ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

কিছু লোক রাজনীতিকদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা করছে ॥ কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:১৩, ২৩ জুন ২০২৪

কিছু লোক রাজনীতিকদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা করছে ॥ কাদের

ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের রাজনীতি এই দেশের মানুষের জন্য উল্লেখ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বার্তা হলো, নতুন প্রজন্মের উপযোগী বাংলাদেশ গড়া ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন। আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছিল, আছে ও থাকবে।
শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ ও ব্যর্থ প্রমাণ করতে কিছু মানুষ উঠেপড়ে লেগেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা কথা বলতে চাই, এক এগারোর সময়ে যেটা দেখেছি, সেটা হলো সুপরিকল্পিতভাবে দেশের রাজনীতিবিদদের নিন্দিত করা, কুৎসা রটানো। এ দেশ স্বাধীন করেছে, দেশের উন্নয়ন করছে রাজনীতিবিদেরা। এখন সেই রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে ও তাদের ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরতে কিছু লোক তৎপরতা চালাচ্ছে। আমরা সেটা বুঝি, এর বিরুদ্ধে প্রস্তুতও আছি।
এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনীতি করলে কি ব্যবসা করার অধিকার থাকবে না? রাজনীতিবিদরা চাঁদা তুলে ভাত খাবে? চাঁদা তুলে পরিবার চালাবে? ব্যবসা করলে তো আপত্তি নেই। সৎ ব্যবসা করলে আপত্তি নেই। অসৎ ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।
৭৫ বছরে আওয়ামী লীগের কোনো অপ্রাপ্তি রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপ্রাপ্তির বিষয় সেভাবে দেখছি না। প্রাপ্তির খাতা হিসাব করে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপ্রাপ্তিটা রাজনৈতিক। আমাদের অসমাপ্ত কাজ হলো, বিজয়কে সুসংহত করতে পারিনি। সাম্প্রদায়িকতা বিজয়কে সুসংহত করার পথে অন্তরায় হয়ে আছে। এই সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শক্তিকে পরাজিত করাই আমাদের বিজয়কে সুসংহত করবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকলে প্রস্তুত রয়েছে। শুক্রবার থেকে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বশ্রেষ্ঠ এ অর্জন, দেশের স্বাধীনতা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জন এ দেশের উন্নয়ন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আমরা প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন সম্পন্ন।

আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা আনন্দঘন, উৎসবমুখর হয়েছে। আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও স্বতঃস্ফূর্ত, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন উপস্থিতি হবে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বাঙালির জীবনে দুটি শ্রেষ্ঠ অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। 
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। আমরা মানুষের সঙ্গে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। এখন দলের অসমাপ্ত কাজ করা ও সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী শক্তিকে পরাজিত করে অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠন এবং দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনাই আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান লক্ষ্য। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
দেশের স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ উন্নয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির সবচেয়ে বড় দুটি অর্জন হচ্ছে, দেশের স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ উন্নয়ন। এই দুটিই এসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। তিনি বলেন, আমরা বিজয়কে এখনো সুসংহত করতে পারিনি, সাম্প্রদায়িকতা এখনো বিজয়ের প্রধান অন্তরায়। ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রদায়িক শক্তি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণ করার জন্য ও দেশের রাজনীতিবিদদের ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য একটি মহল ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিকল্পিতভাবে পাঁয়তারা করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও এসএম কামাল হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, কার্যনির্বাহী সদস্য আনিসুল ইসলাম, কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ প্রমুখ।

×