ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

নারী ফুটবল দলের সাফ বিজয়

কোচ ছোটনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ দলের নৈপুণ্য

রুমেল খান

প্রকাশিত: ০২:২৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২; আপডেট: ১৮:০৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

কোচ ছোটনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ দলের নৈপুণ্য

.

কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন একেবারে সামনে থেকে দেখেছেন দলের পারফর্মেন্স। সেহেতু খেলোয়াড়দের সম্পর্কে সবচেয়ে নিখুঁত বিশ্লেষণ করতে পারবেন কেবল তিনিই। এ বিষয়ে ছোটনের বিশ্লেষণ এরকম, ‘আনাইয়ের চোট ছিল। খেলার জন্য যথেষ্ট ফিট ছিল না। ফলে তাকে খেলাইনি। নিয়মিত ফরোয়ার্ডরা এতটাই ভাল খেলেছে ধারাবাহিকভাবে, সেজন্য ফরোয়ার্ড হিসেবে আনুচিংকে ব্যবহারই করতে হয়নি। তবে বদলি ফরোয়ার্ড হিসেবে তহুরা নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। তার খেলায় একটু জড়তা ছিল। ডিফেন্ডার আঁখি তার গতি নিয়ে সমস্যায় ছিল। কারণ ওর ওজনটা ঠিক নিয়ন্ত্রণে ছিল না। গোলকিপার রূপনা সেরা গোলরক্ষক হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ওর আরও হাইট বাড়ানো দরকার। কিন্তু বয়স অনুযায়ী ওর হাইট আর বাড়বে কি না সন্দেহ আছে।’
ছোটন তার স্ট্রাইকার সাবিনা,কৃষ্ণা,স্বপ্না ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের অকুণ্ঠ প্রশংসা করার পাশাপাশি আলাদা করে উচুতে রাখছেন তিনজনকে। ‘ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের খেলা ছিল সবচেয়ে নিখুঁত। একটা খেলায়ও সে কোন ভুল করেনি। আবারও গোলও করেছে দুটি। এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। মিডফিল্ডের প্রাণ ছিল মনিকা চাকমা ও মারিয়া মন্দা। পুরো খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করেছে এই দুজন মিলে। তাদের খেলায় আমি মুগ্ধ।’কৃষ্ণা রানীর নৈপুন্যও প্রশংসার দাবী রাখে। দুর্দান্ত কিছু গোল করেছে কৃষ্ণা। বিশেষকরে ফাইনালে তার জোড়া গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। বদলী হিসেবে নেমে ঋতুপর্ণা বেশ ভালো খেলেছে।  গত ১৯ সেপ্টেম্বর নেপালের বিরুদ্ধে ফাইনালে ইনজুরিগ্রস্ত স্বপ্নাকে উঠিয়ে নিয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে মাঠে নামানোর চার মিনিটের মধ্যে কোচের আস্থার প্রতিদান দেন দলীয় প্রথম গোলটি করে। এ প্রসঙ্গে ছোটনের ভাষ্য, ‘আগেরদিনই এ নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলামÑ স্বপ্নাকে অল্প কিছু সময় খেলিয়ে শামসুন্নাহারকে মাঠে নামাব। তার গোলটি দেখেছেন? নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের।’
বলা হয়ে থাকে ফুটবলে অধিনায়ক কেবল নামেই অধিনায়ক, আসলে তিনি খেটে খাওয়া শ্রমিক ছাড়া কিছুই নন! আসল অধিনায়ক যদি কাউকে বলতে হয়, তাহলে তিনি হচ্ছেন কোচ। তাঁর দিক-নির্দেশনায়, পরিচালনায়-পরিকল্পনায় দলের জয় বা ড্র নির্ধারিত হয়। ফুটবল দলকে যদি একটা জাহাজের সঙ্গে তুলনা করা হয, তাহলে নিঃসন্দেহে সে জাহাজের ক্যাপ্টেন হচ্ছেন কোচ। শিপ ক্যাপ্টেন এবং ফুটবল কোচের মধ্যে আরেকটি মিল আছে। জাহাজডুবি হলে দায়ী করা হয় ক্যাপ্টেনকে, তেমনি দলের ভরাডুবি ঘটলে বা সাফল্য না ফেলে বলির পাঁঠা বানানো হয় কোচকেই! বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন এক যুগেও বেশি সময় ধরে দলটির দেখভাল করছেন। গত আট বছরে তার কোচিংয়েই জাতীয় বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল আটটি শিরোপা জিতেছে। সম্প্রতি তার কোচিংয়েই জাতীয় নারী দল ইতিহাসের প্রথম ও সেরা সাফল্য অর্জন করেছে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে। গ্রুপ পর্ব, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে তারা খেলেছে ৫ ম্যাচ। করেছে আসরের সর্বাধিক ২৩ গোল ও সর্বাধিক ২টি হ্যাটট্রিক রয়েছে। হজম করেছে সবচেয়ে কম ১ গোল! প্রথমবারের মতো পরাক্রম ভারত ও শক্তিশালী নেপালকে হারিয়েও গড়েছে ইতিহাস। চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, ফেয়ার প্লে ট্রফি, সর্বোচ্চ গোলদাতা (৮টি, সাবিনা খাতুন), টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (সাবিনা খাতুন), সেরা গোলরক্ষক (রূপনা চাকমা)... সব পুরস্কারও জিতেছে বাংলার বাঘিনী দল।
গোটা টুর্নামেন্টে লাল-সবুজ বাহিনীর খেলা ছিল নজরকাড়া। খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। তাদের নয়নাভিরাম নৈপুণ্যে বিমুগ্ধ ফুটবলপ্রেমীরা।

 

monarchmart
monarchmart