ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

দিরাইয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ

রায়হান, দিরাই, সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:০৯, ১৪ মার্চ ২০২৬

দিরাইয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে দুই কোটি সতেরো লক্ষ টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দিরাই উপজেলার জগদল হতে মাটিয়াপুর সড়কের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জগদল থেকে মাটিয়াপুর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২২৪ মিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ পান এম এম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ ২ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, শুরু থেকে সড়ক উন্নয়ন কাজে চরম অনিয়ম চলছে। ঠিকাদার শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করছেন। সড়কের কাজে মাটি মিশ্রিত পাথর, নিম্ন মানের ইটের খোয়া, সঠিক মাপে সিমেন্টের ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ কারণে রাস্তাটির স্থায়িত্বকাল নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা আরও বলেন, ঠিকাদার রাস্তার কাজে অনিয়ম করছেন দিরাই এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। 

মাটিয়াপুর গ্রামের আব্দুর রহিম (মাস্টার) জানান, কাজের শুরু থেকে অনিয়ম করছেন ঠিকাদার। মাটি মিশ্রিত পাথর না ধুয়েই ব্যবহার করা হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও মাটি মিশ্রিত পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। সঠিক অনুপাতে সিমেন্টের ব্যবহার হচ্ছে না ও ঢালাইয়ের দুপাশের ইটের গাঁথুনিতে নতুন ইটের সাথে পুরাতন ইট ও ভাঙা ইটের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় কাজের কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। 

মাটিয়াপুর গ্রামের কালাম মিয়া জানান, সড়কে মানসম্মত কাজ হচ্ছে না। ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৪ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও ৩ ইঞ্চি ঢালাই হচ্ছে। আমরা মানসম্মত কাজ চাই।
জগদল গ্রামের কবির মিয়া জানান, এই সড়কটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ, এই সড়ক দিয়ে দুইটি ইউনিয়নের মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন ও কৃষকরা বৈশাখ মাসে চাপতির হাওরের ধান এই সড়ক দিয়ে পরিবহন করেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জিকু বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না, শিডিউল যেভাবে আছে, সেভাবেই কাজ হচ্ছে। তবে কাজের মধ্যে উনিশ-বিশ হতে পারে। এছাড়া উক্ত সড়কের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। 

স্থানীয় সাদ্দাম মিয়া জানান, সড়কের কাজে যত প্রকারের অনিয়ম করা সম্ভব তার সবটুকুই করছেন ঠিকাদার। অথচ বিষয়টি জেনেও কিছু বলছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সড়কের দুপাশে ইটের গাঁথুনিতে নতুন ইটের পাশাপাশি পুরাতন ইট এবং ভাঙা ইটের ব্যবহার করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে দিরাই এলজিইডি প্রকৌশলী ইফতেখার হুসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।

এম.কে

আরো পড়ুন  

×