকদিকে, আগে বল করার সুযোগ পাওয়ায় ইংলিশ স্পিনাররা বলে টার্ন পাবে। যেটি ইংল্যান্ডের জন্য উপকার হবে। তাই হয়েছে। দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যেই দ্বিতীয় ওয়ানডের ঘটনাগুলো নিয়ে জেদ কাজ করেছে। সেই জেদ অবশেষে জয় করতে পেরেছে ইংল্যান্ড। লেগ স্পিনে যে বাংলাদেশ দল কতটা দুর্বল, তা ধরা পড়েছে। আদিল রশিদ একাই ৪ উইকেট নিয়েছেন। তবে যতটানা উইকেট পাওয়ায় রশিদের ভূমিকা আছে, তার চেয়ে বেশি ভুল শট নিয়ে উইকেট ছুড়ে দেয়ায় ভূমিকা রেখেছেন ব্যাটসম্যানরা। রশিদের স্পিন ঘূর্ণির সামনে তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেনতো ভুল শটেই সাজঘরে ফেরেন। মুশফিকুর রহীম (৬৭*) বহুদিন পর দুর্দান্ত ব্যাটিং করে হাল না ধরলেতো বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ৫০ ওভারে যে ২৭৭ রান করেছে, তাও করতে পারত না। ইংল্যান্ডের জয়তো তখন অনেক সহজ হয়ে যেত। ইয়ন মরগান নেই। ওপেনার এ্যালেক্স হেলস নেই। এরপর নেই জো রুটও। এ তিনজনের প্রথম দুইজন নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশেই খেলতে আসেননি। আর তৃতীয় জনকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। আবার তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলেননি ওপেনার জেসন রয়ও। তাহলে বাংলাদেশেরই জেতার কথা ছিল! ২৭৭ রানওতো কম নয়। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যেখানে ২২৫ রান অতিক্রম করে জেতার রেকর্ডই ছিল সর্বোচ্চ। সেখানে ২৭৮ রান করে ফেলবে ইংল্যান্ড, শুরুতে সেটা ভাবাই যায়নি। অথচ সেই কাজটিই করে দেখাল ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। একের পর এক জুটি গড়ে নীরবে জয়ের কাছে এগিয়ে গেছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। ওপেনিংয়ে ভিঞ্চ-বিলিংস ৬৩ রানের, দ্বিতীয় উইকেটে বিলিংস-ডাকেট ৬৪ রানের, তৃতীয় উইকেটে বেয়ারস্টো-ডাকেট ৪৫ রানের, পঞ্চম উইকেটে বাটলার-স্টোকস ৪৮ রানের ও সপ্তম উইকেটে ওকস-স্টোকস অবিচ্ছিন্ন ৪২ রানের জুটি গড়েন। এ জুটিগুলোই আসলে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন শেষ করে দেয়। প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রানে হারের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৪ রানে জিতে সিরিজে ১-১ সমতা এনেছিল বাংলাদেশ। মনে করা হচ্ছিল, পয়মন্ত ভেন্যু চট্টগ্রামে ২০১১ সালের বিশ্বকাপের মতো এবারও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেবে বাংলাদেশ। সিরিজে হারিয়ে দেশের মাটিতে টানা সপ্তম সিরিজ জয়টিও হয়ে যাবে। কিন্তু শিশিরই সব আশা শেষ করে দিল। স্পিনাররা কিছুই করতে পারলেন না। শিশিরে বল পিচ্ছিল হয়ে যায়। বল ঠিকমত আঙ্গুল দিয়ে না ধরতে পারলেতো টার্নও করান যায় না। সেই সুবিধাটুকু নিয়েছে ইংল্যান্ড। যেমন পরিকল্পনা করেছে, তেমন সাফল্যও মিলেছে। বেন ডাকেট ৬৩, স্যাম বিলিংস ৬২, বেন স্টোকস অপরাজিত ৪৭ ও ক্রিস ওকস অপরাজিত ২৭ রান করে দলকে জয় এনে দেন। শেষে গিয়ে ২১ বলে যখন ২১ রান দরকার, এমন মহূর্তে ওকসের ক্যাচটি ধরতে পারেননি ইমরুল কায়েস। ক্যাচটি ধরতে পারলে হয়তো