ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক  নতুন করে সামনে আসে। বাস্তবতা হচ্ছে, এই মরণঘাতী রোগগুলো নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। বছরের যে কোনো সময়ই প্রাণঘাতী রোগগুলো মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ১৪ মার্চ থেকে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আপনারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি শনিবার নিজ নিজ এলাকার বসতবাড়ি ও আশপাশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করুন। নিঃসন্দেহে এটি সময়োপযোগী, অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা মনে করি, শুধু আহ্বান জানালেই হবে না, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কঠোর সামাজিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও আবশ্যক। এ ধরনের কর্মসূচি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা কিংবা লোকদেখানো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। দেশে প্রায়ই দেখা যায়, বড় কোনো বিপর্যয় সামনে এলেই সাময়িকভাবে সচেতনতার জোয়ার ওঠে। কিন্তু কিছুদিন পরই তা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়। 
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রধান বাহক এডিস মশা। এ মশা জন্মায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে- ফুলের টব, পানির ড্রাম, ছাদের কোণ, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা যে কোনো পাত্রে জমে থাকা সামান্য পানিতে। পাত্রে মাত্র তিন দিন পানির উপস্থিতি থাকলেই সেখানে মশার বংশবিস্তার ঘটে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ ধরনের পরিবেশ তৈরির জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই। বাসা-বাড়ি, ছাদ কিংবা বাগানের আশপাশ পরিষ্কার না রেখে আমরা যেন নিজেরাই নিজেদের বিপদের বীজ বপন করে চলেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও যেন সেই পুরানো চিত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজ- সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই অভিযানের সাফল্য সম্ভব নয়। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও পৌর প্রশাসনের দায়িত্ব আবর্জনা অপসারণ করে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, যা তাদের বাধ্যতামূলক কর্তব্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত ও যত্রতত্র নগরায়ণ, ড্রেনেজ সমস্যা ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে দিনকে দিন। ফলে ডেঙ্গু এখন শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, বরং সারাদেশে ছড়িয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মহামারির ঝুঁকি অপেক্ষা করছে। 
ভুলে গেলে চলবে না, সব দায়িত্ব সরকারের নয়, নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা যতই উন্নত হোক, প্রাণহানি রোধ করা সব সময় সম্ভব হয় না। তাই সরকারের স্বাস্থ্যনীতি হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। এই নীতি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। প্রতিরোধই একমাত্র কার্যকর পথ। সেই প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো পরিচ্ছন্নতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে একটি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়, বরং নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে বজায় রাখতে হবে পরিচ্ছন্নতা। অন্যথায়, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে আমাদের সব প্রচেষ্টা কাগুজে স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

প্যানেল/মো.

×