ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

নির্বিঘ্ন হোক ঈদযাত্রা

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ১৪ মার্চ ২০২৬

নির্বিঘ্ন হোক ঈদযাত্রা

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনযাত্রা। ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই রাজধানীর রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে উল্লেখ করে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঈদে শেষ মুহূর্তে ট্রেনের ছাদে বা অননুমোদিতভাবে যাত্রী ওঠার প্রবণতা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সত্যপ্রকাশের দায়বোধ থেকে বলা দরকার, আমরা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকে উৎসাহিত করি না। কিন্তু যান-স্বল্পতার বাস্তবতায় ঈদে মানুষ এমনভাবে ট্রেনে চড়েন যে, ট্রেনটাই যেন আড়ালে চলে যায় যাত্রীচাপের কারেণ। এক্ষেত্রে সাবধানতার বিকল্প নেই। 
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। এর ভেতরে রয়েছে অতিরিক্ত ট্রেন ও কোচ। বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদ উপলক্ষে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নিয়মিত ট্রেনে অতিরিক্ত যুক্ত করেছে ১৩৮টি কোচ। মহাসড়কে যানজট নিরসনে সর্বাত্মক চেষ্টা চলবে। ১৭-২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে (জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ব্যতীত)। এছাড়া ময়মনসিংহ-গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ওয়ানওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও নৌপুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি রোধের কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সড়কে চাঁদাবাজি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) সবসময় সক্রিয় থাকবে। ঈদের ৭ দিন আগে থেকে ৫ দিন পর পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা। থাকবে হেল্প ডেস্ক ও কন্ট্রোল রুম। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে সড়ক পরিবহনের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের ১৬১০৭ নম্বর অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যাবে। 
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নাড়ির টানে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা শুরুর কালে বরাবরের মতো এবারও আলোচনায় উঠে এসেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথখ্যাত ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস ও প্রস্তুতির কথা শোনানো হলেও সরজমিনে সড়কের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সাধারণ যাত্রীদের কপালে উদ্বেগের ভাঁজ ফেলতে বাধ্য। বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, ঢাকা থেকে বের হওয়ার মুখেই আশুলিয়া-বাইপাইল সড়কটি যাত্রীদের ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নেয়। এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বর্তমানে যে ৩০ মিনিটের পথ দেড় ঘণ্টায় পার হতে হচ্ছে, তা ঈদযাত্রার মহাস্রোতে কতটা চরম পর্যায় ধারণ করতে পারে, তা না বোঝার কোনো কারণ নেই। যদিও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিছু লেন খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন, তবু খানাখন্দ আর ধুলাবালুর ভোগান্তি রাতারাতি দূর করা অসম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা, শতভাগ বাধাবিঘ্ন উজিয়ে হয়তো ঈদে বাড়ি ফেরা সম্ভব হবে শেষ পর্যন্ত। এক্ষেত্রে বিড়ম্বনা ঝামেলা ঝঞ্ঝাট হ্রাসে সড়ক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে নিশ্চিয়ই।

প্যানেল/মো.

×