খেলার ফল উল্টে যেতেও পারত। কিন্তু ইমরুল ধরতে পারেননি। ৬ উইকেট পড়ার পর ইংল্যান্ডের আর কোন উইকেটও ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৩ বল বাকি থাকতেই ২৭৮ রান করে জিতে যায় ইংলিশরা। সেই সঙ্গে সিরিজও জয় হয়। মাশরাফি নিজেদের আনলাকিও মনে করছেন। বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে শেষ ম্যাচটা আমরা এখানে (চট্টগ্রামে) জিতেছিলাম। একদম একই ধরনের উইকেট ছিল। প্রথমে উইকেট টার্ন পাচ্ছিলাম, এরপর ব্যাটে বল ভাল আসছিল। আমরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ইংল্যান্ডকে। তারা ভাল খেলেছে। আমি বলব আমরা অনেক আনলাকি। বিশেষ করে স্পিনাররা যখন বোলিংটা করতে পারেনি।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘যদি শিশির না পড়ে এই স্কোর ৩০০ প্লাসের মতোই রান। যে পরিমাণ টার্ন পাচ্ছিল আদিল রশিদ, মঈন। আমাদের যে পরিমাণ স্পিনার ছিল, বাঁহাতি-ডানহাতির যে কম্বিনেশন ছিল একটা পারফেক্ট ম্যাচ হতে পারতো। তবে ?যদি শুধু শিশিরটা না পেতাম।’ মাশরাফির কণ্ঠে প্রথম ম্যাচ হারের আফসোসও আছে। এ নিয়ে বলেছেন, ‘সিরিজের দিকে যদি তাকান, প্রথম ম্যাচটা আমরা যদি হিসেব মতো খেলতে পারতাম! আপনি যদি কোন কিছু ভুল করেন, সেটা পুরো সিরিজে টেনে নিতে হয়। যেটা আমাদের হলো। প্রথম ম্যাচটা আমরা ভালভাবে শেষ করলে আমাদের এমন (সিরিজ হার) হতো না।’ সিরিজ হারের সঙ্গে ইতিহাস গড়ার হাতছানিও হাত থেকে ফসকে গেল। দেশের মাটিতে টানা সাতটি সিরিজ জেতার সুযোগ ধরা দিয়েছিল। কিন্তু তা হলো না। ওয়ানডে সিরিজ শেষ। এবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামার অপেক্ষা। মাশরাফি টেস্ট সিরিজ জয়ের আশা করছেন! যদিও তিনি টেস্ট দলে থাকছেন না। এবার মুশফিকুর রহীমকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। এরপরও মাশরাফি মনে করেন, টেস্ট জেতা সম্ভব! কিভাবে? মাশরাফির কণ্ঠেই শোনা যাক, ‘টেস্টে আসলে সবকিছুই নির্ভর করে প্রথম ইনিংসের ওপর। ব্যাটিং কিংবা বোলিং যাই হোক না কেন। আমার শুভেচ্ছা তাদের (বাংলাদেশ) সঙ্গে থাকবে। আমার বিশ্বাস আমরা ভাল করব। আমরা যদি প্রথম ইনিংসে যে কোন কিছুতে ভাল করি, আমাদের জেতার ?সুযোগও থাকবে।’ ওয়ানডের প্রভাব কোনভাবেই টেস্টে পড়বে না বলেও বিশ্বাস মাশরাফির, ‘এগুলোর (ওয়ানডে ম্যাচের) প্রভাব আসলে পড়বে না। আমাদের এখনও দুইটা টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। হয়তো আমি থাকছি না। কিন্তু যারা খেলবে বেশিরভাগ ওয়ানডে খেলোয়াড়ই থাকবে। তারা যদি ভাল খেলে তাহলে আত্মবিশ্বাসটা বৃদ্ধি পাবে।’ ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার মহাখুশি। হওয়ারই কথা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার আউটের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটাররাও বাধভাঙ্গা উল্লাস করেছেন। তাতে তিনি চটেছেন। ক্ষোভও দেখিয়েছেন। সিরিজ হারলে যে সমালোচনার মধ্যে পড়ে যেতেন। সিরিজ জেতার জেদওতো ছিল। তাই খুশি বাটলার। সেসব বিষয়কে ইঙ্গিত করে বলেছেনও, ‘এটা এমন একটা অনুভূতি যেন মনে হচ্ছে শেষ হাসিটা আমরাই হাসলাম। প্রতিপক্ষ দলের কিছু ক্রিকেটার