ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

জনসমাবেশে ড. মোশাররফ 

এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি 

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ২৭ মে ২০২৩

এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি 

নয়াপল্টনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ ১৫  জেলায় জনসমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিকেল ৩টায় জনসমাবেশ শুরু হলেও তার অনেক আগেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নয়াপল্টনে এসে জড়ো হতে থাকে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। 
ড. মোশাররফ বলেন, দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে গণঅভ্যুত্থানের কোনো বিকল্প নেই। জনগণ প্রস্তুত, তাই আমরা আশাবাদী অচিরেই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এ সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। তারা গায়ের জোরে আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিচ্ছে, আমাদের প্রতিটি কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের  পেটোয়া বাহিনী বাধা দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে বলে মন্তব্য করে ড. মোশাররফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন  দেশে প্রত্যাখ্যান হয়েছেন। আজ সারা পৃথিবীতে সবাই  জেনেছে, শেখ হাসিনার অধীনে একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। আওয়ামী লীগও ভালো করে জানে, জনগণ দিনের  বেলায় ভোট দিতে পারলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তিনি বলেন, এ সরকারের লোকেরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অর্থনীতি আর মেরামত করা সম্ভব নয়। আজ গরিব মানুষ না খেয়ে আছে, মধ্যবিত্ত গরিব হয়ে  গেছে।

ড. মোশাররফ বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাধা আওয়ামী লীগ। তাই আমেরিকা ঘোষণা দিয়েছে যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাধা দেবে আগামীতে আর তাদের ভিসা  দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে  কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়, বিদেশীরাও তাই মনে করছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি তুলেছে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনরত কোনো দল এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে গণতন্ত্র, দেশ ও জনগণ  কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। তারা উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর সেই নির্বাচনে ভোট দিয়ে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকতে বিদেশী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। ক্ষমতা থেকে সরে গেলে এ সরকারের সব অপকর্ম বের হবে। কোনো প্রভু তাদের বাঁচাতে পারবে না।
আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতিরোধ ভেঙে  ফেলতে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, যে সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘুমাতে দেয়নি তাদের সব কিছুর বিচার হবে। বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু মোকাবিলা করবে। জনগণই সব ব্যবস্থা নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  কোনো সভ্য দেশ আওয়ামী লীগ সরকারের লোকদের জায়গা দেবে না। 
মির্জা আব্বাস বলেন, আজ রাজপথে লাখ লাখ যুবক নেমে এসেছে, এ যুবকদের পদভারে শেখ হাসিনা সরকার বানের জলে ভেসে যাবে। তিনি বলেন, আমার এক পরিচিত সরকারি চাকরি করা লোককে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা দিচ্ছে না, পরে জানতে পারলাম সেই লোক সরকারের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, এ সরকার মাইনকার চিপায় পড়ে গেছেন, তাদের আর বাঁচা সুযোগ নেই। 
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দলের কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক প্রমুখ। 
আমাদের আন্দোলন অহিংস ॥ বি. বাড়িয়া সংবাদদাতা জানান , ১০ দফা দাবিতে জনসমাবেশ কর্মসূচি পালন করে জেলা বিএনপি। শহরের মৌড়াইল এলাকায় এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বি.বাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন অহিংস। আমরা বিশ^াস করি আওয়ামী লীগ জনবিরোধী দল হিসেবে নিজেদের চিহ্নিত করবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আশা করি বিপুল ভোটে আমরা জিতব। আর আওয়ামী লীগের অবস্থা কি হবে তা গাজীপুরের নির্বাচনেই দেখতে পেয়েছি। 
গাইবান্ধায় জনসমাবেশ ॥ গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান,  জেলা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসমাবেশ করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিকের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাহী কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবু, রংপুর বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল প্রমুখ। 
নোয়াখালীতে ৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ছয় নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে বিএনপির সমাবেশ ঘিরে শুক্রবার রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 
জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে সরকার হঠানো হবে- নজরুল: কিশোরগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ ভালো করে জানে জনগণ দিনের বেলায় ভোট দিতে পারলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এ জন্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায়। শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের রথখলা মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনরত কোনো দল এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেবে না। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে সরকার হঠানো হবে। 
বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে জনসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, এ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, রুহুল আমিন আকিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া প্রমুখ।

×