ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

চাপের মুখেও নিজেদের দক্ষতা দেখাতে চান হাসান

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১:০১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

চাপের মুখেও নিজেদের দক্ষতা দেখাতে চান হাসান

হাসান মাহমুদ

দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন জাতীয় দলে। জিম্বাবুইয়ের  বিপক্ষে দারুণ বোলিংও করেন। কিন্তু আবারও ইনজুরিতে পড়েন হাসান মাহমুদ।
ডানহাতি এই পেসার তাই খেলতে পারেননি এশিয়া কাপ টি২০ আসরে। তবে আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ঠাঁই করে নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এ পেসার। এখন নিজেকে পুরোপুরি ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছেন। আগামী মাসে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজের আগেই নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারবেন এমনটাই আশা তার এবং সবার। সাম্প্রতিক সময়ে টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থা বেশ শোচনীয়। হাসান মনে করছেন, চাপের মুখে ক্রিকেটাররা নিজেদের দক্ষতাটা দেখাতে পারেনি বলেই এমন হয়েছে। কিন্তু এবার সবাই যে কোন চাপেও নিজের দক্ষতা দেখাতে আত্মবিশ্বাসী। নিজের সেরাটাও দেয়ার প্রত্যয় এ তরুণের।
ছোট্ট আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কয়েকবার ইনজুরির ধাক্কায় বাধাগ্রস্ত হয়েছেন হাসান। এ কারণে ৫ ওয়ানডে ও ৩ টি২০ ম্যাচের বেশি খেলতে পারেননি। কিন্তু এই ইনজুরি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফাস্ট বোলারদের জন্য চোট জিনিসটা অনেকটা বন্ধুর মতো, এসে আবার চলে যায়। এটা নিয়ে কাজ করার মধ্যে থাকতে হবে অবশ্যই, ফিটনেস বলেন, বোলিং বলেন। সবকিছু মিলিয়ে এটা ধারাবাহিকতার ব্যাপার। সব সময় কাজের মধ্যে থাকলে এই জিনিসটা হয়তো হবে না।’

এখন সব ভুলে নিজের পারফর্ম্যান্সটা দেখাতে চান হাসান। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আগে জিম্বাবুইয়েতে যে সিরিজটা খেলেছি আলহামদুলিল্লাহ সেটা খেলে খুব আত্মবিশ্বাসী আমি। যেহেতু এখন বিশ্বকাপে আছি, নিজের সেরাটাই দিতে চাই ইনশাআল্লাহ। আসলে আমার আগে যেই পারফর্ম্যান্স দেখেছেন আপনারা জিম্বাবুইয়েতে সেটা নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি দলে থাকতে পারি। তো আমাকে উনারা (নির্বাচক) বিবেচনায় রেখেছেন সেজন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ।’ গত কয়েকটি সিরিজ এবং সর্বশেষ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের পেসাররা তেমন ভাল করতে পারেনি টি২০তে। প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা বাংলাদেশী পেসারদের করেছেন তুলোধুনো। যদিও এশিয়া কাপের শেষ ম্যাচ তাসকিন আহমেদ দারুণ বোলিং করেছেন।

এবাদত হোসেন শুরুতে ভাল করলেও ডেথ ওভারে এলোমেলো বোলিং করেন। সম্প্রতি ডেথ ওভারেই বাংলাদেশী পেসাররা ডুবিয়েছেন দলকে। এ বিষয়ে হাসান বলেন, ‘প্রত্যেকটা ফাস্ট বোলারই আমরা সক্ষম ডেথে বল করার জন্য। আমাদের মধ্যে সেই বিশ্বাসটা রাখতে হবে যে আমরা পারব। এই জিনিসটা নিয়ে সামনে আমরা কাজ করব অবশ্যই দুবাইতে আমাদের যে নতুন কোচ (শ্রীধরন শ্রীরাম) আছেন উনার সঙ্গে। অধিনায়ক যদি আমার ওপর ভরসা রাখে যে কোন সময়েই আনতে পারে। যে কোন দায়িত্বের জন্য আমি প্রস্তুত আছি।’
আগামী দেড় মাস টানা টি২০ ম্যাচের মধ্যে থাকবে বাংলাদেশ দল। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ করে ৭ অক্টোবর থেকে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং তারপরই বিশ্বকাপ। তাই নানা কন্ডিশনেই মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে হাসান বলেন, ‘যেই দেশের উইকেটই হোক একটা জায়গা থাকে উইকেটের, যেখানে হিট করতে পারলে যে কোন উইকেটেই ভাল করা সম্ভব। ওই জায়গাটাই আমাদের টার্গেট থাকবে।’

বিশ্বকাপ মঞ্চে ভিন্ন উত্তেজনা ও আমেজ থাকে। সেখানে বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা নিয়ে এ তরুণ বলেন, ‘আসলে যখন চাপের সময় আসে তখন হয়তো আমরা বেশি ভয় পেয়ে যাই আমাদের যেই মূল দক্ষতাটা তা হয়তো ভুলে যাই। যে কোন চাপের অবস্থাতেই সেই জিনিসটা আমাদের প্রয়োগ করতে হবে, শিখতে হবে।’