ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ

আর্জেন্টিনার বিদায়, কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪৫, ২ জুন ২০২৩

আর্জেন্টিনার বিদায়, কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল

চোখের জলে মাঠ ছাড়ছেন আর্জেন্টাইনরা

ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা। নাইজিরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে মেসি-ডি মারিয়াদের উত্তরসূরিরা। এদিকে ফেবারিট ব্রাজিল ঠিকই পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর্জেন্টিনা যখন নাইজিরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিশ্চিত করে, এদিন তিউনিশিয়াকে বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল নেইমারের উত্তরসূরিরা। এ ছাড়া ইংল্যান্ডকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে ইতালি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ইতালির জিতে ২-১ গোলে। 

তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় এক তরফা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে ব্রাজিল। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ইসরাইল। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ইতালির কাছে হারের পর ব্রাজিল ভক্তরা শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে কী তাহলে এখান থেকেই বিদায় নিতে হবে ব্রাজিলকে। কিন্তু সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ব্রাজিল পেছে গেছে লক্ষ্যে। শেষ দুই ম্যাচে ডোমিনিকান রিপাবলিককে ৬-০ ও নাইজিরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় দলটি।
যদিও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল প্রথমার্ধেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু তারপরও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। সেই সঙ্গে ২০১১ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে চলছে তারা।

এস্টাডিও ইউনিকো দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্রাজিল। ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তিউনিসিয়ার দিয়েস আরাইউ বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা মার্কোস লিওনার্দোকে। পেনাল্টি কিক নেন মার্কোস লিওনার্দো নিজেই। তার স্পট কিক জড়িয়ে যায় তিউনিসিয়ার জালে। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলেও অবদান ছিল মার্কোস লিওনার্দোর। অসাধারণ একটি পাস দেন তিনি দলের অধিনায়ক আন্দ্রেস সান্তোসকে। সহজ সুযোগ পেয়ে তিনি সেটা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে দেন দলকে।প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মিনিট দুই আগে নাটকীয় ঘটনা। পেছন থেকে তিউনিসিয়ার মোহাম্মদ দাওইকে ধক্কা দেয়ার অপরাধে ব্রাজিল ডিফেন্ডার রবার্ট রেনানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হয় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে অবশ্য  চেপে ধরে তিউনিসিয়া। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। একবার ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়েও দিয়েছিল তারা। পরিবর্তিত খেলোয়াড় রাকি আওয়ানি গোল করলে রেফারি ভিএআর দেখে সেটা বাতিল করে দেন।
২-০ গোলেই ম্যাচ শেষ হতে যাচ্ছিল। কিন্তু ইনজুরি সময়ে গিয়ে ব্রাজিল আরও দুটি এবং তিউনিসিয়াও একটি গোলের দেখা পায়। ৯০+১ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন ম্যাথিয়াস মার্টিন্স। ৯০+১০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোল করেন আন্দ্রে সান্তোস। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তিউনিসিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মাহমুদ ঘোরবেল। 
একই দিন দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তবে এই দুই দলের চেয়েও বুধবার রাতে হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে। দুই শক্তিশালী ইংল্যান্ড ও ইতালি পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ঠাসা ছিল এই ম্যাচে। ম্যাচের ৮ মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন ইতালির টমাসো বালদানজি। কিন্তু লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ২৪ মিনিটে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। সমতাসূচক গোলটি করেন আলফেই ডেভাইন। ১-১ গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধও প্রায় শেষ হতে যাচ্ছিল এই অবস্থায়। কিন্তু হঠাৎ করেই পেনাল্টি পেয়ে যায় ইতালি। ৮৭ মিনিটে পাওয়া এই পেনাল্টি থেকে গোল করেন সিজার ক্যাসাদেই। ফলে স্বস্তির জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ইতালি।

আর্জেন্টিনার বিদায় 
নিজেদের মাঠ ও দর্শকের সামনেই অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে স্বাগতিক আর্জেন্টিনাকে। আফ্রিকা প্রতিনিধি নাইজিরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছে এদিন তারা। এই নাইজিরিয়াই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২-০ গোলে ব্রাজিলের কাছে হেরেছিল। আর এই দলটির বিরুদ্ধে হেরেছে আর্জেন্টিসা।  উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফলে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা হারায় তারা। কিন্তু আর্জেন্টিনার কপাল খুলে যায় ইন্দোনেশিয়ার কারনে। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারেনি মূলপর্বে জায়গা করে নেয়া ইসরাইলকে বয়কট করায়। ফিফা মূল আয়োজকের মর্যাদা কেড়ে নেয় ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে। আর এতে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। আয়োজক হিসেবে সরাসরি খেলার সুযোগ লাভ করে আর্জেন্টিনা।
এস্টাডিও সান জুয়ান ডেল স্টেডিয়ামে  ম্যাচের শুরু থেকে কিছুটা ছন্দে ছিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে নাইজিরিয়া স্বাগতিকদের আক্রমণ মোকাবিলা করে পাল্টা আক্রমণে নিজেদের মেলে ধরতে থাকে। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলমুন্যভাবে। দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধারে ছন্দ হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনা। প্রানপন কেলার পরিবর্তে নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে অনেকটাই রক্ষণাত্মক হয়ে খেলে তারা। যার মাশুল ৬১ মিনিটে নাইজিরিয়া এগিয়ে যায় গোল করে। গোলদাতা ইব্রাহিম মোহাম্মদ। খেলা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে আর্জেন্টিনার পরাজয় নিশ্চিত করে রিলওয়ানু সারকির দুর্দান্ত গোল। শেষতক ২-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ও আসর থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টাইনরা।

×