ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

১৮ বছর ধরে সাপের কামড় খেয়ে ব্যাক্তির শরীরে তৈরি "সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম" !

প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ৩ মে ২০২৫; আপডেট: ১৭:৩৬, ৩ মে ২০২৫

১৮ বছর ধরে সাপের কামড় খেয়ে ব্যাক্তির শরীরে তৈরি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টিম ফ্রিড নামের এক ব্যক্তি প্রায় দুই দশক ধরে নিজের শরীরে সাপের বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাঁর শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তা প্রাণঘাতী বিষ প্রতিরোধে ‘তুলনাহীন’ এবং এটি ভবিষ্যতের একটি সর্বজনীন অ্যান্টিভেনমের দিক দেখাতে পারে।

বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিটি বিষাক্ত সাপের জন্য আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করতে হয়। কিন্তু ফ্রিডের রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

প্রায় ১৮ বছর ধরে এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন টিম ফ্রিড। এই সময়ের মধ্যে তিনি ২০০ বারেরও বেশি সাপের কামড় সহ্য করেছেন এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে ৭০০ বারের বেশি শরীরে বিষ প্রবেশ করিয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত বিষের তালিকায় কেউটে, মাম্বার মতো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর সাপের বিষও ছিল।

প্রাথমিকভাবে ফ্রিড এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন সাপ ধরার সময় নিজের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড ভিডিও করে ইউটিউবেও প্রকাশ করেন তিনি। তবে শুরুটা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ—দুটি কেউটার কামড়ে তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

ফ্রিড বলেন, "আমি মরতে চাইনি, আমার আঙুল হারাতে চাইনি, এমনকি কাজটাও ছাড়তে চাইনি।" তিনি আরও বলেন, তাঁর এই প্রচেষ্টা মূলত তাদের জন্য, যারা সাপের কামড়ে প্রাণ হারায় বা পঙ্গুত্ব বরণ করে—যাদের অনেকেই তাঁর থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বাস করে।

বর্তমানে অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রচলিত পদ্ধতিতে ঘোড়ার মতো প্রাণীর শরীরে বিষ প্রয়োগ করে অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়। এরপর সেই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষের ধরন ও মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় একটি অ্যান্টিভেনম সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না।

এমনকি একই প্রজাতির সাপ হলেও অঞ্চলভেদে অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতায় ফারাক দেখা যায়। যেমন—ভারতে তৈরি অ্যান্টিভেনম শ্রীলঙ্কায় একই প্রজাতির সাপের কামড়ে খুব একটা কার্যকর নাও হতে পারে।

ফ্রিডের গবেষণা তাই ভবিষ্যতে একটি সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম তৈরির পথে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

আসিফ

×